somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা আমার গৌরব-আমি তাঁর শুদ্ধতার পক্ষে

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বড় অদ্ভুত সময়ে বাস করছি আমরা।
যেখানে ভাষা দিবসের
চেয়ে প্রজন্মের তরুণরা ভ্যালেন্টাইন’স
ডে নিয়ে বেশি আগ্রহী। মিডিয়া ও
টিভি চ্যানেলগুলো বাংলা ভাষার
উন্নতি ও ইতিহাস মূলক প্রযোজনার
বদলে ভ্যালেন্টাইন’স ডে -
কে অতিরঞ্জিত করতে বেশি ব্যস্ত।
পহেলা বসন্তের তাজা গাঁদা ফুল আর
বাসন্তি শাড়িকে ভুলে সবাই রেড
রোজ আর ভ্যালেন্টাইন’স ডে স্পেশাল
কার্ড, চকলেট আর বাহারী গিফ্ট
নিয়ে ব্যস্ত অনেক বেশি।
কাউকে বলতে শুনি না ফেব্রুয়ারী এসেছে আমি এবার
শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে ফুল
দিতে যাব, প্রভাতফেরীতে দাঁড়াব,
ভাষা সৈনিকদের আত্মার মাগফেরাত
কামনা করব,
পহেলা বসন্তে বাসন্তী রং শাড়ি পরব,
বই মেলায় নতুন লেখকদের বই পড়ব… সবাই
দেখি বলছে ভ্যালেন্টাইন’স
ডে তে “তার” সাথে “ডেট”-এ যাব, অমুক
তমুক গিফ্ট দিব/নেব, কেউ কেউ আবার
হা হুতাশ করছে তার প্রেমিক/
প্রেমিকা নাই কেন! অতি দ্রুত তার
প্রেমিক/প্রেমিকা দরকার (একদিনের
জন্যে হলেও!)। আজকাল অনেকেই
(বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম) ইংলিশ
শিখতে অনেক বেশি সচেতন।
সর্বক্ষেত্রেই ইংলিশের প্রাধান্য এখন,
খুবই স্বাভাবিক, আন্তর্জাতিক
ভাষা বলে কথা। দেশ, জাতি আর নিজ
নিজ উন্নতির জন্যে ইংরেজি শিক্ষার
বিকল্প নেই মানি। তাই বলে বাংলার
গুরুত্ব ফেলে দেয়ার মত নয় রে বোকা। এ
ভাষার গুরুত্ব, এ ভাষার ইতিহাসের গুরুত্ব
ফেলে দেয়ার মত নয়। আন্তঃর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস
বলে যে দিনটা পৃথিবীর
বুকে আছে তা আমার দেশের আমার
ভাষার গৌরবমন্ডিত এক ইতিহাসের
সুতোয় গাঁথা। অবাক হয়ে যাই যখন
ইংলিশ
মিডিয়ামে পড়া বাচ্চাগুলো ইংলিশ
একসেন্টে বাংলা বলে!! ইংলিশ
মিডিয়াম এডুকেশানের বিরুদ্ধে নই
আমি। আমি তো কেবল আমার ভাষার
শুদ্ধতা আর এর যথাযথ সম্মানের পক্ষে।
আমি ভ্যালেন্টান’স ডের বিরুদ্ধেও নই।
সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন এন্সিয়েন্ট রোম
সৈনিকদের বিয়ে প্রথার প্রচলন
করতে গিয়ে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হন। বলা হয়,
তিনি কারারুদ্ধ থাকা কালীন
সময়ে তৎকালীন জেইলরের কন্যার
প্রেমে পড়েন এবং তার মৃত্যুদন্ড
কার্যকরের পূর্বে তার
প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করে একটি পত্র
লিখেন যেখানে লেখা ছিল “from your
Valentine”. আমি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন
কিংবা পৃথিবীর যেকেনো শুদ্ধ
প্রেমের বিরুদ্ধেও না। ভালোবাসা-
বাসিরাই তো এই নির্জীব মাটির
পৃথিবীতে চিরদিন জীবনের প্রাণ
সঞ্চার করে এসেছে। কিন্তু নিরাশার
কথা এই যে, আমি এই প্রজন্মের কাছে শুদ্ধ
ভালোবাসাটাও
আশা করতে পারি না। দিন দিন এই
আত্মার বন্ধনের ভালোবাসাকে মন
ফেলে দেহ কেন্দ্রীক
হতে দেখছি কেবল, ইংরেজি, ফ্রেন্স
আর হিন্দি ভাষার কাছে প্রতি নিয়ত
নিজের আত্মার ভাষাকে অপমান
হতে দেখছি কেবল, তরুণ লেখকদের
ভাষাজ্ঞান দেখে সাহিত্যের
অজ্ঞান অবস্থা দেখছি আর শহীদ
মিনারে ফুলের
বদলে সারি সারি প্রেমিক যুগলের
মুষ্ঠিমেয় দু’টো হাত আর তাদের
জোড়া জোড়া স্যান্ডেল ছাড়া আর
যেন কিছুই দেখতে পারছি না…

জানি, গুনতে গেলে এখনও
প্রজন্মে অনেক সচেতন তরুণ আছে আমার
দেশে… যারা তাঁদের ভাষাকে সম্মান
করতে জানে, জানে বাঙ্গালীর
ইতিহাসের গুরুত্বগাঁথা, তাঁরা সম্মান
করতে জানে পবিত্র ভালোবাসা ও
তাঁদের ভালোবাসার মানুষগুলোকে,
হাজার টাকার “শো অফ” কিংবা “গিভ
এন্ড টেক” প্রথার উপহারের
চেয়ে এখনো তাঁরা মন
থেকে ভালোবেসে তুলে দেয়া একটি ঘাস
ফুলকে তাদের
ডায়েরীতে গুঁজে রাখে, তাঁদের হাত
কেবল প্রেমিক/প্রেমিকার মুষ্ঠিতলেই
নয় আলোর মিছিলেও দৃশ্যমান হয়, ব্যয়বহুল
ভ্যালেন্টাইন’স স্পেশাল ড্রেস
ব্যতিরেখে বাসন্তী রঙের সাধারণ
সুতি শাড়িতেই তাঁরা নিজেদের
সুখি করে নিতে জানে,
তাঁরা সাহিত্যে অশ্লিলতার বীজ
বুনে খ্যাতিমান হওয়ার চেয়ে শিল্পের
ছোঁয়ার নর্দমায় সুবাস
ছড়িয়ে দিয়ে দিন শেষে নিজেদের
সাধারণ দাবি করতেই ভালোবাসে…
নিজেকে স্বঘোষিত “সুপারম্যান”
দাবি করতে আসে না তাঁরা।
তাঁরা বিশ্বমানের জ্ঞান
রাখতে জানে, নতুন কিছু শেখার, কিছু
করে দেখানোর অদম্য
ইচ্ছে শক্তি তাদের রক্তে দেখি অথচ
অহংকার দেখি না। সংখ্যায় কম
হতে পারে তাঁরা কিন্তু একান্তই নগণ্য
নয় কখনই।

সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলের অন্তরে সৎ
আশা, পবিত্র ভালোবাসা, আর শুদ্ধ
ভাষা ও জ্ঞানের প্রদীপ
জ্বালিয়ে দিন। তরুণ প্রজন্ম
নিয়ে বাংলাদেশ গর্বিত হোক
যুগে যুগে… এটাই তো চাওয়া।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×