somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুজিব মেহদী
ওয়েবের পিরামিড

ব্যাজস্তুতির ছলে সত্যের লেজ ধরে টান

১১ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কবিতাকথা ও ফেসবুক সংক্রান্ত ব্যস্ততা ও মগ্নতা এবং আরো কিছু অব্যাখ্যাত কারণে অনেকদিন পর সামহ্যোয়ারইনে লগইন করবার সময় করে উঠতে পারলাম। মাঝে মাঝেই মিস করেছি, ঘুরেছি, পড়েছি কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে সামহ্যোয়ারইনে থাকতে পারি নি। আজ একটা অবকাশ করে ওঠা গেল।

সাধারণত এখানে আমি কবিতাই পোস্ট করেছি এতদিন। এবারও যথারীতি একটি কবিতাই, তবে অন্যের, এবং শুধু কবিতা নয়, সঙ্গে কিছু কথাও। কবিতাটি আবুল হাসানের, কদিন আগে ফেসবুকে অনেকে মিলে পড়েছি লেখাটি । পরে হঠাৎ এটিকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে দেখবার ইচ্ছে জাগে। এ লেখাটি ওই দেখারই একটি বিশেষ ভঙ্গি। একটি কবিতাকে ইন্টারপ্রিট করবার নানা ভঙ্গি-কায়দা-কৌশল-রীতি আছে, আমার ভঙ্গিটিও কোনো গ্রহণযোগ্য ভঙ্গি কি না তা জানা এবং এই ভঙ্গির কারণে যা কিছু সামনে এসে হাজির হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞ পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানতেই মোটামুটি দীর্ঘ এই লেখাটি এখানে পোস্ট করা। উল্লেখ্য, লেখাটি এখনো পর্যন্ত খসড়া পর্যায়েই রয়েছে, পাঠকদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও পরামর্শ এটিকে চূড়ান্ত করবার ক্ষেত্রে আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করবে।

ভালো লাগছে, রহস্যপ্রবণ লাগছে
আবুল হাসান


ভালো লাগছে। এতকাল পরে আজো মানুষকে ভালো লাগছে।
রহস্যপ্রবণ লাগছে।
বড় তরতাজা লাগছে। যেমন যুবতী, যেমন জরায়ু, যেমন শিশির

ভালো লাগছে। ফুল ও পূর্ণিমা, পুরাতন ভালোবাসা ভালো লাগছে।
মানুষ এখন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ফিরছে। মানুষকে ভালো লাগছে।
মানুষকে মারা আজ কোনো কঠিন ব্যাপার নয়; সব সহজ।

জর্জর সঙ্গম, ফুল, জন্মে জেগে ওঠা মৃত্যু, অন্ধকার। সব সহজ।
কোনোকিছু, আজ আর কোনোকিছু কঠিন ব্যাপার নয়।
ভালো লাগছে। বেরিয়ে আসছে বিষ, ক্ষয়, মৃত্যু ও জরা।
ফুলের মালায় বেরিয়ে আসছে অবেলায় অজগর, ভালো লাগছে।
রহস্যপ্রবণ লাগছে।

সুন্দর ব্যর্থতা ঝরছে দোরগোড়ায়। ভালো লাগছে। মানুষ লিখতে পারছে
কুকুর হইতে সাবধান, বাগানের ফুল ছিঁড়িও না আর নীরবতা আবশ্যক
ভালো লাগছে। এতকাল পরে আজো মানুষকে ভালো লাগছে।
রহস্যপ্রবণ লাগছে।

ফুল ছিঁড়ে ফেলতে ফেলতে ফের বলছে ফুল ছিঁড়িও না।
কুকুরের মধ্যে ফের কুকুর বসিয়ে ফের বলে উঠছে কুকুর হইতে সাবধান!

