somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

“Victim Card” খেলা ন্যায় না কি অন্যায়!

১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি একজন ভুক্তভোগী বা অন্যায় ভাবে আমার সাথে কিছু করা হচ্ছে যখন এই ভূমিকায় নিজেকে কেউ প্রমাণ করার জন্য যে তাসের কার্ড(যে কার্ড তাসে নেই) বেছে নেয় তাকে আমি ভিক্টিম কার্ড প্লেয়ার বলবো। মূলত, এই ধরণের মানুষগুলো ক্রমাগত নিজেকে দরিদ্র, অসহায়, দূর্বল এবং আপেক্ষিক ভাবে কম বুদ্ধি সম্পন্ন বা মেধাশূন্য হয়েও বলবেন, “মেধা থাকা সত্ত্বেও হেরে গেলাম”। সত্যি বলতে আমাদের চারপাশে এই ধরণের মানুষের অভাব নেই। কেউ কেউ বেশ সুক্ষ্ম অভিনেতার পরিচয় দিয়ে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এটি সনাক্ত করা আরো কঠিন। সুতরাং প্রকৃত অর্থে কে ভুক্তভোগী এবং কে ভিক্টিম কার্ড খেলছেন এদের মধ্যে পার্থক্য করা বেশ শক্ত। অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব প্রায় বিশেষ করে যাদের অভিনয় টম হ্যাঙ্কস কেও পিছিয়ে রাখে।

কেন একজন “ভিক্টিম কার্ড” খেলে থাকেন?

♦ প্রথমত, ব্যক্তি তার দিকে অন্যদের আগ্রহ বা দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এমনটি করতে পারেন। কারণ, খুব সম্ভবত আমরা কম বেশি সবাই এমন কিছু পরিবার থেকে বড় হয়েছি যারা আমাদেরকে সবসময় বা প্রতিনিয়ত তাদের ব্যর্থতার জন্য অন্যদের দোষ দিয়ে গেছেন। ফলে অচেতন মনে এই ভঙ্গিমার একটি ছাপ থেকে যায় এবং পরবর্তি সময়ে যখন আমরা নিজের ব্যর্থতাকে আর অন্য কোন রাস্তায় ঢাকতে পারি না তখন এই কার্ড ছুঁড়ে দেই পরিবার/সমাজ/রাষ্ট্রের প্রতি। এমনকি খুব গুরুত্বপূর্ন বা সেন্সিটিভ সম্পর্কগুলোতেও এমনটি ঘটে।

ধরুন, এক সন্ধ্যায় দুই বন্ধু এক রেস্টুরেন্টে খেতে বসেছে। একজন তার অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট অন্যদিকে আরেকজন তার অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মুখটা ভার করে আছে ফলে রেজাল্ট আসবে রেস্টুরেন্টের সব বিল প্রথম বন্ধু দিয়ে দিবে।

ধরুন, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের হাত কেটে আত্মহত্যার কেউ হুমকি দিতে পারে। সেটা কিন্তু প্রেমিক/প্রেমিকা উভয়ের ক্ষেত্রেই এমন ঘটতে পারে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, উপরোক্ত দুই ঘটনা সত্য-ও হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এটি এমন এক ধরণের কূট-কৌশল যে এটা নিয়ে খুল্লাম খুল্লা আলোচনা কতটুকু উচিত জানিনা। কিন্তু প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি।

♦ দ্বিতীয়ত, কারো কারো “victim syndrome or a victim complex” নামে মানসিক রোগ থেকে থাকে। ফলে এই ব্যক্তি রয়্যালটি(আক্ষরিক অর্থে) তো দূর প্রতিনিয়ত এমন এক স্বভাব দেখাবে যে আপনার মনে হতে পারে পৃথিবীতে যত দরিদ্র, অসহায়, দূর্বল ও আপেক্ষিক ভাবে কম যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি আছেন ইনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি। এই ধরণের মানুষ সারাটাদিন বা প্রতিনিয়ত নিজেকে এভাবেই সবার সামনে পেশ করবে। উল্লেখ্য, এমন মানুষ বাস্তবে আছে, তাই নির্বাচনে ভুল হলে আমাদের জাজমেন্টাল গালি দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ভণিতা করা ঐ মানুষ যে কার্ড খেলছেন আপনার সাথে সেটাই “ভিক্টিম কার্ড”।

