
শূকর গোরু দুইটি পশু
খাইতে বলেছেন যিশু
শুনে কেন মুসলমান হিন্দু পিছেতে হটায়
পাপ পুণ্যের কথা আমি কারে বা শুধাই।
এক দেশে যা পাপ গন্য অন্য দেশে পুণ্য তাই।
ধর্মের দোহাই দিয়ে কেউ গোরু খায় না, কেউ শূকর খায় না, কেউ কচ্ছপ খায় না, কেউ উট খায় না ... ... কিন্তু বিজ্ঞান দেখে শরীরের জন্য কোনটা কতটা ক্ষতিকর আর কতটা উপকারী।
আজকাল আবার ইস্কন জেগে উঠেছে, তারা নাকি সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী। ভাগ্যিস তারা সয়াবীজ, পনির, ডাল খেয়ে আমিষের অভাব কিছুটা পূরণ করে বলে বেঁচে যায়। এরপরেও বিপুল ঘাটতি থেকে যায় অবশ্যই। দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ এমনিতেই পৃথিবীর সবচেয়ে কম মাংস খাওয়া মানুষ। পুষ্টির অভাবেই এখানকার মানুষ খর্বকায়. ক্ষীণকায়। জাপানের মানুষ আগে খর্বকায় ছিল এখন উপযুক্ত পুষ্টিমানের খাবার খেয়ে তারা দীর্ঘদেহী হয়ে উঠছে। এটা চীনাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। চীনারাতো কুকুর, সাপ, কীটপতঙ্গ পর্যন্ত খেয়ে পুষ্টির অভাব পূরণ করেছে। কদিন আগে একজন একজন পরিচিত শিক্ষক বললেন, নিরামিশ খেলে শরীরে সৌম্যভাব আসে তাই তিনি আমিষ খান না। আমি জানি ওনি মাদকাসক্ত। ওনার মধ্যে সৌম্যভাব নয়, পুষ্টিহীনভাবটাই স্পষ্ট ছিল। কিছু মানুষ গোরু না খাওয়ার মধ্যেও বিজ্ঞান নিয়ে এসেছে, শূকর না খাওয়ার মধ্যেও বিজ্ঞান নিয়ে এসছে, মাংস না খাওয়ার মধ্যেও বিজ্ঞান নিয়ে এসেছে। এক বন্ধু কিছুদিন আগে বলেছিল, মাংস খেলে শরীরে পোকা হয়! আমি বলেছিলাম, আপনি ইস্কন করেন? সে অস্বীকার করেছিল বটে। পরে জানলাম, ইসকনের সাথে সংযোগ আছে। তবে এসব অবৈজ্ঞানিক কথা দিয়ে মানুষকে আরো বিভ্রান্ত করে প্রতারক ভণ্ডরা। যে প্রাণীর মাংস খেয়ে এক ধর্মের লোক দিব্যি সুস্থ সবল রয়েছে, তা খেয়ে অন্য ধর্মের মানুষের কোন ক্ষতি হবে না। বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণেই বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বিভিন্ন প্রাণী ভক্ষণ করে না। এসবে বিজ্ঞানভিত্তিটা দেখতে চাই।
সম্প্রতি ইসকনপন্থীদের কাছ থেকে শুনছি গ্রীন হাউজ এফেক্টের জন্য মূলত দায়ি নাকি ক্যাটেল ফার্মগুলো। সেখান থেকে উৎপাদিত কার্বন গ্যাসের কারণেই নাকি ফুটো হয়ে যাচ্ছে ওজন স্তর। ফলে পশুপাখি উৎপাদন বন্ধ করে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিলেই ওজন স্তরের ফুটো বন্ধ হবে। অথচ আমরা জেনে আসছি জীবাশ্ম জালানীর কথা। বর্তমান সময়ে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে ধরা হয় মানুষ সৃষ্ট গ্রীনহাউজ গ্যাসের ঘনত্বের বৃদ্ধি। জীবাশ্ম জ্বালানীর দহন, বন উজাড়, সিমেন্ট উৎপাদন ইত্যাদি দ্বারা কার্বন ডাই-অক্সাইডের উৎপাদন। শিল্প, পরিবহন, এয়ার কন্ডিশন করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, রান্নার জ্বালানী ইত্যাদিতে জীবাশ্ম জ্বালানী যেমন- প্রেট্রোল, ডিজেল, অকটেন, লুব্রিক্যান্ট, কয়লা, গ্যাস ইত্যাদির ব্যবহার। বায়ুমণ্ডলে অতিরিক্ত কার্বনডাই অক্সাইড বৃদ্ধির ৬৫% আসে জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে আর ৩৫% আসে বৃক্ষনিধন, বন