ভালো লাগছে। মানুষকে ভালো লাগছে। ভালো লাগছে। সারাদিন
ভালো লাগছে। সারাদিন রহস্যপ্রবণ লাগছে, ভালো লাগছে,
ভালো লাগছে না।

(সূত্র : আবুল হাসান রচনা সমগ্র, বিদ্যাপ্রকাশ, চতুর্থ প্রকাশ ২০০৭)

আবুল হাসান (১৯৪৭-১৯৭৫)-এর যেসব কবিতার নামধাম ও পঙক্তি কথায় কথায় কাব্যামোদী পাঠকেরা উৎকলন করে থাকেন, তাঁর ‘ভালো লাগছে, রহস্যপ্রবণ লাগছে’ সেসবের কোনোটিই নয়। চেনা জিনিসকে পুনরায় চিনিয়ে দেয়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পূর্বচিহ্নিত খ্যাতির তুলনায় কোনো কবিতাকে নিজঅক্ষমতায় হীন করে তোলায় মন সায় দিল না। তারচে’ মনে হলো হঠাৎ করেই স্বচ্ছচোখে চোখ পড়ে যাওয়া অপরিচিতের সাথেই এ বেলায় খানিক কথাবার্তা বলে দেখা যাক; একে তো এতে ঝুঁকি কম, তদুপরি প্রেমময় পারস্পরিকতা সর্বদাই প্রশংসার্হ বলে জানি। সেই চেষ্টারই এটা স্মারক।

যেরকম টানটান উত্তীর্ণ কবিতা লিখবার রেকর্ড স্থাপন করে একের পর এক নিজেই নিজের রেকর্ড ডিঙিয়ে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে গেছেন আবুল হাসান, সেরকম নিটোল, নিখুঁত কোনো কবিতা নয় এটি। এমনও মনে হয় যে প্রথম খসড়া হবার পর মুদ্রণের আগে খুব বেশি সময়ও হয়ত দেয়া হয় নি কবিতাটিকে। কবির নিজেরও হয়ত পছন্দের ছিল না কবিতাটি। জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত তাঁর তিনটি কাব্যগ্রন্থ (রাজা যায় রাজা আসে : ১৯৭২, যে তুমি হরণ কর : ১৯৭৪ এবং পৃথক পালঙ্ক : ১৯৭৫)-এর দুটোই প্রকাশিত হয় এ কবিতাটি লিখিত ও মুদ্রিত হবার পরে। কিন্তু দুটোর কোনোটিতেই কবিতাটি গৃহীত হয় নি। মার্চ ১৯৭৪-এ বিচিত্রায় পত্রস্থ এ কবিতাটি পরে গ্রন্থিত হয় ১৯৮৫-এর নভেম্বরে মুহম্মদ নূরুল হুদা, ফখরুল ইসলাম রচি ও জাফর ওয়াজেদ সম্পাদিত আবুল হাসানের অগ্রন্থিত কবিতা নামক সংকলনে। কবিতাটিতে অনেকটা ঢিলেঢালা, শিথিল একটা আয়োজন দ্রষ্টব্য হয়ে আছে। তবে অঢেল স্ফূর্তিমাত্রকে বগলদাবা করে এগিয়ে গিয়ে কবিতাটি আবিষ্কার করে নিয়েছে কিছু প্রবাদোপম সত্যবাক এবং মানবিক প্রবণতার কিছু গলি-ঘুঁপচি, এতে কাঠামোগত যা কিছু শৈথিল্য এ কবিতাটিতে দ্রষ্টব্য, তা গৌণতায় পর্যবসিত হয়ে মুখ্য হয়ে উঠেছে এর প্রকাশ্যার্থ ও অপ্রকাশ্যার্থ বা নিহিতার্থের ঔজ্জ্বল্য। আমার মনে হয়, কবিতাটি পাঠকমাত্রকে তার অর্জিত মন্দাভিজ্ঞতাগুলোর দিকে মনোনিবেশে বাধ্য করতে পারে, ইন্ধন দিতে পারে আত্মসমালোচনায়ও। এবং বলতে কী, তাকে হয়ত ক্ষণিকের জন্য হলেও খানিকটা লজ্জায় ফেলে দিতে পারে।

মানবজাতির বয়স কত হলো, অন্তত আধুনিক মানুষের ? প্রায় ২ লক্ষ বছর ধরে কথিত বর্বর অবস্থা থেকে উত্তরিত হয়ে সভ্যতার সিঁড়িতে পা রেখে মানুষ আধুনিক হয়েছে সেও প্রায় ১০ হাজার বছরের কথা। বাহারি এই আধুনিকতার ঝলকে মানুষের অন্তরে-বাহিরে যে পরিবর্তন আজ দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে, তাকে আমরা অনেক বড়ো অর্জন হিসেবেই মূল্যায়ন করি। কাজেই এটা সঙ্গত যে, এত এত বছর পেরিয়ে আসার পরও মানুষকে আমাদের কাছে ভালো লাগে, ভালো লেগেছে আবুল হাসানেরও। ভালো লাগতেই পারে। মানুষকে মানুষের ভালো লাগবে এতে আর বিচিত্র কী! কিন্তু এ ভালো লাগা যে আদতেই ভালো লাগা নয়, আয়রনি বা ব্যাজস্তুতিমাত্র, ক্রমশই কবিতাটি তা উন্মোচিত করে এর প্রতি আমাদের কৌতূহলকে উসকে দেয়, তলিয়ে দেখবার।

