somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাদকঃ যুব সমাজ ধ্বংসের অন্তরায়

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাদক একটি মরণব্যাধীর নাম।যার শুরুটা হয় খুব ভাল দিয়ে আর শেষ যার কোন ব্যাখ্যাইনেই।আমরা নিজেকে আধুনিক ও অতি উজ্জ্বলভাবে সকলের কাছে পেশ করার জন্যই মাদক গ্রহণ করে থাকি।কিন্তু নিজেরাই জানিনা সমাজ বা রাষ্ট্রের কত বড় ক্ষতিকরছি।মাদক সেবনের মাধ্যমে একদিকে যেরুপ অর্থের অপচয় করছি,অপরদিকে সমাজের পরিবেশ করছি দূষণ।যার ফলশ্রুতিতে সমাজে নেমে আসছে ঘোর অন্ধকার।অনাগত ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে হুমকির মুখে।মাদকের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের তরুন সমাজ।বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে।বন্ধুদের কাছে স্মার্টআর আধুনিকতার জন্যই জড়িয়ে পড়ছে তারা। আর এদেরকে ব্যবহার করে ফল ভোগ করছে সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ।আর ধ্বংস হচ্ছে আমাদের যুব সমাজ।মাদকের প্রথম শুরু হয় সিগারেটের মাধ্যমে।এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৭.৫% সিগারেটের মাধ্যমে এই জগতে আসে।আর বাংলাদেশ সংবিধান অনুসারে প্রকাশে কোন প্রকার মাদক গ্রহণ,বেচা কেনা,পরিবহণ ওবিজ্ঞাপন দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।কিন্তু দেশের সকল দোকানে বিশেষ করে গ্রামের দোকানগুলোতে বিশেষ আকর্ষণ করে সিগারেটের বিজ্ঞাপণ দেওয়া হয়।তাছাড়া যখন সিগারেট কোম্পানিগুলোর সিগারেট বিক্রি কমে যায়,তখন তারা বিশেষউপহারের ব্যবস্থা করে থাকে।যাতে করে আরো বেশী পরিমাণ সিগারেট বিক্রি হয়।খারাপ বন্ধুদের সাথে চলাফেরা করা,মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা,আইন থাকলেও তা যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা না থাকা,রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও বহুবিধ কারণ রয়েছে।সবচেয়ে আক্রান্তের শুরুটা হয় ১৬-২০ বছর বয়সে এসময়ে তারা স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ পায়।ফলে নিজের গন্ডির বাহিরেও অনেকের সাথে মেশার সুযোগ হয়।আর এই চলাফেরার মাঝেই নিজেদের অজান্তেই মাদক ঢুকে পড়ে।যার শেষ পরিণতি হয় খুব ভয়াবহ।প্রতি বছরই ২৬ শে জুন আমরা খুব ঘটা করে ‘মাদক’ বিরোধী আন্দোলন করে থাকি।এসময় মঞ্চে শুনা যায় হাজারো নীতিবাণ কথা।কিন্ত মঞ্চ থেকে নেমেই আমরা যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।এদিকে আর কোন খেয়াল থাকে না।তাহলে কি লাভ হল ঐ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখার। তাহলে কি আমাদের দায়িত্ব ঐ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখাটাই কি শেষ।শুধু সভা আর সেমিনারে বক্তব্য রাখলেই চলবেনা।আমাদের উচিত মাদক যেভাবে বন্ধ হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া।আর একাজ শুরু করতে হবে নিজেদের পরিবার থেকে।আমাদের ছেলে-মেয়ে কিংবা ছোট ভাই-বোনদের প্রতি খেয়াল রাখা।তারা কোথায় যায়,কি করে,কাদের সাথে মিলামেশা করে তার প্রতি নজর রাখা।আবার এক্ষেত্রে আমাদের যেন বাড়াবাড়ি না হয়ে যায়। তাহলে হিতে বিপরীতও হতে পারে।আর যাদের মাঝে মাদক প্রবেশ করেছে,তাদের অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করে তাদের বুঝানোর চেষ্টা করা।পাশাপাশি তারা যেন আর মাদক গ্রহণ না করে তার ব্যবস্থা করা।এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কাজ হল তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া।তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়া,তাদের সকল কথা গুলো মন দিয়ে শুনা ইত্যাদি।আর একাজে আমরা সফল হলেই সমাজ থেকে আমরা মাদক দ্রব্য দূর করতে পারব।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×