somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাটির ময়না ২০০২ সালের একটি ফিচার চলচ্চিত্র

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাটির ময়না ২০০২ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কিত একটি বাংলাদেশী ফিচার চলচ্চিত্র । চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালের বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রের কাহিনি এবং চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা করেন তারেক মাসুদ। প্রযোজক করেন ক্যাথরিন মাসুদ। অভিনয়ে ছিলেন, নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লামিসা রিমঝিম প্রমুখ।
এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বেগের পটভূমিতে তারেক মাসুদের ছেলেবেলার মাদ্রাসা জীবনের অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে ঐতিহাসিক ঘটনার উদ্ধৃতি থাকলেও সেগুলো একটি কিশোরের মানবিক অভিজ্ঞতায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদ্রাসায় তার শিক্ষক ও সহপাঠীদের আচরণ আর পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটির কাহিনী এগিয়ে যায় ।প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করা হলেও পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ বাতিল হবার পর ২০০৫ সালের ১৬ই এপ্রিলে লেজার ভিশন কর্তৃক চলচ্চিত্রটির ভিসিডি এবং ডিভিডি সংস্করণ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি পুরস্কার প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বাংলাদেশের মনোনয়ন লাভ করেন।
চলচ্চিত্রটির কাহিনী এগিয়ে চলে ষাটের দশকের উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপট হতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের সময়ের একটি পরিবার কিভাবে যুদ্ধ এবং ধর্মের কারণে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তার গল্প নিয়ে । পরিচালকের নিজের ছোটবেলার কাহিনীর জীবনের উপর ভিত্তি করে এই চলচ্চিত্র এর কাহিনী গড়ে তুলেন।


অত্যন্ত ধার্মিক বাবা কাজী সাহেব তাঁর ছোট্ট ছেলে আনুকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আনুর মাদ্রাসাতেও চরম এবং মধ্যপন্থী মতবাদের বিকাশ ঘটতে থাকে। বিভক্তির এই একই চিত্র দেখা যায় গোঁড়া ধার্মিক কাজী ও তাঁর স্বাধীনচেতা স্ত্রী আয়েশার মধ্যে । ধর্মীয় উদারতা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ইসলামের দুর্বোধ্যতা এই সব কিছু মিলিয়ে মাটির ময়না জাগতিক দ্বন্দ্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিকৃতি।
তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদের মতে, চলচ্চিত্রটির প্রায় পুরোটুকু স্থানীয় অ-পেশাদার পরিবেশে ও স্থানীয় শব্দগ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফিতে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় ঋতু বৈচিত্র্য ও উতসবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
নুরুল ইসলাম বাবলু – আনু চরিত্রে ।
রাসেল ফরাজী – মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, আনুর বন্ধুর চরিত্রে ।
রোকেয়া প্রাচী – আয়েশা, আনুর মা এর চরিত্রে ।
শোয়েব ইসলাম – মিলন, আনুর চাচা এর চরিত্রে ।
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় – কাজী, আনুর বাবার চরিত্রে ।
লামিসা রিমঝিম – আসমা, আনুর ছোট বোনের চরিত্রে ।
মঈন আহমেদ – ইবরাহিম, মাদ্রাসার শিক্ষক চরিত্রে ।
মোহাম্মদ মোসলেমউদ্দিন – মাদ্রাসার প্রধানশিক্ষক চরিত্রে ।
শাহ্ আলম দেওয়ান – করিম মাঝির চরিত্রে ।
আবদুল করিম – হালিম মিয়া চরিত্রে ।

এবং আরো অন্যান্য অনেকে অভিনয় করেছেন ।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন - তারেক মাসুদ ।
এবং প্রযোজনা করেছেন - ক্যাথরিন মাসুদ ।
আর চিত্রনাট্য ছিলেন - তারেক মাসুদ এবং ক্যাথরিন মাসুদ ।
প্রধান সিনেমাটোগ্রাফী ছিলেন - সুধীর পালসনে ।
আর অতিরিক্ত সিনেমাটোগ্রাফী ছিলেন - মাকসুদুল বারী ও রঞ্জন পালিত ।
এবং সম্পাদনা করেছেন - ক্যাথরিন মাসুদ ।
শব্দ গ্রহণে ছিলেন - ইন্দ্রজিত নিয়োগী ।
শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন - কাজী রকিব ও সিলভেইন নাহমিয়াস এবং তরুণ ঘোষ ।
সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন - মৌসুমী ভৌমিক ।
শব্দ সংযোগ ছিলেন - রতন পাল ।

সম্মাননা এবং পুরস্কার
ফিপরেস্কি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস্ এওয়ার্ড কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ২০০২
সেরা চলচ্চিত্র ও ২ টি অন্য পুরস্কার, কারাফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, পাকিস্তান ২০০৩
সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালক, চ্যানেল আই ফিল্ম এওয়ার্ড, ২০০৩
সেরা চলচ্চিত্র ও ৫ টি অন্যান্য পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, ২০০৩
বিদেশী ভাষার অস্কার পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশের প্রথম মনোনীত চলচ্চিত্র
ফরাসি সরকারের সাউথ ফান্ড কর্তৃক স্ক্রিপ্ট (চিত্রনাট্য) এওয়ার্ড।



সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪০
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৪৮ ঘণ্টায় সামু'র সর্বোচ্চ পঠিত ২ ব্লগার হচ্ছেন - অপলক এবং সৈয়দ কুতুব

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১৭

গতকাল রাত ৮টা ১২ মিনিট থেকে এখন রাত ৯ টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত সামুতে পোস্ট এসেছে মোট ১৬টি, আমার এই পোস্টটি ছাড়া।
এই পোস্টগুলোতে উত্তর ও প্রতিউত্তর মিলিয়ে কমেন্টেসের সংখ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×