somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেনে নিন বাংলাদেশ মোটরযান বিষয়ক আইন ।

০৬ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাস্তায় বা রোডে মোটরযান চালাতে হলে পৃথিবীর সব দেশেই কিছু আইন আছে । সেরকম আমাদের বাংলাদেশেও কিছু আইন আছে যা আমাদের সবারই জানা প্রয়োজন এবং সে আইনগুলো মানাও উচিৎ। । ড্রাইভিং লাইসেন্স ইন্স্যুরেন্সসহ গাড়ির নানা কাগজপত্র থাকতে হয় এবং এটা থাকা অবশ্যয় প্রয়োজনীয়। আর চাওয়া মাত্রই সেগুলো ট্রাফিক সার্জেন্ট বা সংশ্লিষ্টদের দেখাতে হয়। আর ওসব কাগজ যদি অপারগ হয় বা ত্রুটি থাকে তাহলে বিভিন্ন মেয়াদে জেল-জরিমানা গুণতে হয়। গাড়িটিও চলে যেতে পারে থানায় বা ডাম্পিংয়ে।আরো লক্ষনীয় নিয়মিত চেকিংয়ের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্ট বসিয়েও গাড়ির কাগজপত্র যাচাই করে ট্রাফিক বিভাগ বা বিআরটিএ। এই ধরণের আইনি ঝামেলা এড়াতে দুই চাকার হোক আর চার চাকারই হোক, গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামার আগে আইন কানুন জেনে প্রস্তুত হয়ে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামাই মঙ্গল।

এবার জেনে নেয়া যাক মোটরযান আইনের প্রধান কিছু ধারাঃ

ধারাঃ ১৩৮। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো : কোনো ব্যক্তি ৩ ধারা (১) উপধারা লংঘন করে লাইসেন্স ছাড়া কোন গাড়ি সে দুই চাকা বা চার চাকা হোক চালালে সর্বোচ্চ চার মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ শাস্তি পেতে হবে।

ধারাঃ ১৩৯। নিষিদ্ধ হর্ণ কিংবা শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র লাগানো এবং ব্যবহারঃ যদি মোটরযানে এমন ধরণের হর্ণ বা শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র সংযোজন বা ব্যবহার করা হয় যা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ প্রণীত কোন বিধি বা প্রবিধান মোতাবেক নিষিদ্ধ, তা হলে নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ একশ` টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।

ধারা: ১৪১। লাইসেন্স সংক্রান্ত অপরাধসমূহঃ

১। এই অধ্যাদেশ অনুসারে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য কোনো ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে কোন মোটরযান চালালে কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স যোগাড় বা এর জন্য আবেদন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য হওয়ার পর পূর্ববর্তী ড্রাইভিং লাইসেন্সের এনডোর্সমেন্টের কথা প্রকাশ না করে পুনরায় ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা পাঁচশ` টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২। এই আইন অনুসারে কন্ডাক্টরস লাইসেন্স ধারণ করার ও পাওয়ার অযোগ্য কোন ব্যক্তি প্রকাশ স্থানে `স্টেজ-ক্যারেজ` করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড কিংবা দুইশ` টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় শাস্তি পেতে হবে।

৩। মোটরযান চালানোর সময় এই আইন অনুযায়ী কর্মরত যে কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক চাওয়ামাত্র বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখাতে হবে। অন্যথায় পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করা হবে।

ধারাঃ ১৪২। নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে : এমন অপরাধের জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক তিনশ` টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং তৎপরবর্তী অনুরূপ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স অনধিক এক মাস মেয়াদের জন্য সাসপেণ্ড করা হবে।

ধারাঃ ১৪৩। বেপরোয়াভাবে কিংবা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালালে : প্রথমবার এই অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড কিংবা পাঁচশ` টাকা জরিমানা হবে এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স একটা নির্ধারিত মেয়াদের জন্য সাসপেন্ড থাকবে।

ধারাঃ ১৪৪। মদ্যপান কিংবা মাদকদ্রব্য সেবনের পর মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালালে : গাড়ির উপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে অক্ষম, এমতাবস্থায় যদি কেউ গাড়ি চালান কিংবা চালানোর চেষ্টা করেন, তবে অনুরূপ অপরাধ প্রথমবার সংঘটনের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হবে।

