ভারত যে এই এলাকার মোড়ল হিসেবে নিজেকে সব সময় জাহির করে সেটি আর নতুন করে বলার কিছু নেই। এর অনেক উদাহরণই দেওয়া যায়। সম্প্রতি একটি নজির পাওয়া গেল।
গতকাল একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশে নিতে গিয়ে হাতে পেলাম গত মার্চ মাসে দিল্লিতি অনুষ্ঠিত একটি কনভেনশেনের ঘোষণাপত্র। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ‘সুশীল সমাজে’র লোকজন সেখানে অংশ নেয়। ঘোষণাপত্রটির প্রথম অনুচ্ছেদে একটি বাক্য আছে এরকম, উপরের দেশ চীন যে বিভিন্ন স্থানে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে সেটার জন্য আমরা উদ্বিগ্ন! চীন এখানে কেন আসবে? আর চীন পানি প্রত্যাহার করলে ক্ষতি কার? ভারতের। তার মানে ভারতের লোকজন তার স্বার্থ বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার সবার কাছে চীনকে শত্রু বানিয়ে ফেলছে। ভারত যে বাংলাদেশের নদীর পানি প্রত্যাহার করছে তার কী হবে?
ঐ ঘোষণা পত্রে একটা জায়গায় উল্লেখ আছে, ‘তিব্বত, বাংলাদেশ, নেপালের দারিদ্র পীড়িত এলাকা’। এখানে তিব্বত আসবে কেন? তিব্বত কি কোনও স্বাধীন দেশ? দক্ষিণ এশিয়ার কোনও রাষ্ট্র, সার্কভুক্ত কোনও রাষ্ট্র? বোঝাই যায়, চীনকে খোঁচা দেওয়ার জন্য এই নামটি ব্যবহারে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের বাধ্য করছে ভারত।
দলিলটি নাকি একপেশে হয়ে গেছে, এবং এটি ভারতের বিপক্ষে গেছে এই দাবি করে ভারতের বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি নাকি এই ঘোষণাপত্র তৈরির সময় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন!! আর আমাদের প্রতিনিধিরা? একটা গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে:
বাংলাদেম-ভারত যৌথ সভা হচ্ছে। বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি আরেকজনকে বলছেন, দেখছেন ভারতের ঐ প্রতিনিধি কী সু ন্দর অনর্গল বাংলায় কথা বলে যাচ্ছে! উত্তরে অন্যজন বলছেন, ওনি ভারতের নয় বাংলাদেশেরই প্রতিনিধি, ভারতের পক্ষে এক বেশি কথা বলছেন যে মনে হচ্ছে ওনি ভারতেরই প্রতিনিধি!!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




