somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুগল্প ; ম্যাজিক

১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি: জেমিনি
ঘ্রাণে পুরো ঘরটা মউ মউ করছে। ঘ্রাণ শুঁকেই তপু অনুমান করতে পারে, আজ খাবার প্রচন্ড সুস্বাদু হয়েছে। তার তখনই পেটে মোচড় দিয়ে ক্ষুধা লাগলো। তার আর তর সইছে না। মা কখন খেতে ডাকবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। অল্প কিছুক্ষণ পরেই তার সেই কাঙ্ক্ষিত ডাক এলো।

পরিবারের সকলে খেতে বসেছে। মা সবাইকে খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। তপু গিয়ে তার বড় ভাইয়ের পাশের চেয়ারে বসলো। মা আজ কয়েক পদের খাবার রান্না করেছেন। প্রতিটা পদই সুস্বাদু হয়েছে। সবাই খুব তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে। সকলে মায়ের রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তপুও খুব তৃপ্তি নিয়ে পেট ভরে খাচ্ছে।সে খেতে খুব পছন্দ করে। আজকের পদগুলোর মধ্যে মুরগির কোর্মাটা সবচেয়ে ভালো হয়েছে।সে তিন-চার টুকরো মাংস খেয়ে নিয়েছে এর মধ্যে। তার আরো দুই-এক পিস খেতে ইচ্ছা করলো।কিন্তু টেবিলের উপরে রাখা কোর্মার বাটিটার দিকে তাকাতেই তার মুখটা বেদনার্ত হয়ে উঠল।বাটি ফাঁকা। ভেতরে কিছুই নেই।

এরকম ব্যাপার তার সঙ্গে আগেও ঘটেছে। খেতে বসে একটা জিনিস খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু জিনিসটা সামনে নেই। শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সেসময় করুণ চোখে মায়ের দিকে তাকালেই মায়ের চামচে কোত্থেকে যেন এরকম দু এক টুকরো খাবার উঠে আসে।এ ব্যাপারটা কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে তার কোন ধারণাই নেই।তার সব সময় মনে হয় তার মা বোধহয় ম্যাজিক জানে। নইলে খালি বাটি থেকে খাবার কীভাবে বের হয়!! তাই আজকেও আশান্বিত হয়ে করুন চোখে তার মায়ের দিকে তাকালো সে। তার মা তাকে আশাহত করেননি। তপু তাকানো মাত্রই তিনি বুঝতে পারলেন তপু কী চায়! একটু পরে তার চামচে উঠে আসলো দুই টুকরো মুরগির মাংস।মায়ের ম্যাজিকে অভিভূত হয়ে গেল সে। পরম তৃপ্তি নিয়ে খাবার শেষ করলো তপু।তার মা আজকেও ম্যাজিক দেখাবেন এ ব্যাপারে সে নিশ্চিত ছিল। তবে খালি বাটি থেকে কীভাবে দু টুকরো মাংস বের হয়ে এলো তা তপুর জন্য এক দুর্ভেদ্য রহস্য হিসেবেই থেকে গেল ।

সবার খাওয়া শেষে মা খেতে বসলেন। তার প্লেটের দিকে কেউ তাকালো না। তপুও না। তিনি নিজের মতো করে খেয়ে উঠে গেলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:০৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুবাই কি দুর্নীতিবাজদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কয়েক বছর আগে, কানাডার বেগম পাড়ার কথা ব্যারিস্টার সুমন ভাই বেশ ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশী দূর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠেছিলো কানাডার ঐ অঞ্চল। আজ পুসিলশের সাবেক প্রধান বেনজির দুবাইয়ে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৪



সম্প্রতি আদ্ব দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারকগণ রায় দিয়েছেন “আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না”।




...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×