ধারাঃ ১৪৫। শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো : প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ শ` টাকা জরিমানা হবে এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নিদিষ্ট মেয়াদে বাতিল করা হবে।

ধারাঃ ১৪৭। কতিপয় অপরাধ করতে সহায়তার জন্য শাস্তি : কোন ব্যক্তি ১৪৩ কিংবা ১৪৫ ধারা অনুযায়ী কোন একটি অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করলে তিনি সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হবেন।

ধারাঃ ১৪৮। মোটরগাড়ির দৌড়বাজি কিংবা গতি পরীক্ষা : এ ধরণের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড অথবা পাঁচশ` টাকা জরিমানা কিংবা উভয় শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করা যেতে পারে।

ধারাঃ ১৪৯। নিরাপত্তাবিহীন অবস্থায় গাড়ি ব্যবহার : সর্বোচ্চ এক মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক দুইশ` পঞ্চাশ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন। সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড কিংবা সর্বাধিক এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হবে।

ধারাঃ ১৫০। ধোঁয়া বাহির হওয়া মোটরযান ব্যবহার : স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ধোঁয়া বের হওয়া গাড়ি প্রকাশ্য স্থানে চালালে সর্বোচ্চ দুইশত টাকা জরিমানা হবে।

ধারাঃ ১৫১। এই অধ্যাদেশের সাথে সঙ্গতিবিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রি অথবা গাড়ির পরিবর্তন করা : সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড কিংবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

ধারাঃ ১৫২। রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা পারমিট ব্যতীত মটরগাড়ি ব্যবহার : কোনো ব্যক্তি ৩২, ৪৭, ৫১ (১) উপধারা অনুযায়ী পারমিট ব্যতীত মোটরগাড়ি চালালে প্রথমবারের অপরাধের জন্য সর্বাধিক তিন মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ধারাঃ ১৫৪। অননুমোদিত ওজন অতিক্রমপূর্বক গাড়ি চালানো : কোনো ব্যক্তি ৮৬ অথবা ৮৮ ধারার অধীনে আরোপিত কোন নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে অর্থাৎ অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত ওজন নিয়ে গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানা।

ধারাঃ ১৫৫। অবীমাকৃত মোটরযান চালানো : কোনো ব্যক্তি ১০৯ ধারার বিধান লংঘন করে অর্থাৎ বীমা না করে কোন মোটরযান চালালে কিংবা চালানোর অনুমতি দিলে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা জরিমানা হবে।

ধারাঃ ১৫৬। অনুমতি ব্যতীত গাড়ি চালালে : কোনো ব্যক্তি কোনো মোটরযানের কিংবা অন্য কোনো আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সংশ্লিষ্ট মোটরগাড়ি চালিয়ে বাইরে গেলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বাধিক দুই হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় শাস্তি পাওয়ার যোগ্য হবেন।

ধারাঃ ১৫৭। প্রকাশ্য সড়কে অথবা প্রকাশ্য স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি : সর্বোচ্চ পাঁচশ` টাকা জরিমানা হবে এবং অনুরূপ মোটরযান কিংবা খুচরা যন্ত্র বা জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।

ধারাঃ ১৬০। ওয়ারেন্ট ব্যতীত গ্রেফতারের ক্ষমতা : এক ইউনিফরমধারী পুলিশ অফিসারের সামনে কেউ ৩২, ৫১, ১৪৩, ১৪৪, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৫৪ কিংবা ১৫৬ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ করলে তিনি উক্ত অপরাধীকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবেন।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:১৮
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রতিদ্বন্দ্বী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৮


গফুর মিয়া অভাবের তাড়নায় গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছিল। সংসারে মানুষ মোট ছয়জন, গফুর, তার স্ত্রী আর চার সন্তান। দুই সন্তান হওয়ার পর তার স্ত্রী আর সন্তান নিতে চায়নি। সে গফুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:১৪


পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সমস্যা এবং ওয়েবসাইটে ক্যাপচা এরর (Invalid site key) সংক্রান্ত।


প্রিয় সামু সাপোর্ট টিম,
আশা করি ভালো আছেন। আমি সামহোয়্যার ইন ব্লগের একজন নিয়মিত পাঠক ও লেখক। দীর্ঘদিন ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×