somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রসঙ্গঃ ভাষা শহীদ

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একদিন আমার ফেবু ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা কেউ একজন কোনো এক কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলে বসে,
“যেমনে কইতাছ মনে হয় মাতৃভাষার লাইগা কত কি করছস ....... । এতই যখন মাতৃভাষার লাইগা পেট কান্দে তাইলে বাংলাই পরছ নাই কেন ?????”
তার প্রতিত্তোরে আমি তাকে বলেছিলাম, “আবারও নিবুদ্ধির মত কথা!! মনে রাখিস সালাম রফিক বরকতেরা সবাই বাংলার স্টুডেন্ট ছিল না!!!!”
তারপর পরই আমার মনে আসল, ভাষা আন্দোলনের কথা তো আমরা সবাই জানি কিন্তু এই যে ভাষা শহীদেরা…তাদের সম্পর্কে আসলে আমরা কয়জন সঠিক ভাবে জানি তারা কে কি ছিলেন?
তাই তাদের সম্পর্কে জানানোর একটা ছোট্ট প্রয়াস করেছি এখানে (ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন আগেই বলে রাখি)
#১৯৫২_সালের_২১_ফেব্রুয়ারী (৮_ফাল্গুন_১৩৫৮) বাংলাভাষার সম-মর্যাদার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে দ্রুত দানা বেধে ওঠা আন্দোলন তৎকালীন ১৪৪ ধারা আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল কিছু রাজনৈতিক কর্মী মিলে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। গুলিতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত সহ আরও অনেকে। এই শহীদেরা আমাদের ভাষা শহীদ… এবার সংক্ষেপে জানাই তাদের সম্পর্কে –
#রফিকঃ রফিকউদ্দিন আহমদ (১৯২৬-১৯৫২)
পিতার নাম আবদুল লতিফ ও মাতার নাম রাফিজা খাতুন।
১৯৫২ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজের ( বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে রফিক অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল প্রাঙ্গনে পুলিশ গুলি চালালে সেই গুলি রফিকউদ্দিনের মাথায় লাগে। গুলিতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
#সালামঃ আবদুস সালাম (১৯২৫-১৯৫২)
পিতার নাম মোহাম্মদ ফাজিল মিয়া।
কর্মজীবনে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের ডিরেক্টরেট অব ইন্ডাস্ট্রিজ বিভাগের 'পিয়ন' হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বায়ান্নোর ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিলে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশের এলোপাথাড়িভাবে গুলিতে আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ এপ্রিল ১৯৫২ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
#বরকতঃ আবুল বরকত (১৯২৭-১৯৫২)
পিতার নাম মরহুম শামসুদ্দিন, মাতার নাম হাসিনা বেগম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে চতুর্থ হয়ে বি.এ. অনার্স পাস করেন। অতঃপর স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারী ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলি চালালে হোস্টেলের ১২ নম্বর শেডের বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হন আবুল বরকত। ঢাকা মেডিকেল কলেজের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি অবস্থায় রাত আটটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
#জব্বারঃ আবদুল জব্বার (১৯১৯-১৯৫২)
পিতার নাম হাসান আলী এবং মায়ের নাম সাফাতুন নেছা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যয়নের পরে দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে পিতাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেন আবদুল জব্বার। পরবর্তিতে এক ইংরেজ সাহেবের সান্নিধ্যে আসেন। সাহেব তাঁকে একটি চাকরি প্রদান করেন।
ক্যান্সারে আক্রান্ত শাশুড়িকে নিয়ে ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় আসেন। হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে আবদুল জব্বার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রদের আবাসস্থল (ছাত্র ব্যারাক)-এ উঠেন। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনরত ছাত্রদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে, কি হয়েছে দেখবার জন্য তিনি রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তখনই পুলিশ গুলি শুরু করে এবং জব্বার আহত হন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জব্বারকে মৃত ঘোষণা করেন।
#শফিউরঃ শফিউর রহমান (১৯১৮-১৯৫২)
পিতা মাহবুবুর রহমান।
দেশ বিভাগের পর পিতার সঙ্গে ঢাকায় এসে ঢাকা হাইকোর্টে হিসাব রক্ষণ শাখায় কেরানী পদে যোগ দেন।
১৯৫২-র ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটার দিকে ঢাকার রঘুনাথ দাস লেনের বাসা থেকে সাইকেলে চড়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন শফিউর। সকাল সাড়ে দশটার দিকে নওয়াবপুর রোডে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্বদিনের পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ পুণরায় গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের গুলি শফিউর রহমানের পিঠে এসে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল না হওয়ায় ঐদিন সন্ধ্যা সাতটায় মৃত্যুবরণ করেন।
#আওয়ালঃ আবদুল আওয়াল (১৯২৬-১৯৫২)
পিতার নাম মোহম্মদ হাশিম।
পেশায় ছিলেন রিক্‌শাচালক।
১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। (বিঃ দ্রঃ ২১ ফেব্রুয়ারী ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে পরদিন মিছিল হয়। পুলিশ সেখানেও গুলি চালায়। তখন আবদুল আওয়াল নিহত হন।)
#অহিঃ অহি উল্লাহ ( - ১৯৫২)
পিতার নাম হাবিবুর রহমান।
তখন ৮/৯ বছরের বালক।
১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী বিক্ষোভকারী ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। অহিউল্লাহ সম্ভবত মিছিল দেখতে বেরিয়েছিলেন। মেডিকেলের মর্গ থেকে লুকিয়ে ফেলা লাশগুলোর একজন অহি উল্লাহ।
#এছাড়া ব্যাংক কর্মচারী “মোহাম্মদ সালাউদ্দিন” মিছিলে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। কিছুকাল পর মৃত্যু বরণ করেন। “এক পরিচয়হীন শিশু” ভাষাশহীদদের আন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মিছিলে লেলিয়ে দেয়া ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন।
মোট কতজন নিহত হয়েছিলেন, তাদের পরিচয় বা তার পূর্ণ বিবরণ অবশ্য পাওয়া যায় না। কারন বিক্ষোভের পর পুলিশের গুলিতে নিহত অনেকের লাশ ঐ রাতেই পুলিশ এবং সেনাবাহিনী মর্গ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গুম করে ফেলে।
এতটুকুই জানানোর প্রয়াস চালালাম আজ। সকল ভাষা শহীদদের প্রতি মনে নিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা, বলতে চাই একটাই কথা, বাংলা ভাষা আমার গৌরব, আমাদের গৌরব।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×