সভ্যতার যে দান, তা মানুষকে প্রাযুক্তিক অত্যাশ্চর্য সব উন্নতির শিখরে আরোহণে সামর্থ্য এনে দিয়েছে। দিয়েছে মানুষের আচরণগত কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যও, যার সহজ সাধারণ নাম হয়ত জটিলতা। এই জটিল মনোবৃত্তিই তাকে আড়ালপ্রিয় করেছে, করে তুলেছে রহস্যপ্রবণ। এ অস্ত্র দিয়েই মানুষ সংজ্ঞায়িত করেছে প্রাকৃতিক-নৈসর্গিক-ব্যবহারিক নানা ভালোমন্দের। বলেছে ফুল ভালো কারণ তা সুগন্ধ দেয়, পূর্ণিমা ভালো কারণ তা দেয় নিরুত্তাপ মোহনীয় আলো, যুবতী সতেজ ও তরতাজা কারণ তা একইসঙ্গে ধরে সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা (নারীর চোখে দেখলে এর ব্যাখ্যা হয়ত অন্যরকম হতো), জরায়ু তরতাজা কারণ তার উর্বরতা স্বয়ম্প্রমাণিত, শিশির সতেজ কারণ তা যত ক্ষুদ্রায়ুই হোক, রুক্ষকেও দেয় কমনীয়তা। এইসব ভালো লাগা, সতেজ-কোমল অনুভূতি আজের নয় বা নয় গতকালেরও; তা সভ্যতার চেয়েও বেশি বয়সী।

ভালো লাগছে। এতকাল পরে আজো মানুষকে ভালো লাগছে।
রহস্যপ্রবণ লাগছে
বড় তরতাজা লাগছে। যেমন যুবতী, জরায়ু, শিশির

ভালো লাগছে। ফুল ও পূর্ণিমা, পুরাতন ভালোবাসা ভালো লাগছে।


এসব পঙক্তি পড়ে আমরা চমকাই না বস্তুত। যে কেউই এরকম বলতে পারেন, এটা বলতে আবুল হাসান হওয়া লাগে না। এবং এরকম পটভূমিতে অনেকবারই কেউ বলতে পারেন ভালো লাগছে..., রহস্যপ্রবণ লাগছে...। কিন্তু সারাদিন রহস্যপ্রবণ ও ভালো লেগেও সেই একই মানুষকে আবার হঠাৎই ভালো যে নাও লাগতে পারে, এটা বলতে সবাই পারেন না। সরল বিবেচনায় এই বিবৃতিকে কি খুব স্বাভাবিক লাগে ? না, লাগে না। সে কি আত্মপ্রেম-উৎসারিত ? হয়ত না। ঈর্ষাজাত ? হয়ত না। মনে হয়, এটি সমাজাভ্যন্তরে সৃষ্ট নানা তিক্ত বাস্তবতার কষাঘাতে ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হয়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে জন্ম নেয়া নিষ্ঠুরতা, প্রতারণা, দ্বিচারিতারই অবশ্যম্ভাবী ফল।

মানুষ এখন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ফিরছে।...
মানুষকে মারা আজ আর কোনো কঠিন ব্যাপার নয়; সব সহজ।


