somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অবনি মণি
অনেক বছর হলো ; তবুও নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মতো নির্জন নিস্তব্ধ মৌন পাহাড়ের মতোই একা পড়ে আছি আজও। একাই আছি এই দীর্ঘশ্বাসের মতো! তোমারও কি শুধু দীর্ঘশ্বাস,গ্রীলে বিষন্ন গোধূলী?

এটা গল্প হলেও পারতো ............

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বছর দুয়েক আগে সম্পর্কটা শেষ হয়ে গিয়েছিল হিমেল রহমান এর সাথে । ফেবুর যেকোনো একটা পেজ এ দেখে তিনি নক করেছিলেন কেবলি কৌতূহল থেকে ।যাই হোক ; তার ইচ্ছে ছিল অপরিচিত হিসেবে কিছুদিন পক পক করবেন তারপর পগার পার । কিন্তু সে যাত্রায় তিনি ব্যর্থ হলেন । মাত্র তিনদিন পর তাঁকে চিনে নিলাম । নাম শুনা অদেখা এক মানুষ, বাড়ি ও খুব কাছাকাছি ,তাঁর পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ আমার জানাশুনার ভেতরে ই ।

যাইহোক ; ভালো ভাবে চিনে নেবার পর আমার ও কথা বাড়তে থাকলো তাঁর সাথে । সম্পর্কের গভীরতা বাড়তে বাড়তে অতঃপর সেটা গড়াল মুঠো ফোন অবধি ।শুরু হল প্রেমালাপ ,কিছু রোমান্স ভাগাভাগি ; আর চাঁদনী রাতে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা । ঝুম বৃষ্টিতে এক সাথে ভেজার কতো পরিকল্পনা ; বৃষ্টির মুহূর্তে কমপক্ষে একটা টেক্সট মেসেজে করা মিস হতোনা তাঁর !

তিনি ছিলেন প্রবাসে তাই ইচ্ছে করলেও হঠাৎ দেখা করার কোন পরিকল্পনা ছিলোনা । দেশে এসে কিভাবে কোথায় দেখা হবে এসবের আশা তিনি ই দিতেন যদিও জানতাম যে সেটা কোন প্রেম ছিলোনা স্থায়িত্ব লাভের মত ! কেবল ছিল তাঁর দেয়া মিথ্যে কিছু আশা । তাই সে আশা কখনো লালন করা হয়নি বুকের ভেতর ।

অতঃপর মাত্র তিন মাসের মাথায় শুরু হয়ে গেল ভাঙ্গন মেলা এবং পরিশেষে সকল আকুতি অন্ধকারে ফেলে রেখে তৃষিত বুভুক্ষু আত্মায় তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিনযাপন অথবা অতৃপ্ত অপূর্ণ অবসাদগ্রস্হ হৃদয়ে গভীর বিষন্নতায় নীরব নির্জন রাতে একাকী নিঃসঙ্গ জেগে থাকা ।

দুবছর অতিবাহিত হবার পর হঠাৎ সংবাদ পেলাম তিনি ফিরে এসেছেন তাঁর প্রিয় মাটি ও মানুষের কাছে । ভেবেছিলাম কখনো তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হবোনা তবু মন সে বাঁধা মানলনা তাই যখন শুনলাম আমার চোখের সামনে তিনি তাঁর নতুন কর্মজীবন শুরু করেছেন তখন মাত্র কয়েক মিনিটেই তাঁকে সারপ্রাইজ দেয়ার দুষ্টুমি বুদ্ধি মাথায় চাপল আর মুহুরতেই তাঁর বাস্তবায়ন ঘটালাম । আমি জানিনা তিনি কতটা বিস্মিত হয়েছেন তবে বিব্রত হয়েছেন এটা নিশ্চিত ।

আমার দুঃস্বপ্নের নায়ক হিমেল রহমান যদি ভুলক্রমে এ লেখাটা পড়ে থাকেন তবে যাবার বেলায় তাঁর উদ্দেশ্যে দুটি কথা বলে যাই ;

হিমেল , তোমার সৃষ্ট পটভূমিতে সামঞ্জস্য বিধান করতে গিয়ে অবশেষে একটা অপরিচ্ছন্ন ডোবায় নামতে পারতাম । তোমার-ই বিরচিত প্রেক্ষাপট আমাকে বাধ্য করেছিল তোমার প্রতি কাঁদা ছুঁড়তে কিন্তু আমি সে থেকে বিরত ছিলাম । আমি-তো কেবল তোমার পুষ্প সুলভ মালতী সৌরভের মাধুর্য চেয়েছি-তবে কেন আমায় এমন বিষকাঁটায় রক্তাক্ত করলে ? - না ,অভিযোগ নয় । আর কোনরূপ প্রতিহিংসাও হৃদয়ের গহীনে পুষে রাখতে চাইনা -তাই তোমাকে আরেকবার সুযোগ দিচ্ছি - তোমার অনুভূতিশীল অন্তরাত্মা দিয়ে এ বিদগ্ধ অন্তর উপলব্ধি করো । প্লিজ বাটখারা আর দাঁড়িপাল্লায় আর নয় ! এ মনের ওজন যে ঐ মণের থেকেও অনেক ভারী ।

আজ আমি আলোহীন পৃথিবি ভালোবেসে জেগে থাকি রাত্রির গুহায় । নিরন্তর আঁধারের হাতছানি আজ আমার একমাত্র গন্তব্য । নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকারের তিমিরে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে-ই কেবল এখন আমার ক্ষয়িষ্ণু জীবন বহমান ।

-------অপ্রত্যাশিত রিমঝিম ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×