somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুক্তমনা ব্লগার
আমি বিশ্বাসী, কিন্তু মনের দরজা খুলে রাখাতে বিশ্বাস করি। জীবনে সবথেকে বড় অনুচিত কাজ হল মনের দরজা বন্ধ রাখা। আমি যা জানি সেটাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা…এটাই অজ্ঞানতার জন্ম দেয়।

কোথায় চলেছে দেশের সমকামী সম্প্রদায়?

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদিও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমান, সমঅধিকার ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার ঘোষণা করেছে তারপরও এদেশের সমকামি সম্প্রদায় প্রতিনিয়ত নির্যাতন, অবহেলা ও প্রতিক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সমকামিতা একটি গুরুতর ফৌজদারী অপরাধ, সমলিঙ্গীয় বিবাহ ও লিঙ্গ পরিবর্তন করা আইনতভাবে অবৈধ এবং পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে সমকামি ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে কোন আইনগত সুরক্ষা নেই।

সমগ্র বিশ্বের ৭২টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ একটি অন্যতম রাষ্ট্র যেখানে এই একাবিংশ শতাব্দিতেও সমকামিতাকে ফৌজদারী আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গন্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় কোন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কোন পুরুষ, নারী বা পশু প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সঙ্গম করে, তবে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে, অথবা বর্ণনা অনুযায়ী নির্দিষ্টকালের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে যা দশ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে, এবং এর সাথে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও দিতে হবে।

বিশ্বের যে ৭৫ টি রাষ্ট্রে এখনো সমকামিতা ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে তার অধিকাংশ রাষ্ট্রই এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। যাদের মধ্যে অর্ধেক এর বেশি আবার কমন ওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্র। অন্যদিকে বিশ্বের যে নয়টি রাষ্ট্রে সমলিঙ্গীয় বিবাহ বৈধ এবং সমকামী ব্যক্তির অধিকার অনেক বেশী নিশ্চিত তার অধিকাংশ উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত।

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সমকামি অধিকারের বিরুদ্ধে যে ৫৯টি রাষ্ট্র অবস্থান গ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম রাষ্ট্র। যদিও বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে হিজরাদের নারী পুরুষের বাহিরে পৃথক লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দক্ষিন এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এপর্যন্ত শুধুমাত্র ভারতে সমকামি সম্প্রদায়ের ব্যক্তি তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। ২০০১ সালে কিছু সমকামী সংগঠন দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাকে ( যা বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার অনুরূপ) চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট যেকোন সাবালক ব্যক্তির গোপনেকৃত স্বেচ্ছায় অব্যনিজ্যিক যৌন সঙ্গমের বিরুদ্ধে বিদ্যমান সকল আইনগত বিধি-বিধান অবৈধ বলে ঘোষণা করে। এত কিছুর পরও কিন্তু ২০১৩ সালে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের উল্লেখিত রায় বাতিল বলে ঘোষণা করে।

কিছু কিছু সমকামী অধিকারকর্মী ও সংগঠন লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের জন্য গোপনে এবং সময়ে সমেয়ে খুব অল্প পরিসরে ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এখনো পর্যন্ত কোন সংগঠন বা ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ তাদের আইনগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়নি এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার মত কোন উদ্যোগও দৃশ্যমান নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে সমকামী ব্যক্তি ও সমকামি অধিকারকর্মীদের উপর ইসলামী মৌলবাদীদের আক্রমন এবং সরকারের নজরদারী ও আইনগত নিপীড়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় সমকামী ব্যক্তি ও সমকামি অধিকারকর্মীরা দিনে দিনে অদৃশ্য থেকে অদৃশ্যতর হয়ে যাচ্ছে। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশের এভাবে অদৃশ্যমান হয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতাদর্শ, লিঙ্গীয় বৈচিত্র ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সরকারের উচিত আদৃশ্যমান হতে যাওয়া সমকামী সম্প্রদায়ের অইনগত স্বীকৃতি প্রদান করে তাদের আইনগত সুরক্ষা প্রদান করা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:৫৪
৭টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×