দেশকালপাত্র নির্বিশেষে আঁতকে ওঠার মতো বিবৃতি নয় এটি ? ১৯৭৪-এ মুদ্রিত হচ্ছে যে কবিতা, যাতে ধরা আছে এরকম ভয়ানক স্পর্শকাতর এক অভিজ্ঞতার বয়ান, তা প্রধানত কোন সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করে ? স্বাধীনতা উত্তরকালের প্রতিই তো! মাত্র ৯ মাসকাল ব্যাপ্ত সর্বাত্মক গণযুদ্ধে রূপ নেয়া আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেসামরিক লোকজনের মধ্যে থেকে গিয়েছিল। অথচ এর চেয়ে বেশি সময় ধরে গণযুদ্ধের পরও গণচীন ও ভিয়েতনামে এ ভয়াবহ বাস্তবতার প্রমাণ মেলে না। ব্যর্থতাটা কাজেই আমাদেরই। যাই হোক, সেসব ছুটঅস্ত্রের ব্যবহারও হচ্ছিল তখন সময়ে সময়ে। সঙ্গতভাবেই নানা অস্থিরতা বিরাজ করছিল তখন দেশে। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের তৎপরতা, অন্যদিকে দেশবিরোধীদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ভূমিকা, ক্ষমতাসীন দলের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব, রক্ষীবাহিনীর নজীরবিহীন অত্যাচার, গুপ্তহত্যা, বিনা বিচারে সাজা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা, লুটতরাজ এসব ছিল তখনকার নৈমিত্তিক বাস্তবতা। এরকম সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রায় মূল্যহীন হয়ে পড়া বিপন্ন-বিপর্যস্ত মানবাধিকারহারা মানুষের পাশে দাঁড়াবার প্রত্যয়ে ৩১ মার্চ ১৯৭৪-এ ড. আহমদ শরীফের সভাপ্রধানত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সভায় ‘মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং আইনী সাহায্য প্রদান কমিটি’ নামে সচেতন নাগরিকদের একটি ফোরাম গঠিত হয়। গঠিত ৩৩ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি ছিলেন কবি সিকান্দার আবু জাফর। পেশাগতভাবে সংবাদকর্মী হওয়ায় কবি আবুল হাসান এহেন সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দূরবাসী কেউ ছিলেন না। ১৯৬৯ থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হন দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত দৈনিক গণবাংলা এবং ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত দৈনিক জনপদে সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ থেকে ধারণা করা যায়, তৎকালীন সমাজ-রাষ্ট্র পরিস্থিতির বিশদ বয়ান তাঁর নখদর্পণেই ছিল।

দলিলপত্রাদি জানান দেয়, ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষাবস্থার সূচনা হয় সে বছর মার্চে। বিভিন্ন সূত্রে ওই খাদ্যাভাবের যেসব কারণ চিহ্নিত করা হয় সেসবের মধ্যে ছিল নবগঠিত সরকারের প্রশাসনের ব্যর্থতা, ভূ-রাজনৈতিক পরাশক্তির ভূমিকা, মজুতদারি-কালোবাজারি ও চোরাচালানির প্রকোপ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রভৃতি, যদিও সেবছরে সংঘটিত ব্যাপক বন্যাকেও এর একটি কারণ হিসেবে দেখানো হয়। সে বছর পহেলা নভেম্বরে পূর্বোল্লিখিত কমিটির আয়োজনে বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে সিকান্দার আবু জাফরের সভাপ্রধানত্বে অনুষ্ঠিত সকল পর্যায়ের বুদ্ধিজীবীদের সেসময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সমাবেশে গৃহীত প্রস্তাবে অবশ্য বলা হয়েছিল যে, এই মন্বন্তরের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা ১৯৪৩ সালের মন্বন্তরের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতাকেও অতিক্রম করে গেছে এবং এই মন্বন্তর বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট হয় নি বরং শাসকশ্রেণি ও তাদের সহযোগীদের গণবিরোধী নীতিরই এটি প্রত্যক্ষ পরিণতি। সকল দুর্ভিক্ষই মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট, অমর্ত্য সেনের এ মতেও এ বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত হতে দেখি।

বলাই বাহুল্য যে, মন্বন্তর কখনো আকস্মিকভাবে শুরু হতে পারে না। তার কারণসমূহ দানা বাঁধতে থাকে আরো আগে থেকেই। এসব তখন দেশে যে অস্থিরতা তৈরি করেছিল, তার সাথে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের যোগ স্বতঃপ্রমাণিত। এখানে ৪ এপ্রিল ১৯৭৪-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলে ৭ জন ছাত্রনেতাকে গুলি করে মারা এবং এর জের হিসেবে কিছুদিন পরই শহীদুল্লাহ হলে আরো ৪ জনকে খুনের ঘটনাও উল্লেখ করা যেতে পারে, যা তৎকালীন অস্ত্রবাজির ভয়াবহতাকেই মূর্ত করে।