উজাড়ের কারণে। ১৭৫০ সালের শিল্প বিপ্লবের পর থেকে বায়ুমণ্ডলে গ্রীনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই মাত্রা এখন আরো দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাহলে গোরু-ছাগলের বর্জ্যের ভূমিকা কি? সামান্য আছে। এতে বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাস বৃদ্ধি পায়। গ্রীনহাউজ গ্যাসের ৯৯% এর বেশি কার্বনডাইঅক্সাইড! যেখানে বায়ুমণ্ডলে ৪১৭ পিপিএম আছে কার্বনডাইঅক্সাইড আর মিথেন আছে মাত্র ১.৮ পিপিএম! মিথেন গ্যাস বৃদ্ধির কারণ যাবতীয় কৃষিকাজ, পশুপালন, বর্জ্য/পচনশীল বস্তু মাটিচাপা দেয়া ইত্যাদি। অথচ এই গ্রীনহাউজ এফেক্টের অজুহাত তুলে মাংস খাওয়া বন্ধের পক্ষে তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। এমনকি গোরুর নিশ্বাসের কারণে সৃষ্ট কার্বনডাইঅক্সাইডেও নাকি ওজন স্তুর ফুটো হয়ে যাচ্ছে! গোরুর জন্য যে ঘাস লাগানো হয় তাতেও যে অক্সিজেন তৈরি হয় সেটাও অন্তত বলতে পারে। যাবো কোথায়? ইউটিউবে ভুয়া প্রচারণার সীমা নাই।
গোরুর মাংসের বিরুদ্ধে প্রচারণাও অনেক। গোরুর মাংসে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি পুষ্টি উপাদন রয়েছে যথা- প্রোটিন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি টুয়েলভ, সেলেনিয়াম, ফসফরাস, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, আয়রন ও রিবোফ্লাভিন। প্রোটিন পেশি গঠন করে, জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের শক্তি বাড়ায, আয়রণ শরীরের পেশিতে অক্সিজেন প্রবাহে সহায়তা করে, ভিটামিন বি টুয়েলভ খাদ্য থেকে শক্তি যোগান দেয় ইত্যাদি। উচ্চ প্রোটিন থাকায় ডাক্তারগণ কম খেতে বলে। দৈনিক ৮৫ গ্রামের বেশি গোরুর মাংস না খাওয়ার কথা বলা হয়। হিন্দুরা যেমন গোরুর মাংসের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য প্রচার করে আবার মুসলিমরাও একইভাবে শূকরের মাংসের বিরুদ্ধে প্রচার করে। মুসলিম ও ইহুদীরা শূকরের মাংস খায় না। বাকিরা কমবেশি খায়। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় ৮০% মানুষ শূকরের মাংস খায়। বাংলাদেশের পত্রপত্রিকাগুলো অনবরত শূকর সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য প্রচার করে। lifehealthdoctor.com এ বলা হয়েছে শূকরের মাংস উচ্চ গুণমানের প্রোটিনের সেরা খাদ্য উৎসগুলোর মধ্যে একটি।স্যাচুরেটেড ফ্যাট শুকরের মাংসের তুলনায় গরুর মাংসে বেশি থাকে। ফার্মে পালিত গরু-শূকরের মাংসে কৃমি থাকে না, তাই ওগুলো খাওয়া নিরাপদ। কচ্ছপ বিপন্ন প্রাণি বলে খাওয়ার পক্ষে বলতে পারি না তবে বিজ্ঞান এর মধ্যে ক্ষতিকর কিছু পায়নি। বিভিন্ন ধর্মে বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন প্রাণির মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। ধর্মের অনুসারীরা সাধারণত তা মেনে খাওয়া থেকে বিরত থাকে। অনেকের রুচি হয় না। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এমন নিষিদ্ধের কারণে মানুষও ভূগেছে পুষ্টিহীনতায়।
বি.দ্র.: প্রথম পাঁচটি লাইন লালনের গান থেকে নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



