
বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংগঠন জানিয়েছে দেশের বিবাহিত পুরুষদের ৮০ শতাংশ ‘মানসিক' নির্যাতনের শিকার। অনেকেই এসব বিষয় প্রকাশ করতে চান না সামাজিক লজ্জার ভয়ে। নিজেদের পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে তারা। তো জরিপটা কিসের ভিত্তিতে হল?
জরিপ করার একটা নিয়ম কানুনতো থাকবে। তারা দাবি করেছে, তাদের কাছে যে টেলিফোন আসে তার ভিত্তিতে। আমরা ধরলাম দেশে আনুমানিক ৫ কোটি বিবাহিত পুরুষ রয়েছে। এর ৮০ শতাংশ মানে ৪ কোটি। যদি ভূক্তভোগীরা ফোন করে তবে এই ৪ কোটি লোক ফোন করে যদি এমন দাবি করে তবেই তবেই হবে ৮০ শতাংশ নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তাহলে দৈনিক (৮ ঘন্টা করে ১ বছর) টেলিফোন করতে হবে ৩ লক্ষ ২৯ হাজার! অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ১১ টি ফোন রিসিভ করতে হবে। নইলে তারা নিজেরা র্যা নডম সেম্প্লিং করে জরিপ করতে পারে জরিপের নিয়ম মেনে। যদি ০.৩ শতাংশ পুরুষকেও বাছাই করে মত নেয় তবুও ১৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। শহর, গ্রাম, ধনী, মধ্যবিত্ত, গরীব, বয়স ইত্যাদি ভাগে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ করারও নিয়ম কানুন রয়েছে। পছন্দমতো নির্যাতিতদের কাছে গেলে হবে না। র্যা নডম বাছাই করে মোবাইল ফোনেও তথ্য নেয়া যায়।
বাংলাদেশ মেন‘স রাইটই ফাউন্ডেশন এসবের কিছুই করেনি। তাদের কাছে যে ফোন আসে তার ভিত্তিতে তারা এই দাবি করে বসেছে। কটি ফোন আসে? কজন তাদের ফোন নাম্বার জানে? তাদের নামইতো আগে শুনিনি। এটা খুবই হাস্যকর দাবি। হয়তো নিজেদের নাম প্রকাশের জন্য তারা এই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছুই নয়। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল খুবই গুরুত্ব দিয়ে এটি ছাপিয়েছে পুরুষতান্ত্রিক নষ্ট মানসিকতা থেকেই। নারীদের আরো নিপীড়নের মধ্যে রাখার জন্য এই তথ্য পুরুষরা ব্যবহার করবে। আবার একই মানসিকতার কিছু পুরুষও এই সংবাদটি ভাইরাল করার চেষ্টা করেছে। আর তাতে ওই তথাকথিত প্রতারকদের প্রতিষ্ঠানটির নামই ছড়ানোর উদ্দেশ্যই তারা সফল করে দিচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৭:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