তৎকালীন এ বাস্তবতা খুব কি বদলেছে এ দেশে ? বরং দিনে দিনে তা আরো সত্যেই পরিণত হচ্ছে যেন। এখন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র আরো সহজলভ্য। বাংলাদেশ এখন ট্রাক ট্রাক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পাচারের গুরুত্বপূর্ণ একটা রুটও বটে। মানুষ মারা এখন আরো সহজ। জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা হামেশাই তার প্রমাণ রেখে চলেছে। আর্জেস গ্রেনেড ছুড়ে মারছে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ। পিছিয়ে নেই সরকার নিয়ন্ত্রিত বিশেষ এলিট ফোর্স র‌্যাবও। তারাও নিয়মিত গল্প ফাঁদছে ক্রসফায়ারের। প্রতিদিন একই গল্প পড়ে পড়ে মানুষ যতই ক্লান্ত হয়ে পড়ুক, এরপরও মিডিয়ার কল্যাণে তাদের পড়তেই হচ্ছে এইসব অনবদ্য ফিকশন।

মাত্র গত ফেব্রুয়ারিতে ঘটে যাওয়া বিডিআর সদরদপ্তরের ঘটনাটির কথা ভাবলে কেমন লাগে ? যে অস্ত্র সীমান্ত রক্ষার জন্য, যে অস্ত্র দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, সে অস্ত্র কীভাবে ‘রহস্য’রক্ষায় ব্যয়িত হলো! অজস্র প্রাণ গেল, খোয়া গেল সহস্রাধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, যেগুলো আবারো ব্যবহৃত হবে হয়ত মানুষ মারায়ই। এসব ঘটনা কি প্রমাণ করে না যে মানুষ মারা আজো খুব কঠিন কিছু হয়ে যায় নি ? এরকম প্রেক্ষাপট আজো সত্য বলে প্রতিভাত হয় কবিতাটির উৎকলিত পঙক্তি।

জর্জর সঙ্গম, ফুল, জন্মে জেগে ওঠা মৃত্যু, অন্ধকার।...
কোনোকিছু, আজ কোনোকিছু কঠিন ব্যাপার নয়।
... বেরিয়ে আসছে বিষ, ক্ষয়, মৃত্যু ও জরা।
ফুলের মালায় বেরিয়ে আসছে অবেলায় অজগর।


কবিতাটির এ অংশের সাথে একাত্তরের অভিজ্ঞতা যদি মিলিয়ে দেখা হয় তো কী অর্থ দাঁড়ায় ? আমরা সবাই জানি, তৎকালীন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নারীদের প্রতি যে বীভৎস আচরণ করা হয়েছে, তা রীতিমতো রোমহর্ষক। প্রামাণ্য দলিলপত্র এরকম যুদ্ধাহত নারীর সংখ্যা আড়াই লক্ষ বলে দাবি করে। এ কবিতার ‘জর্জর সঙ্গম’কে যদি ওরকম বর্বর আচরণ হিসেবেই দেখা হয়, তা কি খুব ভুল দেখা হবে ? এ সঙ্গমের পরিণতিতে জরায়ুতে যে ফুল বা মানবভ্রূণ জন্মেছে ও জন্মায়, সে ভ্রূণের জন্মমৃত্যু যুগপৎ সংঘটিত হয়েছে ও হয়, বস্তত তাই হয়ত স্বাভাবিক এক্ষেত্রে। একাত্তর পরবর্তী সময়ে শতসহস্রবার শতসহস্র ক্ষেত্রে জন্মের শুভক্ষণে জেগে উঠেছে এমন করুণ মৃত্যু। এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই মৃত্যু কেবল ছিল না ভ্রূণের, ছিল ওই ভ্রূণের জন্মদাত্রীরও। এহেন বীভৎস অন্ধকার কেবল একাত্তরের বাস্তবতাই কি, নাকি আজকেরও ? এ অন্ধকার কি আজো ঘিরে রাখে নি আমাদের সমাজকে ? ব্যাপার একই, কেবল যা সংখ্যায় লঘু। এসব তখনো কঠিন ব্যাপার ছিল না, আজো সম্ভবত নয়। নইলে প্রতিদিনই কাগজে এত এত ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির খবর পড়তে হবে কেন আমাদের?

