somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু নেই তবু কিছুতো আছে রিমঝিমের ....

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রিমঝিমের সব কান্না থেমে গেছে ; কান্না ভুলে গিয়েছে রিমঝিম অনেকদিন । এখন আর ইচ্ছে করলেই কাঁদতে পারেনা । হিমেল রহমান চলে গিয়ে রিমঝিম কে অনেক কিছু শিখিয়েছে । সময়ের সাথে সাথে মানুষ যে কতটা বদলাতে পারে তা শিখেছে রিমঝিম । রিমঝিম ও অনেক বদলে গিয়েছে । ও আর হিমেল রহমানকে মনে করার চেষ্টা করেনা

হিমেল রহমান চলে যাওয়ার কারণটা আজও জানা হলনা রিমঝিমের । শেষে শুধু এতুকুই বলেছিল হিমেল “তুমি আমার থেকে অনেক ভালো ছেলে ডিজার্ভ কর । আমি তোমার যোগ্য নই”। না,যোগ্যতার প্রশ্ন তো কখনো তুলেনি রিমঝিম ; তবে কেন যোগ্যতার অজুহাত দেখিয়ে চলে যেতে হবে । হিমেলের সবগুলো পথ খোলা রেখেছিল রিমঝিম আর হিমেলও তার একটা পথই বেছে নিয়েছে ।

হিমেলের সাথে ইচ্ছে না হলেও রিমঝিমের প্রায়ই দেখা হয়ে যাবে ,দু-একবার হয়েছেও । খুব স্বাভাবিক আচরন দুজনের । হাই-হ্যালো হয়েছে ,হিমেলের মধ্যে এতোটুকু অপরাধবোধ ও নেই ; এতে ক্ষুব্দ নয় রিমঝিম ; কোন অভিযোগ নেই ; অনুযোগও করেনা কোন ।

অনেক দিন পর রিমঝিমের আজ মন খারাপ হল হিমেল এর জন্যে । জানে , হিমেল মেয়ে দেখছে বিয়ের জন্যে ; তবু রিমঝিমের মনে উদ্বিগ্নতা নেই মোটে । রিমঝিম এটা ভেবেই নিয়েছে যে আল্লাহ হয়তো হিমেল কে তার জন্যে সৃষ্টি করেননি । এটাই বাস্তবতা আর এটা তাকে মনে প্রানে বিশ্বাস করতেই হবে। তবু আজ একটু উদ্বিগ্নতা কাজ করছে রিমঝিমের মনে ।

হ্যাঁ ; অবশেষে হিমেলে রহমান লাবণ্য নামের অনাকাঙ্ক্ষিত জনকেই জীবনসঙ্গিনী করে নিয়েছে । জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হল হিমেল রহমান এর কিন্তু রিমঝিম ঐ আগের জায়গাতেই পড়ে আছে ! তার চলার গতি যে অনেক ধীর ! আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে রিমঝিমকে ; এ পথের শেষ কোথায় জানেনা রিমঝিম ; এতটুকুই জানে যে ,চারপাশের মানুষগুলো নিয়ে সে যে স্বপ্নে বিভোর তা পূরণের লক্ষ্যেই পথ চলতে হবে তাকে । আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো কিছু করেনি রিমঝিম তাই আজও সে আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে বাস্তবতা কে মেনেই হাঁটছে সামনে ।

আবেগ কে প্রশ্রয় দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ! রিমঝিমের চোখের সামনে যে স্বপ্ন গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে তা নিয়েই রিমঝিমের যাত্রা অনেক দিনের । না, রিমঝিমের বয়সী মেয়েদের মতো ওর স্বপ্ন নয় যে ইচ্ছেমত ঘুরবে,ফিরবে,টাকা ওড়াবে,বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিবে,রেস্টুরেন্টে ঢুকবে আর রিচ ফুড খাবে,পার্কে পার্কে ঘুরবে,জীবন উপভোগ করবে; এই তো জীবন । জীবন আর কয়দিনের ! মেয়ে হিসেবে ততটা আধুনিকের কাতারেও পড়েনা রিমঝিম ।আর ওর সপ্নের সাথে হিমেল রহমানদের স্বপ্নের কোন মিল নেই ; হিমেল রহমান রা স্বপ্ন দেখে শুধু একমাত্র ভালবাসার মানুষ কে নিয়ে ঘর বাঁধতে ,হাতে হাত ধরে চলতে আর জীবন কে উপভোগ করতে । রিমঝিম সেই স্বপ্নে কখনো বিভোর হতে পারেনি তাই এরকম হিমেল রহমান এর মতো অনেকেই তার হাত ছাড়তে বাধ্য হয়েছে । কেউ একজন ও নাই রিমঝিমের হাতে হাত ধরে তার স্বপ্ন গুলোকে বাস্তবায়ন করার মতো তাই ঐ পথ একাই তাকে চলতে হবে !

