
কলকাতায় ডিরোজিও যখন আধুনিক বিজ্ঞানমনস্কতা ও দর্শনে তার ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করেন তখন তরুণদের মধ্যে একটি আলোড়ন তৈরি হয়। ডিরোজিওর চাকরি চলে গেলে এবং তার মৃত্যু হলেও কলকাতায় তাদের কর্মকাণ্ড থেমে যায় নি। এরই প্রেক্ষাপটে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কারের কাজ করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। সমাজ পরিবর্তনে কাজ করেন অক্ষয় কুমার দত্ত ও মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ অনেকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন শাস্ত্র দিয়ে শাস্ত্রের সংস্কার ও দেশাচারকে ঘায়েল করছেন তখন ইয়াং জেনারেশন আরো এক ধাপ এগিয়ে মৌলবাদীদের রুখে দেয়ার জন্য ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তারা প্রকাশ্যে গোমাংস ভক্ষণের মতো ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে থাকেন। ভারতে বিধবাবিবাহ আইন চালু হয়, বহুবিবাহ ও বালবিবাহের বিরুদ্ধেও মতাদর্শ গড়ে উঠে। তার আগেই বন্ধ হয়েছিল সহমরণ। অর্থাৎ একটা জাগরণ শুরু হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও একটা জাগরণ দেখছি। ভাস্কর্য ভাঙ্গার বিরুদ্ধে সারাদেশেই একটা প্রতিরোধ গড়ে উঠে। উগ্রপন্থীরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। কদিন আগে রাজশাহীতে অপাবলিক প্লেসে ধুমপান করায় এক তরুণীকে নারী বলে হেনস্ত করে কতিপয় মৌলবাদী।আজ দেখলাম তারই প্রতিবাদে ১০/১২ জন তরুণ তরুণী ওই স্থানে মিলিত হয়ে আড্ডা দিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তারা বলেছেন ধুমপানকে উৎসাহিত করতে নয়, ওই তরুণীকে হেনস্তা করার প্রতিবাদেই তারা জড়ো হয়েছেন। আমি নিজেও ধুমপান করি না তবে বুঝি পাবলিক প্লেস নয় এমন স্থানে ধুমপান যেহেতু অপরাধ নয় তাই কেউ ধুমপান করলে কেউ বাধাও দিতে পারে না। অথচ মেয়েটি শুধু নারী বলেই অনুভূতিপ্রবণ কতিপয় প্রতিক্রিয়াশীল মেয়েটিকে হেনস্তা করেছে। খুবই বীরপুরুষ ভাব নিয়েই হেনস্তা করেছে। এর একটি প্রতিবাদ দেখতে মন চাচ্ছিল। আজ সেটা দেখে মুগ্ধ হলাম। এই ছোট প্রতিবাদই ভূমিকা রাখবে বখাটেদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