এর সবই হয়ত সমাজের একাংশের পচে যাওয়ার লক্ষণ। আর তারই ক্ষরণ কথিত বিষ, ক্ষয়, মৃত্যু ও জরা। এসব মানুষকে বানিয়েছে প্রতারকও। একজনকে ঠকিয়ে অন্যজনের বেঁচে ওঠা, ফুলেফেঁপে ওঠা। এসব আর কত দেখবে মানুষ, অদ্যাবধি ? এসব দেখতে দেখতেই না ভালোবাসাকেও মানুষ সন্দেহযুক্ত করে দেখে! এখনো কি অনেক ক্ষেত্রেই এমন করে দেখতে হয় না আমাদের ? ফুলের মালাকেও নিছক ফুলের মালা ভাবলে ভুল করা হয় না ? কারণ তাতে নিহিত থাকে সংশয়, ভীতি, মৃত্যুর বীজ, অজগররূপে, প্রায়শ।

এই যে আর্থ-রাজনৈতিক সমাজচিত্র, এ কী কাম্য হতে পারে কারো ? পারে না। যা কাম্য, তা যখন ধরাছোঁয়ার বাইরে তখন তা ব্যর্থতা বলে গণ্য। এ ব্যর্থতা ব্যক্তির, সমাজের, রাষ্ট্রের। কিন্তু সে ব্যর্থতাকে কবি বলছেন সুন্দর। আদতে যা কোনোভাবেই সুন্দর নয়। এ ব্যাজস্তুতি, কবির, মন্দ বুঝাতেই এখানে ভালো বলা। যদিও এ ব্যর্থতা সবার নয়। সামাজিক-অর্থনৈতিক অসাম্য এখনকার মতো তখনকারও বাস্তবতা। তখনো একদল মানুষ নিজেদের ও নিজেদের সম্পদ নিরাপদ রাখতে কুকুর পুষেছে, ফুলের বাগান সাজিয়েছে, নিভৃতে নিজের ভিতরে চুপ করে থেকেছে। এখনো কি অন্যরকম কিছু ঘটে গেছে দেশে ? না, একদমই না। বাইরে তাদের চোখ নেই। বাইরে কেউ না-খেয়ে আছে, চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে, সেটা তার/তাদের দেখবার সময় নেই, রুচিও নেই। নিজে বাঁচাই তার/তাদের ধর্ম। এ অবস্থার প্রকাশ কবি করছেন এইভাবে যে,

সুন্দর ব্যর্থতা ঝরছে দোরগোড়ায়।...। মানুষ লিখতে পারছে
কুকুর হইতে সাবধান, বাগানের ফুল ছিঁড়িও না আর নীরবতা আবশ্যক


সন্দেহ নেই এ সভ্যতারই শিক্ষা। কিন্তু এও কি তারই, মানে কথিত সভ্যতারই শিক্ষা নয় ?

ফুল ছিঁড়ে ফেলতে ফেলতে ফের বলছে ফুল ছিঁড়িও না।
কুকুরের মধ্যে ফের কুকুর বসিয়ে ফের বলে উঠছে কুকুর হইতে সাবধান।


কবিতাটির এ অংশ একেবারেই নির্মম-নির্দয় প্রহারসম। ঘনিষ্ঠ পাঠমাত্র সপাং চাবুকের আঘাত যেন এসে লাগে পাঠকেরই পিঠে। আত্মসমালোচনায়ও প্রবৃত্ত করে তাকে, পাঠককে। এরকম পরস্পরবিরোধী আচরণ কি আমরা হরহামেশাই করি না, যা বস্তুত দ্বিচারিতারই নামান্তর ? নিয়ত পাপে প্রবৃত্ত থেকে তার সমস্ত আলামত সযত্নে আড়াল করে অন্যকে সেই পাপ না-করবার উপদেশ বিতরণে আমাদের জুড়ি মেলা ভার! মানুষমাত্রেরই বুঝি এই হাল, বিশেষভাবে অসৎ চতুরজনের ?

আমরা দেখি আমাদের সমস্ত জাতীয় ক্রিমিন্যাল, যাঁদের অঙ্গুলি হেলনে জাতিরও অনেক কিছু আসে যায়, তাঁরা নিজেরা যখন ডায়াসে দাঁড়ান তখন তাঁদের মুখে প্রায়শই নীতিবাক্যের খই ফুটতে থাকে। অথচ ট্র্যাজেডি এই, কথিত উচ্চারিত নীতির অনুসারী তাঁরা নিজেরা হলে যাদের উদ্দেশ্যে নীতিবাক্যগুলো আওড়ানো হচ্ছে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কিছু সুফল পেয়ে যেতে পারত। যেহেতু তাঁরাই সেসব শ্রোতা-দর্শকের হর্তাকর্তা বিধাতা।

