somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'একজন তুস্কা এবং কয়েকটি কবিতা'

০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই করিসটা কি?
- কিছুনা ।
ফেসবুকে তোর
ছবি দেখি নতুন আপ্লোড
করছিস যেগুলা ।
- হুমম্, আমাকে সুন্দর
লাগছেনা ছবিতে?
…
- নাহ্, ভূতনির মত
লাগছে একদম । কিন্তু
তোর চোখগুলা আসলেই
টানে । তুই
সবসময় কাজল দিস?
- হু আমার চোখে কাজল
দেয়া ফরজ । যেদিন
দেখবি আমার
চোখে কাজল নাই
তাইলে
বুঝবি একটা গরমিল
হইছে ।
- মারহাবা আমার
কাজলা বান্ধবী ।
- চুপ কর । এই
কবিতা শুনবি?
- শোনা ।
-ওকে ফাইন,ওয়েট ।
তুমি লহ নাই
ভালবাসিবার দায়
দুহাতে শুধুই
কুড়িয়েছো ঝরা ফুল
কৃষ্ণচূড়ার
তলে বসে আমি একা
বুনিয়াছি প্রেম
ঘৃণা বুনিবার ছলে
-সুন্দর, তুস্কা দোস্ত
আমার, ইতু নক
করছে পরে কথা বলি,
বাই ।
চ্যাট
মেসেজটা পড়ে তুস্কা
ল্যাপটপটা পাশে
রেখে বুকশেল্ফের
কাছে দাড়ালো
।লাল মলাটের বইটার
১৮৬ পৃষ্ঠা বের
করে পড়তে লাগলো
“অনেক দূরের
মানুষকে ভাবি কাছে,
এমন কিছুটা অপরাধ
আজো আছে ;
বুকের পাশের
সত্যকে ভাবি, নেই ।”
২.
আমি খুুব অবাক
হয়ে তুস্কার হাওয়াই
মিঠাই
খাওয়া দেখছি।
বাচ্চাদের মত
হাতমুখ
মাখিয়ে খাচ্ছে,
নিষ্পাপ লাগছে খুব ।
আজ আমার
সিলেটে যাওয়ার কথা
১৫দিনের জন্য, প্রধান
কারণ ইতু আর
এম্নিতে আত্মীয়
স্বজনের বাসায়
ঘোরাঘুরি
আর কি । ইতুর
সাথে ২মাস পর
দেখা হবে, তাই একটু
এক্সাইটেড ।
মাঝে মাঝে
আমার আফসোস
হয় লং ডিসট্যান্স
প্রেমের জন্য,কেন যে ইতু
সিলেট থাকে !
তুস্কা পাশে এসে
বসলো,তুস্কার
চুলগুলো খোলা, তবুও ওর
মাঝে কিসের যেনো
একটা অভাব আমি ঠিক
বুঝে উঠতে পারিনা ।
আমি
টিস্যুটা বাড়িয়ে দিলাম
তুস্কার
দিকে,তুস্কা মুখ
মুছতে মুছতে বললো,
- তোর ট্রেন কত লেট
করবে?
- ক্যান তোর কি বিরক্ত
লাগছে তুস্কি ?
চাইলে আরো কয়েকটা
হাওয়াই মিঠাই
কিনে দেই ।
- দরকার নাই, ১৫টা দিন
ইতুর সাথে খুব
ভালো কাটবে তাইনা
?
- দোস্ত
প্লিজ,এক্সাইটমেন্টের
ঠেলায় আমি মইরাই
যাব, আর মনে করায়
দিসনা ।
- ওকে ফাইন, তোর ট্রেন
আসছে এবার
যেতে পারিস । এই
বলে তুস্কা হাসলো ।
আমি ট্রেনে আয়েশ
করে বসার একটু পরেই
ছেড়ে দিল ট্রেনটা ।
ওর ফোনের
মেসেজটোন
বেজে উঠলো ।
তুস্কা মেসেজ
দিয়েছে…
“দুটি গোলাপই
তুমি দিয়ে বসে আছো ,
আমার কবরে তুমি কোন
গোলাপটা দিবে? “
হঠাত্ আমি
একটা ব্যাপার
ভেবে ধাক্কা খেলাম,
তুস্কার চোখে আজ
কাজল
ছিলোনা । সেই
কারণে আজ
ওকে এতটা অন্যরকম
লাগছিলো । আমি দ্রুত কল
দিলাম,
সুইচড্ অফ ।
ভেতরটা অস্থিরতায়
ভরে গেলো….. আসলেই
কি কিছু গরমিল
হয়েছে?
৩.
ধীরপায়ে নিজের
রুমে ঢুকে দরজাটা
লাগিয়ে দিল তুস্কা।
ল্যাপটপটায় প্রিয়
গানটা
ছেড়ে ড্রেসিং
টেবিলটার
সামনে দাড়িয়ে
চোখে গাঢ় করে কাজল
টানলো । কিছুক্ষণ
পর চোখের জলে কাজল
ছড়িয়ে গেলো তুস্কার
। ল্যাপটপে তখনো
বেজেই চলছে….
And the bright emptiness
In a room full of it
Is a cruel mistress
I feel this unrest
That nest all hollowness
For I have nowhere to go in
the cold
And I’m so lonely
There’s a better place than
this
Emptiness…….
৪.
