somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মি. বিকেল
আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

প্রিয়তমা তোমার জন্য

১৯ শে জুন, ২০২১ রাত ১০:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকাতেই বাহিরের ঘর-বাড়ি আর গাছপালার বৃষ্টি স্নান দৃশ্য সুজন কে মনে করিয়ে দেয়, পেছনে ফেলে আসা পুরনো কিছু স্মৃতি। যে ট্রেন চলেছে শহর অবধি, যে ট্রেন চলেছে পুরনো সংসারে সেই ট্রেনে অপেক্ষমাণ সুজনকে পুরনো স্মৃতি এসে হানা দিচ্ছে।


আচ্ছা, আমাদের যা ছিলো বা আছে তা শুধু মাত্র অতীতের হাতে! ভবিষ্যতের জন্য বুঝি কিছুই বাকি নেই? হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।


ইতি এর কথা আজকাল খুব মনে পড়ছে। আচ্ছা, সুজনের জীবনে এর চেয়ে ভালো কোনো স্মৃতি কি আর কখনো আসবে না? অথবা এমন কোনো সবুজ আসবে না? যে সবুজ ফেলে আসা অতীতের কাছে ম্লান হয়ে যাবে না।


এই শহরে ওদের অনেক স্মৃতি। একসাথে ফুচকা খাওয়া, রেস্টুরেন্টে কফির আড্ডা, রিক্সায় ভিজতে বের হওয়া এই সমস্ত কিছু ছাপিয়ে আর কেউ কি নতুন কিছু উপহার দিতে পারবে না?


হয়তো পারবে, নয়তো পারবে না। কিন্তু যে মানুষটার জায়গা একবার হৃদয়ে সৃষ্টি হয় তা মেটানো সহজ নয়। অথবা সে জায়গায় অন্য কাউকে বসানো। সুজনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা হয়তো ভিন্ন নয়।


কিন্তু ওর আফসোস, "যা সবুজ, যা রঙীন, তা সহজেই হারিয়ে যায়"। মানে রঙীন যে কোনো কিছুরই রঙ বদলায়। খুব দ্রুত বদলায়। সুতরাং দিনশেষে আরো একজন রঙীন কেউ আসলে তার রুপ পরিবর্তন হবে না এমন চিন্তা করাটা অন্যায়।


ইতি বেশ বাস্তবধর্মী একজন মেয়ে। কতদিন কথা হয় না, দেখা হয় না, কিন্তু তার ফেসবুক প্রোফাইলের টাইমলাইন কি জীবন্ত। সবকিছু কত ঠিকঠাক ভাবে চলছে। প্রাণবন্ত, আর সুজন অসাড় হয়ে পড়ে আছে।


এখনো নিয়মিত পরিবারের যত্ন নিয়ে যাচ্ছে, পড়াশোনাটা চালিয়ে যাচ্ছে। ওর মত মেয়ের জন্য এই শহর বেশ বেকায়দার। এখানে এত মতলবি মানুষজন আছেন যে, তারা স্রেফ তার দেহ চায়। কিন্তু সুজন ব্যতিক্রম, ইতির জানার কথা।


শেষ যেদিন ওদের দেখা হয়েছিলো, সেদিনও বাচ্চাদের মত বোতল নিয়ে খেলা করছিলো মেয়েটা। আর সুজনের দিকে তাকিয়ে ছিলো। মানে সুজনের উপস্থিত থাকাটা ইতির কাছে খুব জরুরী, এমনকি তখন কথা বলারও প্রয়োজন পড়ে না।


তারপর পৃথিবী অসুস্থ হয়ে পড়ে। দুজনে আবার আলাদা আলাদা রাস্তায় হাঁটতে শুরু করে। কিন্তু সুজনের মনে হতে থাকে, এই দুরত্ব কয়েক আলোকবর্ষের দূরত্ব।


ম্যাসেঞ্জারে নতুন একটি মেসেজ,


"আচ্ছা, সুজন। আজ থেকে দশ বছর পরেও আমাদের গল্পটি কি একই রকম থাকবে? তুমি ভুলে যাবে, আমিও। তাই না?"


সুজন সেদিন বুঝে গেছিলো, যে গল্পের বীজ দুজনে মিলে কোনো একদিন সুস্থ শহরে বোপণ করা হয়েছিলো আজ তা আগাছা দিয়ে ঢেকে গেছে।


কিছুক্ষণ চুপ থেকে সুজন উত্তর দিলো, "দশবছর পর আমি বা তুমি বেঁচে থাকবো তো? আজ আছি দুজনে একসাথে। এই থাকাটা জরুরী"।


সুজন নিজেকে এখন অপরাধী মনে করে। ইতির সাথে অন্যায় করেছে সে। মুক্ত পাখি কখনো কখনো এত সুন্দর হয় যে, আমাদের ইচ্ছে করে তাকে খাঁচায় বন্দি করে রাখি। যাতে আজীবন তাকে কাছে থেকে দেখতে পারি। কিন্তু মুক্ত পাখি আকাশে বেশ মানায়, খাঁচায় নয়। তাই হয়তো সুজন একসময় সব ছেড়ে দিয়েছিলো।


দীর্ঘদিন ওদের মধ্যে কথা হয় না আর। একদিন সুজনের রেজাল্ট বের হলো আর সাথে কিছু সফলতার গল্প। ভাগাভাগি করার মত শুধু সুজনের কাছে তখন ইতি ছিলো।


তাড়াহুড়ো করে ফোন দিয়ে এসব জানাতে গিয়ে বুঝতে পারলো, বেশ দেরি হয়ে গেছে। ইতির কন্ঠ কান্নাভেজা। শুধু বললো, "জেনে খুব আনন্দিত হলাম। কিন্তু এতদিন পর কেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে ব্লক করে দেওয়া হলো কেন? সঠিকটা বলবে?"


সুজনের এমনিতেই নিজেকে মতলববাজ মনে হচ্ছিলো। তার উপর এমন প্রশ্নে বিদ্ধ হয়ে বেশ হড়কে গেল। বুঝানোর চেষ্টাও করলো ইতিকে। কিন্তু ইতি সত্যিটা ঠিকই ধরতে পেরেছিলো সেদিন।


আসলে অসুস্থ সমাজে আর দারিদ্রতার কারাগারে ওদের মত মানুষদের অনেক কিছুই ভোগ করতে হয়। ইতি আর সেধে এসে কিছুই বললো না। আর কোনদিন বলবে কি না! সেটাও সুজনের আজও অজানা। শুধু মনে হলো, ইতি তার দিক থেকে এই গল্পের ইতি টানলো।


শুধু সুজনের ভালো করে বলা হলো না, ইতি তুমি আমার সর্বশেষ গল্প। এরপর আর হয়তো গল্প লেখা হবে না। প্লিজ! থেকে যাও না। একা হাঁটতে চলেছি। খুব কষ্ট হবে জানো। তুমি অন্য কাউকে নির্ণয় কেন করলে? অঙ্কটা এখনো বাকি থেকে গেলো।


এসব ভাবতে ভাবতে একসময় সুজনের চোখে জল চলে আসলো। নেমে পড়লো সেই পুরনো অসুস্থ শহরে। আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে ওর।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২১ রাত ১০:০৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×