
সংযুক্ত আরব আমিরাত লিভ টুগেদারকে বৈধতা দিয়ে আইন পাশ করায় হইচই হচ্ছে মুসলিম বিশ্বে। এখন আরব আমিরাতে বিয়ে না করে স্বামী-স্ত্রীর মতো একসাথে থাকা তথা লিভ টুগেদার বৈধ। ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত নারী-পুরুষ একসঙ্গে বসবাসের ক্ষেত্রে জবাবদিহির মধ্যে পড়তে হবে না। মুসলিম বিশ্বে এই প্রথম হলেও এমনটা বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। ম্যারাডোনা বা রোনাল্ডো দীর্ঘকাল লিভ টুগেদার করেছেন, তাদের সন্তানও হয়েছে। বাংলাদেশে ম্যারাডোনা ও ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর অসংখ্য ফ্যান রয়েছে। তারাও তাদের এসব নিয়ে মাথা ঘামায় বলে মনে হয় না। এমনকি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অর্ডান মুসলিম বিশ্বে খুবই সম্মানিত- তিনিও লিভ টুগেদার করছেন। তাদেরও একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। উন্নত বিশ্বে ছেলে-মেয়েরা অহরহই লীভটুগেদার করেন। মেয়েদের বয়স ১৮ হলেই তারা শারিরীক চাহিদা মেটাতে লীভটুগেদার করতে পারেন পছন্দের ছেলের সাথে। এগুলোকে খুবই স্বাভাবিক চোখে দেখা হয়। উল্টো যদি কারো বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড না থাকে তবেই পিতা-মাতা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট লিভ-টুগেদার সম্পর্কের বিষয়ে বেশ কয়েক বছর আগে এমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন- বিয়ের বন্ধন নেই, তবু এক ছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে অনেক দিন ধরে বসবাস, এমন সম্পর্কের বেলায় সন্তান হলে তা বৈধ। একই সঙ্গে ওই জুটি পাবে স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা। বাংলাদেশের সংবিধানে শুধু নয় বাংলাদেশের সকল আইনেই লিভ টুগেদার বৈধ নয় বরং অপরাধ। দন্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৪৯৭ ধারার অপরাধকে লিভ টুগেদার বা ব্যাবিচার আপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি ৭ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা। তবে এই আপরাধে অপরাধী হয় পুরুষ। পুলিশ তাদের গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াও গ্রেফতার করে দন্ডবিধি ২৯০ ধারার অধীনে। আমরা দেখেছি নিউমার্কেটে স্ত্রীর কাপড় পছন্দ হওয়ায় স্বামী চুমু দেয়ায় দোকানদারগণ তাদের নাজেহাল করে পুলিশে তুলে দেয়। পত্রিকাগুলোও লিভ টুগেদারকে অসামাজিক কার্যক্রম বলে বর্ণনা করে উপস্থাপন করে এবং এই গ্রেফতারকে খুবই সাপোর্ট করে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা প্রকাশিত হলে, মেয়েটি পুলিশের আশ্রয় নিলে থানাকে অনেক ক্ষেত্রেই বিয়ের ব্যবস্থায় সহযোগিতা করতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি বগুড়ার একজুটির ক্ষেত্রেও এমনটা পত্রিকায় দেখেছি।
বাংলাদেশে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অনেক খবরই আলোচিত হয়েছে। কয়েকজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও এমনটা শোনা গিয়েছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর লিভ টুগেদার নিয়ে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা কম প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তাতে ধারণা করা যায়, আইনে যাই থাক এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন অনেকেই। বিদেশে পড়তে গিয়েও অনেকেই লিভ টুগেদার করেন। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার না করলেও তারা বন্ধুদের লিভ টুগেদারের কাহিনী প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে যৌন সম্পর্কের বিষয় গোপন রাখা হয়। এমনকি সিনেমাতেও এমন সম্পর্কটা দেখা যায় না। অবশ্য ফারুকীর সিনেমা ‘থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার’-এ এমনটা দেখা গিয়েছিল। সাধারণত এদেশে নাটক, উপন্যাসেও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখানো হয় না। ভারতীয় সিনেমার খ্যাতিমান অভিনেতা দীপঙ্কর দে ও অভিনেত্রী দোলন রায় সুদীর্ঘ ২২ বছর লিভ টুগেদার শেষে এবছর বিয়ে করলেন । পশ্চিমবঙ্গে লীভটুগেদারের কথা বাংলাদেশের চেয়ে অধিক শোনা যায়। লীভ টুগেদারের একটি বিষয় থাকে আর তা হল দুজনের সম্মতি ও পছন্দ। আমাদের বিয়েগুলোতে প্রায়ই মেয়েটিকে অপরিচিত কোন ছেলেকে কবুল বলতে হয়। মেয়েরা সাধারণত ক্ষমতাহীন থাকায় তারা যত কষ্ট ও নিপীড়নের মধ্যেও থাকুক না কেন তাদের মেনে নিতেই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



