somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাল্য বিবাহ সম্পর্কিত নতুন আইন

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সভ্যতা যতো এগিয়ে যাচ্ছে মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ততোই কমছে,আমাদের মা চাচিরা কোন এক সময় মসলা বেটে রান্না করে আমাদের খাইয়েছেন,এখন আর সে প্রচলন নেই অধিকাংশ রাধুনী মেশিনে গুড়া করা মশলা ব্যাবহার করে।
এখনকার কোনো মেয়েকে যদি বলা হয় মশলা বেটে রান্না করে খাওয়ানোর কথা তাহলে সে এক কথায় বলে দেবে দোয়াও চাই ক্ষমাও চাই।
কী দরকার এতো কষ্ট করার! যেখানে সামান্য কিছু পয়সা খরচ করলেই গুঁড়া মশলা পাওয়া যাচ্ছে।
এসব করা একটা অভ্যাসেরও ব্যাপার এখনকার মেয়েদের নেই সে ধৈর্য্য কারণ ওরা অভ্যস্ত নয় ওসবে।

আমার যবে জন্ম হয়েছিলো আমার মা প্রসব ব্যাথা সহ্য করতে পেরেছিলেন,আমার ছোট ভাই ও বোন উভয়ের বেলায় এই একই জিনিস ঘটেছিলো;
পুরো বিষয়টা নির্ভরশীল সহনশীলতা এবং শারিরীক সক্ষমতার উপর,আমাদের মা চাচিরা সেটা করতে পেরেছিলেন উনারা শারিরীক ভাবেও যথেষ্ট সক্ষম ছিলেন,ছোট বেলায় যখন বৈশাখী ধান তুলা দেখেছি তখন দেখতাম উনারা কতোটুকু পরিশ্রমি ছিলেন আর পরিশ্রম করার ক্ষমতাই শারিরীক সক্ষমতার পরিচয় দেয়।
এখনকার অধিকাংশ মেয়েরাই এটা করতে পারছেনা কারণ সহনশীলতার মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে দিন দিন সেই সাথে পরিশ্রম করার ক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে,এটা শুধু মেয়েদের বেলায়ই নয় পুরুষদের বেলায়ও প্রযোজ্য;প্রাচীন কাল থেকেই পুরুষ অনেক শক্তির অধিকারী কারন তারা তখন থেকেই শক্তির কাজ করে করে অভ্যস্ত কিন্তু এখনকার পুরুষ কতোটা শক্ত সামর্থ্য?
একটু হাটলেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে হন্য হয়ে রিক্সা খোঁজে।
এটাই বোঝাতে চাচ্ছি সভ্যতা যতো উন্নতির দিকে এগুচ্ছে মানুষের সহ্য করার মাত্রা ততোই কমছে।
কয়েক হাজার বছর আগের একটা দিক নির্দেশনা থাকে এরকম "মেয়েরা ১৬ বছর বয়সেই বিবাহ যোগ্য হয়ে পড়ে"
সেটা যে এখনও যথাযথ হবে সেটাও তো ঠিক না পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করা আবশ্যক বটে।
হাসপাতালের রেজিস্টার খাতা খোললে মিলবে,মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত পরিবারের বেশীরভাগ মেয়েই বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে সিজারের মাধ্যমে ওরা প্রসব ব্যাথা সহ্য করতে পারছেনা।
আমি এটার সমালোচনা করছিনা কারণ এমনতো কোনো কথা নেই আমার মা যেহেতু আমার বোনের জন্ম দিয়েছেন সাধারণ ভাবে আমার বোনকেও এই একই উপায় ধারন করতে হবে।

সরকার চিন্তা করছে মেয়েদের বিবাহের বয়স কমিয়ে আঠারো থেকে ষোলতে নামানোর।
কেউ যদি এই যুক্তি দেখান যে আইন যেহেতু ভংগ হচ্ছে সুতরাং এটা পরিবর্তন করে এমন যায়গায় আনা হউক যেখানে আনলে সবাই মেনে নেবে।
তাহলে সেটা অযৌক্তিক-
এরকম মতবাদ আছে আইন বিজ্ঞানে যে "এমন কিছু আইন হিসেবে প্রনয়ণ করা যাবেনা যেটা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ অভ্যাসের বাইরে চলে যায়।"
এই মতবাদ দিয়ে এটা বোঝানো হয়নি যে একটা যায়গায় যদি অধিকাংশ মানুষ প্রকাশ্যে মদ খায় আর এটাই হয় এদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ অভ্যাস,সেটাকেও আইনসম্মত করে দিতে হবে।

ক্ষতিকর অথবা অবৈজ্ঞানিক কোনো কিছুকেই আইন প্রশ্রয় দিতে পারেনা।

একটা ষোড়শীর/সপ্তদর্ষি মেয়ের জরায়ু অতোটা পরিপক্ক নয় যা দিয়ে সে বাচ্চা জন্ম দিতে পারে এতে করে ওর জরায়ুর কিছুনা কিছু হলেও ক্ষতি সাধন হচ্ছে এটাই বৈজ্ঞানিক বিষয়।
এই ক্ষতিটাই ডেকে আনতে পারে মরনব্যধি ক্যান্সারের।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার একটা হুমকির নাম।
বাল্য বিবাহ যদি বৃদ্ধি পায় তবে সমানুপাতিক হারে জরায়ুমুখের ক্যান্সার ও বৃদ্ধি পাবে নিশ্চিত।

বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত এই আইনটার যথাযথ প্রয়োগ যদি না হয়ে থাকে তাহলে সরকারের উচিৎ আইনটাকে কার্যকর করার চিন্তা করা অর্থাৎ কিভাবে সহজে এর প্রয়োগ করা যায় সেদিকে নজর দেয়া।
ধরি একটা যায়গা একটু দুর্গম যেখানে প্রশাসন যেতে অনেক সময় লেগে যাবে অথবা যেখানে যাওয়াটা অনেক ঝামেলার ব্যাপার।
সেক্ষেত্রে এরকমটা করা যেতে পারে:-
প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট একটা ক্ষমতা ন্যাস্ত করা যা দিয়ে তিনি বাল্য বিবাহের ক্ষেত্রে আদেশ প্রদান করতে পারেন যে এ বিবাহ হবেনা কারণ ওটা আইনসম্মত নয়।
কেউ যদি এই আদেশ অমান্য করে তাহলে তার অপরাধ টা এমন হবে যা নির্বাহী বিভাগের আদেশ অমান্য করার শামিল।
এতে করে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমবেনা বরং বাড়বে। এই শিক্ষক যাতে দুর্নিতিগ্রস্থ না হন তার জন্য কিছু বিধিমালা প্রনয়ণ করা যেতে পারে।
নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছেনা এতে বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরকার সমীপে অনুরোধ এই বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে তার পরে আইনটা পরিবর্তন করুন।

পুনশ্চঃ বিবাহের জন্য মানুষিক যে প্রস্তুতি দরকার সেটাও ষোড়শীর ভেতরে অনুপস্থিত।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×