somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিঃসাড় , নির্জীব একজন মানুষ

১২ ই মে, ২০১১ রাত ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবার কি সত্যি নাকি ?? ---- নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলাম অজান্তে । প্রস্তাব দিতে সাহস পাচ্ছি না । কিন্তু সবসময় কেন জানি মনে হয় , পাগলিটা সবই জানে । আমাকে পছন্দও করে । কিন্তু আমাকে কষ্ট দিয়ে তার যে অনেক মজা লাগে এ কারণে মন খুলে কিছুই বলে না । আমাদের পাশের বাসায় থাকে পাগলিটা । খুব ছোটবেলা থেকেই । কিন্তু কোনদিন ওর দিকে তেমন করে খেয়াল করিনি । প্রয়োজনও পড়েনি । ছোটবেলা থেকেই ওর আর আমার মাঝে তুই-তোকারি সম্পর্ক । ওর বাসায় আমার যাতায়াত প্রায় প্রতিদিনই । আবার সেও আমার বাসায় প্রায়ই আসে । তবে পাগলিটা আমার সমবয়সী না । আমার চেয়ে এক বছরের ছোট । ওই দেখো , তখন থেকে ওকে খালি পাগলি পাগলি করছি । এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অনুভুতি । তবে উপরে থাকা আল্লাহ্‌ তায়ালার অশেষ রহমতে ওর একটা সুন্দর নামও আছে । রুমকি । আমি হেলাল । এবার ম্যাট্রিক পরীক্ষায় কোয়ালিফাই হয়ে সবে আমাদের বাড়ির পাশের এক কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি । তবে রেজাল্ট কী , তা না বলাই ভালো । রুমকি এবার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবে । আমার চেয়ে সে অনেক অনেক ভালো ছাত্রী । আমি নিশ্চিত সে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পাবে । আমি এ বিষয়ে ওকে ভীষণ খেপাই পড়ুয়া পাগলি বলে । কিন্তু ও যেন এসব কথা কানেই তোলে না । আমি আবার ভাই অনেক প্রেম পাগল মানুষ । এককথায় প্রেমপেয়াসী , প্রেমের জন্য বুভুক্ষ , কাঙ্গাল । যেই আমাকে প্রেমের সহিত , ভালবাসার সহিত কথা বলে তাকেই আমি পছন্দ করি । এ কারণে আমার প্রেমিকার অভাব হয় না ।বে বিশেষভাবে বলা বাহল্য সবই একতরফা মানে ইংরেজিতে ওয়ান সাইটেড লাভ । আমি ভালবাসি কিন্তু আমাকে কেউ ভালবাসে না । কিন্তু এবার ভিন্ন কেস । আমি সত্যি সত্যি একান্তভাবে পাগলিটাকে ভালবেসে ফেলেছি । ওকে আমার চাই চাই । একবারে সিনেমার ডায়ালগের মত , রুমকি তোকে না পেলে আমি সুইসাইড খেয়ে আত্মহত্যা করবো ।

রুমকির সামনে ম্যাট্রিক পরীক্ষা । ওর ভালোর জন্যই ওর সাথে দেখা করা কমিয়ে দিয়েছি । তাই ওর সাথে অনেকদিন দেখা হয়না । মাঝে আমার পরাশুনার একটু বেগ বেড়েছে । মানে বেগ বাড়াতে একরকম বাধ্য হয়েছি । বাবা যা বকেন । বড্ড ভয় লাগে তাকে । থাকনা , বাবাই তো । ভালোই তো চান আমার । কিন্তু তিনি তো জানেন না রুমকিকে না দেখে আমার দিন কীভাবে কেটেছে । প্রতিটি মুহূর্ত এক একেকটি বছরের মত লেগেছে আমার কাছে । তবে আজ অপেক্ষার পালা শেষ । প্রায় একমাস পর আজ পাগলিটার সাথে দেখা করবো । কলেজের প্রতিটি মুহূর্তে আমার বেখেয়ালি খুব একটা কারও নজরে আসেনি । এ ক্ষেত্রে বড্ড বাঁচা বেঁচে গেছি । কলেজ থেকে সাইকেলে বাসায় আসার প্রতিটি মুহূর্ত আমার আনন্দে নেচে উঠার মত জোগাড় । বাসায় পৌঁছেই কোনরকমে ড্রেস চেঞ্জ করে ওর বাসার উদ্দেশ্যে দৌড় লাগালাম । পিছন থেকে মা ডাকছে কিছু খেয়ে যাওয়ার জন্য । আমার আর কী ওদিকে মনোযোগ আছে ??

ওর বাসার সামনে পৌঁছে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম । বাসায় তালা ঝুলছে । সেই মুহূর্তে আমার অবস্থা যে কী তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না । দ্রুতই আবার বাসায় ফিরে এলাম । এখনো মোবাইল নেইনি । তাই মায়ের মোবাইল নিয়ে রুমকির বাবার মোবাইলে ফোন দিলাম । কিছুক্ষণ রিং হতেই ও পাশ থেকে আওয়াজ এলো , হ্যালো । বিধ্বস্ত আওয়াজ । আমার বুকের গভীরে মনের অজান্তেই ধুঁক করে উঠলো । আমি তবুও আমার সকল অনুভূতি গোপন করে বললাম , হ্যালো , আংকেল , ভালো আছেন ?? আন্টি আর রুমকি কেমন আছে ?? আপনারা বাসায় নেই । আমি আপনাদের বাসায় গিয়েছিলাম । কিন্তু বাসায় তালা ঝুলছিল । তাই মনে হলো ফোন করে আপনাকে জিজ্ঞেস করি সব ভালো আছে তো ?? একনাগাড়ে সব কথা বলে ফেললাম । হঠাৎ করে নিজেকে অনেক নার্ভাস লাগছে । নার্ভাস না বলে দুশ্চিন্তা বলা ভালো । এরপর আংকেল যা বললো তার কথার সারমর্ম হলো আংকেল , আন্টি এবং রুমকি গ্রামের বাসায় যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে । দুর্ঘটনায় আন্টি মারাত্তক ভাবে আহত হয়েছেন । এখন হাসপাতালের আই সি ইউ ইউনিটে ভর্তি । আংকেল মোটামুটি অরক্ষিত আছেন । রুমকির ডানহাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । ডাক্তার বলেছে হাতটি কেটে ফেলতে হবে ।

আমার হাত থেকে মোবাইল ফোনটা নীচে ছিটকে পড়লো । ওপাশ থেকে হ্যালো হ্যালো আওয়াজ আসছে । কিন্তু আমার শরীরের সব অঙ্গ হঠাৎ যেন একসাথে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে । এ মুহূর্তে আমি একজন নিঃসাড় , নির্জীব একটি প্রাণী , একজন মানুষ ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১১ রাত ৯:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ চোরের উপরে বাটপারি!!!!!

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



টুং করে একটা নোটিফিকেশান আসলো।

ফাৎনার নড়াচড়া দেখে বুঝলাম, বড়শিতে একটা 'ব্রাউন ফিস' ধরা পড়েছে। এখন টেনে তোলার আগে খানিকটা খেলতে হবে। মৎস্য শিকারীরা জানে, এই কাজটা খুবই রোমাঞ্চকর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×