
ইহকালের দুর্ভোগ হচ্ছে নিয়তি এবং এর বিপরীতে শ্রেষ্ঠ প্রতিদান পাবে পরকালে। নির্যাতিতদের এমন মনোভাব কর্তৃত্ববাদী শক্তির অবস্থান সুদৃঢ় করে দেয়। এটা এমন এক ভয়ঙ্কর ভাবাদর্শ যা গরীবদের চিরকাল গরীব করে রাখে। তারা আত্মতৃপ্তি লাভ করে ভাবে, ইহকালে কিছু না পেলেও পরকালে তাদের জন্য সৌভাগ্য অপেক্ষা করছে। এমনটা আমরা দেখি মিশরের ফারাও সভ্যতার সময়েও। তখন শ্রমিকদের বলা হতো, ওই দূর পাহাড়ের ঐপারে মৃত্যুর পরে তারা জেগে উঠবে এবং যারা নিরলশভাবে কাজ করবে তারা মৃত্যর পরে অনন্তকাল পোলাও ও পায়েস খেতে পাবে। শ্রমিকরা সেই আশায় নিরলশভাবে কাজ করে যেতো। সেই শ্রমে-ঘামে গড়ে উঠেছিল মিশরীয় সভ্যতা। এই ধারণার কঠোর বাস্তবায়ন দেখি রোমান সাম্রাজ্যে দাসবিদ্রোহ দমনে। আজও গরীবদের সে কথাই শেখানো হয়।
আমাদের এলাকার এক ধনী পরিবারের সদস্য আমাকে বলেছিল, ধনী হওয়ার উচ্চাকাংঙ্ক্ষাই মানুষকে ধনী করে দেয়। তুমি সময় পেলেই গুলশান-বনানীতে যাবে। ধনীদের দেখবে এবং নিজের ভিতরে ধনী হওয়ার বাসনা রাখবে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছিলেন, দরিদ্র মানুষ ধনী হওয়ার বাসনা রাখে না বলেই তারা গরীব থেকে যায়। দরিদ্র মানুষ কর্তৃক ধনী পরিবারের সম্পদ আগলে রাখার বহু উদাহরণ রয়েছে। চাইলে তারা ছিনিয়ে নিয়ে ধনী হতে পারতো। অবশ্য আইন আবার দরিদ্রদের ধরে এনে শাস্তি দিতে খুবই পারঙ্গম। আর পি.কে. হালদারদের টিকিটিও আইন ধরতে পারে না। আমার এক ধনী সহপাঠী প্রায়ই বলতো, ‘গরীবরা ইচ্ছা করেই গরীব থাকে। এটা হল দরিদ্রবিলাস!’ আমার ওই বন্ধুটির পিতাও একসময় খুব গরীব ছিল এবং তার ধনী হওয়ার গল্প আমাদের জানা আছে। ওভাবে চাইলে অনেক গরীবই ধনী হতে পারতো।
সবচেয়ে পীড়াদায়ক হল, গরীবরাও বুঝে নিয়েছে তাদের গরীব থাকতেই হবে। গরীব থাকলে পরকালে হিসাব দিতে হবে না। ইহকালে তাই নিপীড়িত থাকো, নিগৃহিত থাকো কিন্তু মুখটা বন্ধ রাখ আর চোখ তুলে তাকিও না। যদি এভাবে শুধু শ্রম দিয়ে সভ্যতা গড়ে তুলতে পারো তবেই তোমাদের মহিমাকীর্ত্তন করা হবে। যদি অধিকারের কথা বল, শ্রমের মূল্যের কথা বল তবে কিন্তু রেহাই দিবে না। যদি অধিক নিপীড়ন হতো তবে সম্ভাবনা থাকতো বিদ্রোহের। দরিদ্র মানুষদের এমন এক ভাবাদর্শ গড়ে দেয়া হয়েছে যে তারা- বঞ্চিত হয়েও খুশি, লাঞ্ছিত হয়েও খুশি! তারা ধরে নেয় সবই কপাল লিখন- খণ্ডানো যাবে না। তাদের এই ভুল ভাবাদর্শ বদলে দিতে পারতো- হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, মঞ্জুরুল আহসান খানেরা.. ..। কিন্তু আলহাজ্ব ইনু, আলহাজ্ব মেনন, আলহাজ্ব মঞ্জু ভাইরা শ্রমিকদের সেই ফারাও রাজাদের, সেই রোমান সম্রাটদের দেখানো পথই শেখায়। তাদেরও গরীব লোকইতো দরকার- বিপ্লবের জন্য, মিছিলের জন্য, আন্দোলনের জন্য, নুর হোসেন হওয়ার জন্য, প্রাণ দেয়ার জন্য...।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



