somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুক্তমনা ব্লগার
আমি বিশ্বাসী, কিন্তু মনের দরজা খুলে রাখাতে বিশ্বাস করি। জীবনে সবথেকে বড় অনুচিত কাজ হল মনের দরজা বন্ধ রাখা। আমি যা জানি সেটাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা…এটাই অজ্ঞানতার জন্ম দেয়।

আমাদের দাঁড়িয়ে থাকা

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভিজিৎ, রাজন, খাদিজা, রিশাসহ নানান সহিংসতার ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে আমাদের দেশে ঘটে গেছে। কিন্তু এ ঘটনাগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট হলো এগুলোর জনসম্মুখে সংঘটন ও সাধারন মানুষের নির্লিপ্ত দাঁড়িয়ে থাকা। অভিজিত হত্যাকাণ্ডের সময় আশেপাশের মানুষ দাড়িয়ে ছিল অথর্বের মতো। তার স্ত্রী বন্যা আহমেদের হাহাকারের চিত্রও অনেকে মোবাইলের ক্যামেরায় ধারণ করেছেন। ঘটনাটি প্রতিরোধ করা তো দূরের কথা, ঘটনাটি ঘটার পর অভিজিৎ ও বন্যাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যেতেও তারা বিলম্ব করে। অবহেলার সবচেয়ে খারাপ অজুহাত এসেছে পুলিশের কাছ থেকে। তাদের এ হত্যাকাণ্ডটি প্রতিরোধ না করার যুক্তি ছিল এটিকে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ মনে করা। অর্থাৎ, ছাত্রলীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষ স্বাধীন বাংলাদেশে এখন অলিখিত বৈধতার পর্যায়ে।

রাজন ও খাদিজার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ভিডিও ধারণ করেছে, পাশ দিয়ে হেটে চলে গেছে, কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থেকে তা উপভোগ করেছে; কিন্তু ঘটনাটি প্রতিহত করার সাহস সঞ্চার করতে পারেনি। রিশার ক্ষেত্রে ভিডিও ধারণ করা না হলেও ঘটনাটি প্রতিহত করতে এগিয়ে আসেনি। অভিযোগ উঠেছিল স্কুলের প্রিন্সিপালের ওপর যিনি স্কুলের গাড়ি দিয়ে রিশাকে হাসপাতালে পাঠাতে বিলম্ব করেছেন। সব মিলিয়ে এ ঘটনাগুলোর মাঝে সাধারণ মানুষের অবহেলা খুবই উহ্যভাবে লক্ষণীয়। মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের প্রতি নূন্যতম দায়বদ্ধতা এ মানুষগুলো উপলব্ধি করেনি। তবে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে মানুষগুলো ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে এ সহিংস ঘটনাগুলো উপভোগ করেন কিংবা নির্লিপ্ত থাকেন তারাই পরের দিন প্ল্যাকার্ড হাতে বেরিয়ে পরেন বিচারের দাবিতে। স্ববিরোধীতা আর কাকে বলে!

পাশের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর কলহের মাঝে একজন সাধারণ শিক্ষিত প্রতিবেশী নাক না গলানোর সিদ্ধান্ত নেন এই ভেবে যে এটি
তো তাদের “ব্যক্তিগত” ব্যাপার। চার্লস ডিকেন্স হয়তো এ বাস্তবতা উপলব্ধি করেই বলেছিলেন, “Charity begins at
home, and justice begins next door.”; কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যাপারের মোড়কে আমরা নিজেদের এভাবে আবদ্ধ করে
ক্রমেই নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। তবে এ অবহেলা শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়। সমগ্র বিশ্বের মানুষের মাঝে
আজ এ অবহেলা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সুদানে দুর্ভিক্ষের সময়ের একটি ছবি তুলে ১৯৯৪ সালে পুলিত্‍জার পুরস্কার
পেয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফটোসাংবাদিক কেভিন কার্টার। ছবিটি ছিল এরকম- একটি ক্ষুধার্ত অপুষ্ট শিশু হামাগুড়ি দিচ্ছে
আর তার পিছনে পিছনে একটি শকুন পায়ে পায়ে অগ্রসর হচ্ছে কখন শিশুটি মারা যাবে এবং শকুনটি তার মৃতদেহটি খাবে।



কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধার না করে প্রথমে সেই ছবিটি তোলার জন্য কেভিন কার্টারকে যেভাবে সমালোচিত হতে হয়েছিল অনেকের
মতে সেই অপরাধবোধের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তার The Idea of Justice বইয়ের ১৭নং অধ্যায়ে বলেন, “মানুষের বিভিন্ন ধরণের Obligation থাকে। এর একটি হলে Perfect Obligation আর অন্যটি Imperfect Obligation। একটি অন্যায় ঘটনার সংঘটনের সময় তা প্রতিহত করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক দায়িত্ব পালন করা হলো Perfect Obligation । অন্যদিকে Imperfect Obligation হলো ঘটনাস্থলের আশেপাশের মানুষের সেই অন্যায়টি প্রতিরোধ করা।
তারা যদি এ Imperfect Obligation টি পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করে তাহলে মানুষ হিসেবে তাদের যে দাবি, অহংকার কিংবা গর্ববোধ তা মূল্যহীন হয়ে পড়বে।” পৃথিবীতে আধুনিক যুগের সূত্রপাত হয়েছিলো অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে মানুষের সংগঠিত হওয়া ও তা প্রতিহত করার মধ্য দিয়ে। কিন্তু আধুনিকতার এ পর্যায়ে এসে আমরা অনেক বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছি। আজ অভিজিৎ, কাল রাজন, পরশু খাদিজা, তার পরের দিন রিশারা সহিংসতার শিকার হবে আর আমরা ততোদিন তাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে যাব না যতদিন না আমাদের কিংবা আমাদের কোন স্বজনের নাম এই তালিকায় যুক্ত হবে।

আধুনিকতার এ যুগে শুধুমাত্র প্রযুক্তি উপভোগ কিংবা দৈনন্দিন জ্ঞান আহরণ আমাদের একমাত্র ব্রত হতে পারে না। সত্যের
পথে অবিচল অগ্রসর হওয়া ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বরের মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছিল সেই পথেই আমাদের ধাবিত হতে হবে। আর একারণেই বিপদে আমাদের প্রার্থনা হওয়া উচিত বিপদকে মোকাবেলা করার সামর্থ্য, বিপদ
থেকে রক্ষা নয়।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×