আমরা আমাদের সরকারগুলোর দিকে যদি তাকাই তো সাদা চোখেই দেখতে পারি যে ফুল ছিঁড়ে ফেলতে ফেলতে তারা ফুল না-ছিঁড়বার পরামর্শ বিতরণে অহর্নিশ কত পেরেশান থাকে। এ খাতে সরকারসমূহকে অনেক বিনিয়োগ করতেও দেখি আমরা। দেখি যে নিজেরা গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপরে ঘাসের বাগান তৈরি করে বিরোধীদের গণতন্ত্র শেখানোর জন্য যথেচ্ছ টিউটোরিয়াল খুলে বসে। এ অভিজ্ঞতা আমাদের বিশেষ কোনো কালখণ্ডের নয়, সব সময়ের।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এর আরো বড়ো উদাহরণ মেলে। পৃথিবীর যারা হর্তাকর্তা আজকাল, ধরা যাক মাস্তানরাষ্ট্র ব্রিটিশ-আমেরিকার কথাই। গোটা পৃথিবীকে এরা নিজেদের খেতখামার বলে ভাবে। যখন তখন পাঁজন হাতে হাল জুড়ে দেয় যে কারো যেকোনো ক্ষেতে। যথেচ্ছ ফসল ফলায়, অন্যের খোলানে মাড়াই সম্পন্ন করে ফসল নিয়ে ওঠায় নিজেদের গোলায়। যেন ওসব তাদেরই অধিকারের ধন। অন্যেরা যখন বাধ্য হয়েই এসব অপকর্ম ঠেকাতে যায়, তখন তাদের নিষ্ঠুরভাবে প্রতিহত করে। এবং অবাধ্যদের বিপ্লব-বিদ্রোহের গায়ে ছাপ মেরে দেয়া হয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলে। ঘোষণা দেয় যে, এরা মানবতাবিরোধী, এদের মারো, কাটো, নিশ্চিহ্ন করে দাও। দিচ্ছেও। বাড়ছে তাতে সন্ত্রাস, আর ঘটছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। লাঠিয়ালই লাঠিয়াল অপবাদ দিয়ে একঘরে করে রাখছে অবাধ্যকে। এই বুঝি তবে কুকুরের (সন্ত্রাসের) মধ্যে কুকুর (সন্ত্রাস) বসানো এবং চ্যাঁচিয়ে বলে চলা যে কুকুর (সন্ত্রাস) হইতে সাবধান। আয়রনি হলো, এরাই পৃথিবীবাসীকে হুঁশিয়ার করে চলেছে যে তোমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করো না, করবে তো মরবে। এবং সত্যি সত্যি মারা হচ্ছেও। যথেচ্ছ।

কে না জানে, জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জাতীয় কথিত স্বাধীন সংস্থাগুলো এদেরই করায়ত্তে ? এসব সংস্থা তাদের কোনো নিয়মনীতিই কথিত মাস্তান রাষ্ট্রসমূহের ওপরে কার্যকর করতে পারে না। তবে সুযোগ একটা রাখা হয়, সেটা হলো, যার মানবাধিকার তাদের দ্বারা লঙ্ঘিত হয়েছে বা হচ্ছে তারা এসব সংস্থায় গিয়ে সখেদে কথা বলতে পারেন, আপিল করতে পারেন, যদিও সংস্থাদ্বয়ের কানা পয়সার ক্ষমতাও নেই যে বিচারপ্রার্থীর হয়ে কিছু করে। নিপীড়িতরা যে তাদের আপিলটা ওখানে করতে পারছে এ নিয়েই তাদের খুশি থাকতে হয়। ওইসব সংস্থা এবং তাদের নিপীড়িতবান্ধব নিয়মনীতি নিপীড়িতের মন খুলে কান্নাকাটি করবারই জায়গা, একবার কোনো এক লেখায় সম্ভবত এরকমটিই বলছিলেন কলিম খান।