রিমঝিম স্বপ্ন দেখে তাদের নিয়ে যারা দুবেলা দুমুঠো খেতে পারেনা পেট ভরে,একটা ভালো কাপড় পড়তে পারেনা,কনকনে শীত সহ্য করতে না পেরে অবশেষে .........! স্কুলে যেতে পারেনা অভাবের কারণে ; চিকিৎসা করাতে পারেনা বলে ভোগতে ভোগতে শেষমেশ এক বিছানায় দিন কাটাতে হয়। হয়তো রিমঝিমের একার পক্ষে এ স্বপ্নগুলো পূরণ করা সম্ভবপর নয় তবু উদ্যোগ নিতে দোষ কোথায় ! এ সমাজে যে উদ্যোগ্তার বড়ই অভাব ! হয়তো বা উদ্যোগ নেয়ার পর রিমঝিমের মতো করে স্বপ্ন দেখা অনেকেই এগিয়ে আসবে আর রিমঝিমের হাত ধরবে !

রিমঝিমের আশেপাশে এরকম অনেক মানুষ আছে যারা রিমঝিমের মতো একটা মেয়ের জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে প্রতিদিন ; মা, এবার তো শীতের কাপড় একেবারেই নাই ; আমার মেয়ে নতুন ক্লাসে ভর্তি হয়েছে একটা স্কুল ব্যাগ থাকলে হয়তো মেয়েটার পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ত ; আমার তো এ মাসের ঔষধ ফুরিয়েছে মা ; ঘরের চালাটা যদি না বদলাই তাহলে এ বছরই ঝড়ে ঘরটা আমার উড়িয়ে নিয়ে যাবে ।

কিছুই নেই তবু কিছুতো আছে রিমঝিমের ! কিছু মানসিক শক্তি আর সেই মানুষগুলোর কষ্ট অনুধাবন করার মতো একটা বড় মন ;আর আছে এসব কাজে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগানোর মতো কিছু মহৎ মানুষ আর ঐ ভোক্তভোগী মানুষ গুলোর আশীর্বাদ ! আর কি চাই রিমঝিমের !

হিমেল রহমানদের মতো যাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র সুবোধ উদয়ের লক্ষণ কিংবা অনুতপ্ত বা অনুশোচনার আভাসমাত্র নেই যা রিমঝিমের এই ব্যথিত হৃদয় কিঞ্চিত প্রশমিত করতে পারে তাদের জন্যে কেনইবা রিমঝিমের এ খরতপ্ত মরুদ্যান রচন ; রিমঝিম জানেনা ! কেবল জানে এ আঁধার কালো অধ্যায়ের অবতারণা কেবল-ই নিছক ! অরুনাদীপ্ত ঊষার প্রভাতে তার বিষবাষ্প উদগীরণ শুধু-ই নিরর্থক । রিমঝিম শুধু-ই জানে তার এ চলার পথ রেল লাইনের দুটি রেলের মতই চিরকালীন সমান্তরাল !

রিমঝিমের প্রত্যাশা কেবল হিমেল রহমানদের মতো ঐসব মানুষ গুলোর প্রতি-- অন্তত তাদের ইতিবাচক বিকাশের স্বার্থে শাশ্বত মনুষ্যত্ববোধের চেতনায় সংবেদনশীল ও সহমর্মী অন্তরাত্মা জাগ্রত করবার । ফলহীন বৃক্ষের এই গ্লানি আর কতো বয়ে বেড়াতে হবে রিমঝিম জানেনা তবু প্রতীক্ষায় রয়েছে একটি বর্ষার আগমনী বার্তা শুনবার ব্যাকুলতা নিয়ে ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×