
লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন ওরফে হোসেন আলী ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছে। একটি অনলাইন পোর্টালে তার এই ছবিটি ছাপা হয়েছে। ভাঙ্গাচুড়া চেহারা। অতি সাধারণ বাঙালি। তার মধ্যে ধর্মের ভাবগাম্ভির্যতাই বলি আর ধর্মীয় জীবন যাপনই বলি কোনটাই প্রতিফলিত হয় না। অন্যত্রও হামলাকারীদের দিকে তাকালেও এমনটাই দেখি। এরা খুব সামান্যই পড়াশোনা জানেন অথবা জানেন না। কিন্তু ধর্মীয় উগ্রতায় এরাই এগিয়ে থাকে।
আমার এলাকাতেও শুনেছি- একজন কথিত পীর নারীদের সন্তান হওয়ার চিকিৎসার ক্ষেত্রে অধর্মীয় রীতিতে তাদের উত্তেজক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণ করতেন/করাতেন। তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন দেশের ১৪/১৫ স্থানে তার স্ত্রী রয়েছে ১৪/১৫ জন। অথচ ইসলামে একসাথে ৪টির বেশি স্ত্রী রাখা অবৈধ। প্রতারণা আর ভণ্ডামী করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। অথচ ধর্মীয়ভাবে খুবই উগ্র। আরেকজন তীব্র উগ্রপন্থীর কথা শুনলাম- যিনি বহুবছর ধরেই লীভটুগেদার করে ফেঁসে গিয়ে সম্প্রতি মেয়েটিকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন। ইসলামে লীভটুগেদার করা জেনার কাজ, হারাম। আমাদের এলাকার একজন উগ্রপন্থী মাদক ব্যবসা করেন। তিনি তাবলীগজামাতীদের খাওয়ান, মসজিদের ছাদ করে দেন কিন্তু মাদক ব্যবসা ছাড়েন না। হুমায়ুন আজাদ স্যারের বিষয়ে আমার এলাকার একজন লোকই আমার কাছে কটূক্তি করে হুমকি দিয়েছিল- তিনিও ইসলামিক জীবন যাপন করতেন না। বহু অপরাধের সাথেই যুক্ত থাকতেন। একজন নারী ধর্ষককেও আমি চিনি, যিনি খুবই উগ্রপন্থী। আমার এক বন্ধু আমার সামনেই তাকে বলল, ‘আপনি এমন কাজ কিভাবে করলেন?’ সে অবলীলায় বলেছিল, ‘করার জিনিস করেছি!’ তিনিও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ।
লক্ষ লক্ষ অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের খবর কি তারা রাখে? ধর্মীয় কাজের বিনিময় গ্রহণকে আল্লাহ যে কোরআনে হারাম করেছে সেটা কি তারা জানে? তারা কি কখনো তাদের পীরকে প্রশ্ন করতে পারে যে, ‘আপনি আমাদের পথ দেখানোর নামে টাকা নেন তা কোরানের কোথায় লেখা আছে?’ সৌদী রাজপরিবারের নারী কেলেঙ্কারির কটি খবর তারা রাখে? তাদের দুর্নীতি লুটপাটের কতটি তথ্য জানে? কোন খবরই তারা রাখে না। যদি শুনে- ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটেছে তা যাচাই না করেই হামলে পড়ে। খুন করার জোশ এসে যায়। এক খুনে মানসিকতা!
গভীরভাবে ধর্ম জানা মানুষও অতটা উগ্র হয় না, মাঝে মধ্যে এরা যতটা উগ্র হয়ে উঠে। এ যেন সূর্যের চেয়ে বালি গরম। আমি বলি না- মোল্লা ওমর বা বিন লাদেন কম উগ্র ছিলেন। এমন না যে, আল জাওয়াহিরি বা আবু বকর আল বাগদাদী কম ভয়ঙ্কর ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের মুফতি হান্নান বা শায়খ আব্দুর রহমান কম ক্ষতিকর ছিলেন না। তাদের এই উগ্রতা অনেক আলেমও সমর্থন করেন না। তবে বহু পীরের বহু অনুসারীকেই দেখি তারা যতটা পীরভক্ত এবং যতটা উগ্র ততটা ধর্মীয় জীবন যাপন করেন না। স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মানুষ তাদের পরিবার থেকে বা সমাজ থেকে পাওয়া উগ্রবাদটাকেই ধারণ করেন সমাজকে নয়। তাদের মধ্যে উগ্রবাদ এতোটাই গভীরে প্রত্থিত থাকে যে মানুষকে হত্যার সময় হিতাহিত জ্ঞান রাখেন না- একেবারেই অন্ধ আশেকান হয়ে যান। আশেকান শব্দের অর্থ 'ভালোবাসার মানুষ'। তারা ভালবাসার জায়গাটায় এতোটাই অন্ধ হয়ে পড়েন যে, তাতে যে ভালবাসার মানুষের সর্বনাশ হয়ে যায় তাও মাথায় রাখতে পারেন না। মারাত্মক এক মব সাইকোলজি! এক ভয়ঙ্কর গণঅসুস্থতা!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