♦ Being a Victim vs Self Pity vs Victim Mentality নিয়ে আরো কিছু কথাঃ

আমি কেন সর্বদা ভিক্টিম প্লেয়ার হিসাবে নিজেকে বেছে নেব? কারণ, ক্রমাগত ভিক্টিম কার্ড প্লেয়িং অভিনয়ে আসলে অনেক সুবিধা থাকতে পারে। যেমন ধরুন,
১। আপনার কোনও জিনিসের দায়-দায়িত্ব থাকবে না।
২। আপনার কাছে অভিযোগ করার এবং মনোযোগ পাওয়ার “অধিকার” থাকবে।
৩। অন্যরা আপনার জন্য দুঃখিত অনুভব করবে এবং আপনার প্রতি মনোযোগী হবেন।
৪। লোকের আপনাকে সমালোচনা বা বিরক্ত করার সম্ভাবনা কম থাকবে।
৫। অন্যরা আপনাকে সাহায্য করতে বাধ্য হয় এবং আপনি যা চান তা করতে বাধ্য হন।
৬। আপনার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি এবং সেসব যেহেতু আকর্ষণীয় বলে মনে হচ্ছে বা হবে তাই আপনি আপনার এই গল্পগুলি বলার জন্য ভালো শ্রোতা পাবেন।
৭। অন্যদের অনুভূতি দেখে বিরক্ত হওয়ার কোনও সময় নেই আপনার হাতে কারণ আপনার জীবনে যেহেতু এত নাটক ঘটেছে।
৮। আপনি দুঃখিত এবং বিচলিত হওয়ার কারণে খুব ব্যস্ত থাকায় আপনি কখনও রাগ বোধ করতে পারবেন না।

ক্রমাগত ভিক্টিম অভিনয়ে আসলে অনেক সুবিধা থাকতে পারে। এগুলি আপনি যদি উপরের বিবৃতিগুলি দেখেন তবে ইতোমধ্যে আপনি ভিক্টিম হওয়ার আসল উপকারগুলি কী হতে পারে তার প্যাটার্নটি বুঝতে পেরেছেন। এসব হলো,
(ক) মনোযোগ আকর্ষণ
(খ) মূল্যবান বোধ করা
(গ) শক্তি

কিছু সাহায্য পেলামঃ Click This Link

যেহেতু আপনি ক্ষতিগ্রস্থদের ভূমিকায় অভিনয়ে পরিপক্ক তাই বাকিরা আপনার জন্য “সরি” অনুভব করবে। আর এখানেই ট্রিক লুকিয়ে আছে উক্ত ব্যক্তি কে ম্যানিপুলেট করার। ছোট থেকে বড় সব কাজে তখন সেই ব্যক্তিগুলো সাহায্যে লেগে পড়বে। কারণ আপনি দরিদ্র, অসহায় ও দূর্বল। তাই তারা আপনার জন্য সিগারেট খরচ থেকে শুরু করে চাকুরী পর্যন্ত জোগান দিয়ে দিতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ সাইকোলজির এই খেলাটি খেলতে পারেন বা এটাও ন্যায় যখন সেটা আপেক্ষিক ভাবে খারাপ কিছুর চেয়ে ভালো। আর অন্যায় হলো, মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলা করা। এজন্য সমাজে অরাজকতা বাড়বে। এবং একদিন ঠিকই আপনার মুখোশ খুলে যাবে। আর নগ্ন সেই চেহারা দেখতে হবে বিভৎস।

ছবিঃ ROTTENeCards


ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাকরির বন্যা আসার আগেই চাকরির বাজারে খরা!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬



জুলাইয়ের পর বলা হয়েছিল দেশে নাকি চাকরির বন্যা বয়ে যাবে। অর্থনীতি ঘুরে দাড়াবে, ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাবো। ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিও হবে।

দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থানের অবস্থা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Movie-Obsession(2026)

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বিশিদবার রাতে খুব বাজে আর একটা ছিনেমা দেখলাম। ভাই-রে ভাই কি বলবো, ঐ রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই। মানে দেখার পর থেকে এখনো গা শিরশির করছে। চোখ বন্ধ করলেও চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×