কাজেই খুব নির্বিঘ্নে যাতে কান্নাপর্বটা সমাধা হতে পারে সে সুযোগ দেয়াটাই এসব সংস্থার উদারতা, এদের আলটিমেট অর্জনও বস্তুতপক্ষে ওটাই, সান্ত্বনাওষুধ বিতরণ। এটাকে ব্যাখ্যা করা যায় আমাদের চিরাচরিত এই প্রবচন দিয়েও যে, ওরা যখন তখন আমাদের গরু মেরে যতখুশি জুতা দান কার্যক্রম পরিচালনা করে যায়। এরা বস্তুতপক্ষে ওই কথিত জুতাদানেই নিরত, পৃথিবীব্যাপী। এই পরিস্থিতিকে মূর্ত করা যায় বাংলা লোকগানের এই পঙক্তি দিয়েও যে, তুমি ‘সর্প হইয়া দংশন করো ওঝা হইয়া ঝাড়ো...’। বন্ধু হাসান মোরশেদের থেকে ধার করে এ-ও কি একে বলা যায় না যে, ওরা আছাড় দিয়ে কোমর ভেঙে তারপর বিনামূল্যে ক্র্যাচ প্রদানের বদান্যতাটুকু দেখায় ও বিজ্ঞাপিত করে। এসবকে এখন বাইরে পরিপাটি সভ্যতার গায়ের পুঁজওয়ালা দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষত না-ভেবে আর কী ভাবতে পারি আমরা ?

এই-ই সব। আর এ কারণেই কবিচিত্ত আলটিমেট কথাটা শেষবাক্যে এসে জানান দেন যে, এই চতুর-জটিল মানুষকে সারাদিন রহস্যপ্রবণ লাগলেও, ভালো লাগলেও শেষপর্যন্ত তাদের আর ‘ভালো লাগছে না।’ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, মূর্ত-বিমূর্ত, বাহ্য-অন্তর্গত সমস্ত অর্থানন্দের পাশে এই কন্ট্রাস্টটিই এই কবিতার সৌন্দর্যকে পাঠকের চিন্তা ও নন্দনভাবনার সমান্তরাল উচ্চে উঠিয়ে দেয়। কবির অবজারভেশনটা অনেকটাই সর্বসাময়িক, এরকম মনে করায়। আমাদের বিশ্বাস করায় যে, অপ্রিয় হলেও কিছু সত্যের সাথে একটুখানি দেখাসাক্ষাৎ ঘটিয়ে দিলেন আমাদের প্রিয় কবি আবুল হাসান, যিনি এক স্বঘোষিত পাথর, যার গায়ে কেবলি লাবণ্য ধরে।


সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:৩২
২৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টিকা না দেয়ার ফলাফল, COVID-19 এর নতুন ভার্সন B.1.1.529

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:২৯



দ: আফ্রিকা ও আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ এলাকার দেশগুলোতে COVID-19'এর নতুন একটি ভার্সন, B.1.1.529 ধরা পড়েছে; বৃটেন ও ইসরায়েল দ: আফ্রিকার সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে, বিশ্বব্যাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রভু ! বারবার নষ্ট হয়ে যাই !

লিখেছেন স্প্যানকড, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৪

ছবি নেট । চিত্র শিল্পী ক্যাথরিন লা রোজ।

জুম্মার দিনে কত জনে পাঞ্জাবি আতর সুবাস লাগাইয়া মসজিদে যায়। আমি জিন্স আর গোল গলার গেঞ্জি। একবার চোখে সুরমা দিছিলাম। দেখি নানু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্র আন্দোলন ও এর যৌক্তিকতা

লিখেছেন প্রকৌশলী মোঃ সাদ্দাম হোসেন, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৮:১৫

৷৷

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ এর (ক) অনুযায়ী নাগরিকের শিক্ষার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সংবিধানের উপরোক্ত অনুচ্ছেদের আলোকে ছাত্ররা খুবই যৌক্তিক ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ফ্রি করার জোর দাবি জানাতে পারে। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বরিশাইল্যা হুজুর আর বিহারী নাপিতের কথোপকথন, এবং জীবনের আয়রনি

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৫১


সেলুনে গিয়েছিলাম ছেলেকে নিয়ে। উদ্দেশ্য, তার চুল কাটানো এবং আমার শেভ করা। যদিও দুজনের চুলই যথেষ্ট বড় হয়েছিলো, কিন্তু চুল বিষয়ে বাপ-ব্যাটার দর্শন আলাদা। রুহিন চুল একটু বড় হলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্নত

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে নভেম্বর, ২০২১ রাত ১:৫৫


ছবিঃ গুগল।

আমার এক বন্ধু কথায় কথায়-
আলহামদুলিল্লাহ্‌, মাশাল্লাহ বলে। এবং সুন্নত, ফরয পালন করে। যেমন আমার বন্ধু দাঁড়িয়ে পানি খায় না। বসে পানি খাওয়া সুন্নত। নবিজির সুন্নত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×