জার্নি করে এসেই
আমি বিছানায়
পড়ে দিয়েছে লম্বা ঘুম
। ইতুর সাথে এ
কয়েকটা দিন অসাধারণ
কেটেছে আমার, ও অনেক
খুশি ।
সন্ধ্যাবেলা ঘুম
থেকে ওঠার পর
মা এসে আমাকে একটা
পার্সেল
দিয়ে গেলো ।
পার্সেল
দেখে কিছুটা অবাক
কারণ আমার কাছে এসব
পাঠানোর কেউ নেই ।
একমগ কফি
নিয়ে ধীরে ধীরে
প্যাকেটটা খুলতে
লাগলাম। প্যাকেট
থেকে বের
হয়ে আসলো লাল
মলাটের একটি বই ।
নির্মলেন্দু গুণের
প্রকৃতি ও প্রেমের
কবিতা । বইটা
দেখে আমি বেশ অবাক
হলাম কারণ ও
কবিতাটবিতা খুব
একটা পড়ে না । চেস্ট
অব
ড্রয়ারে বইটা রাখতে
যাব বইয়ের ফাক
থেকে ভাজ
করা কাগজটা মেঝেতে
পড়লো ।
তুলে নিয়ে পড়া শুরু
করলাম……
“ভূত,
মৌসুমী ভৌমিকের ঐ
গানটা শুনেছিস?
আমার কিছু কথা ছিল,
তোমায় বলার কেবল
তোমায়
যেই না আমি ঠোঁট
নেড়েছি,সেই
কথাটা তলিয়ে গেলো
…..
তোর
সামনে আসলে বরাবরই
এই অবস্থা হয় । ভূত,
আমি সবকথা খুব
সহজে বলতে
পারি তবুও
কেনো জানি তোকে
ভালবাসি কথাটা বলা
হয়নি । তুই অবাক
হয়ে যাবি
জানি কিন্তু
আমি ভালবাসতে বড্ড
ভয় পেতাম । সেই কোন
ছেলেবেলায় শুনেছি
বামপাশে থাকা হৃদয়ে
এক ছোট্ট বিবর জানার
পর মনে হয়েছিল
কাউকে ভালবাসার
সম্পূর্ণ অধিকারটুকু
হারিয়ে ফেলেছি ।
মনে হত,ঐ ছোট ছিদ্র
দিয়ে কারো প্রতি
অপরিমেয় ভালবাসাও
চুইয়ে পড়ে একসময়
নিঃশেষ হয়ে যাবে ।
তবুও এক শীতের রাতে
তোর হাত ধরে রিকশায়
পাশাপাশি আসতে
আসতে তোকে সাহস
করে ভালোবেসে
ফেললাম ।
কেনো এমন হল বলতো?
আমি তো কখনো তা
চাইনি ।
প্রতিদিন
তোকে কবিতা দিয়ে
বলতাম
তোকে আমি ভীষন
ভালোবাসি, তুই
সেগুলো
নিছক
কবিতা ভেবে উড়িয়ে
দিলি অথচ
প্রতিটা শব্দে আমার
অনুভূতি জড়িয়ে ছিল ।
আমি হয়তো ক্ষুদ্র হৃদয়ের
সাহস
নিয়ে তোকে বলতাম
সবই, কিন্তু তোর সমস্ত
সত্তা জুড়ে তখন ইতু ।
তোকে তখন
একটা কবিতা
পাঠিয়েছিলাম
মনে আছে?
আমার মাঝে আপন
যে জন সে- ই
সঁপেছে অন্যেতে মন।
তোমায় কভু
চাইনা ভুলে তাই ।
তোমার মাঝে যেটুকু
নাই সেটুকু চাই…..
আমি বিশ্বাস করতাম তুই
আমার
চোখে তাকালে স্পষ্ট
বুঝতে পারবি আমি
তোকে
কতটা ভালবাসি
। কিন্তু সবকিছু তোর
চোখ
থেকে এড়িয়ে গেছে
এমনকি
আমাদের শেষ
দেখাতেও তুই
আমাকে বুঝিসনাই ।
পচলে যাচ্ছি,
অপারেশন অনেক আগেই
হওয়ার কথা এবার সব
কনফার্ম হলো । আমিও
নিশ্চিত ছিলাম অনেক
ব্যাপারে যে তুই আমার
হবিনা,আমি ফিরবো
না এসব । যাক
গে, তুই ইতুর
সাথে দেখা করার
ব্যাপারে এতটাই
এক্সাইটেড
ছিলি যে তোকে
জানাইনি আর । সবকিছু
গুছিয়ে চলে যাওয়া
অথবা তোর কাছ
থেকে পলায়ন । তুই
নিশ্চয়ই ‘পলাতকার
প্রতি’
কবিতাটা আমাকে
উত্সর্গ করবি না?
লিখতে ক্লান্ত
লাগছে,
আমি ক্ষণজন্মা তাই
আমি তোকে আমার
বলে দাবি
করিনি কখনো ।
সত্যি বলছি তোকে
ভালোবেসে এক
পূর্ণতা পেয়েছি আমি,
জানি আর
ফিরে আসবোনা ।
একটা কবিতা বলি,
‘এই নাম এত প্রিয় হবে,
এত কান্নাময় হবে,
কে জানতো?
এই জন্ম এত পূর্ণ হবে,
এত প্রিয়ময় হবে,
কে জানতো?’
তোকে,তোকে,তোকে,
তোকে, তোকে,
ভীষন
ভালবাসি তোকে
ভীষন…..
তোরই
- তুস্কা“
চিঠিটা ভাঁজ
করে রেখে বইটা খুলে
কবিতা চোখে পড়লো,
‘ভুলগুলিকে নিজের
ভাবি,তাই ভুলিনা,
বেদনা পাই তোমার
পরবাসে…’
আমি ঐ মাথা নিচু
করে বসে রইলাম চুপচাপ ।
আর মনে তুস্কার প্রতি ভালোবাসা প্রত্যাবর্তন করত এভাবেই,
" কোন একদিন তোর ঠোঁটের লিপস্টিক নষ্ট করতাম হয়তবা,
কিন্তু চোখের কাজল নয়"।


০৯.০১.১৫
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×