somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্নপত্র ফাঁস আর স্বপ্নবাজদের ফাঁসি।

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা সমাজে যদি একই জিনিস বার বার ঘটতে থাকে তখন সেটা হয়ে যায় একটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।
ইদানীং আমাদের দেশে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াটা হয়ে গেছে একটা নৈমিত্তিক ব্যাপার।
আমি অবাক হবো যদি কখনও এমনটা না হয়।
একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অনুষ্টিত হয়ে যাবে অথচ প্রশ্নপত্র ফাঁস হবেনা!ব্যাপারখানা ভাবতেই আজব লাগে।
প্রগৌতিহাসিক যূগে ছাত্র-ছাত্রীর দল ছুটতো পাড়া অথবা শিক্ষা প্রতিষ্টানের সেরা শিক্ষার্থীটার কাছে,সবাই ধরে নিতো এই মানুষটার সাথে সময় কাটালে কিছু হলেও শিখা যাবে।
এই আধুনিক যূগে এসে ছাত্র-ছাত্রির মধ্যে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে,এই পরিবর্তনটা শুধু ছাত্র-ছাত্রিই নয় পরিবর্তনটা এসেছে এদের মা বাবার মধ্যেও।
ছাত্র-ছাত্রিরা তাদের মা বাবা সহ দল বেধে ছোটে লিংক ওয়ালাদের কাছে।
এই লিংক ওয়ালারা হচ্ছে এ সমাজের জন্য ভাইরাস প্রথমেই এদের বিনাশ করা আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত আমরা এর চূড়ান্ত প্রতিকার চাই।
আগে আমাদের বড় ভাইদের কাছে শুনেছি কেউ নকল করার সময় ধরা পড়লে সাথে সাথেই বহিষ্কার করা হতো।
এখন অবশ্য নকল প্রবনতা কমে এসেছে অনেকটা।
যারা প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে এদের জন্য এরকম একটা ব্যাবস্থা করা দরকার তবে এখানে এই শিক্ষার্থী নামের কলংকটার বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যাবস্থা নেয়া দরকার।তথ্য প্রযুক্তির যূগে এটা করাটা অসম্ভব কিছু নয়।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ইতিমধ্যে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ এদের মধ্যে একজন আছেন চিকিৎসক,একজন একটা কোচিং সেন্টারের মালিক।
এদের কাছে পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার নগদ টাকা এবং ১৩ টি চেক যা ১ কোটি ২১ লাখ টাকা মূল্যর।
কে বা কারা এদের কাছে চেক দিয়েছে?এদেরকে ধরে চির জীবনের মতো মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার স্বাধটুকু মিটিয়ে দেয়াটা একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ইতিমধ্যে এ সম্পর্কিত কোন আইন বিদ্যমান আছে কি না সে সম্পর্কে আমি জানিনা তবে এটা নিশ্চিৎ এই গর্দভ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
আমাদের মন্ত্রীরা ব্যাস্ত গলা বাজিতে।গতকাল দেখলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন আমার নির্দেশে এবার কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়েছে হেন হয়েছে তেন হয়েছে এবছর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি ব্লা ব্লা।
অথচ প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে কোচিং সেন্টার গুলোও আছে বহাল তবিয়তে।
এদেশের মন্ত্রী এম পি মানেই গলাবাজী বিদ্যা,বেঈমানী বিদ্যা দুর্নীতি বিদ্যায় পারদর্শী হবেন।এই গুণটা মন্ত্রী এম পি পর্যায়ের মানুষদের জন্য প্রায় সার্বজনীন।কয়েকটা ক্ষেত্রে অন্তত সিরিয়াস থাকা দরকার।
এসব গলাবাজীতে না থেকে সমাধানে যাওয়ার দরকার।
২০১১ সালে জসীম নামের এক আসামীকে আটক করা হয়েছিলো যে কিনা পরবর্তীতে জামিন বের হয়ে এসেছিলো।আমার প্রশ্ন হলো সে জামীনে বের হয় কীভাবে?কার নির্দেশে?
কেন সে এতো গুরুতর অপরাধ করেও শাস্তির আওতায় আসেনি।যদি ওকে শাস্তি দেয়া হতো ২০১৫ তে এসে সে অবশ্যই আবার এই একই ধরনের অপরাধ করার সুযোগ পেতোনা এবং আইন কিন্তু শাস্তির বিধান রেখেছে অপরাধীকে পুনরায় অপরাধ করা হতে নিবারণ করার জন্যই।
আসলে এগুলো দূর করা অসাধ্য কিছু নয়।
খুব সুন্দর করে কম সময়ের মধ্যেই এসবের সমাধান সম্ভব,তবে যখন মন্ত্রী সকলের সামনে এসে নির্দেশ দেবেন কোচিং বন্ধ করার জন্য আবার অন্যদিকে নিজেই অর্থের যোগান দেবেন কোচিং স্বচ্ছল রাখতে,একদিকে বললেন ধরো অমুককে অন্যদিকে বললেন জামিন দিয়ে দাও।
তখন সমাধান সম্ভব নয়।
এখন সময় স্থায়ী সমাধানের।
দৃষ্টান্ত স্থাপন করা আবশ্যক।
যদি বড় বড় রাঘব বোয়ালেরা অপরাধ করেই ফেলে তখন বিচার বিভাগ এদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যাবস্থা নিক।যখন বিচার বিভাগ অনিয়ম করবে পার্লামেন্ট ব্যাবস্থা নিক,এটাই চেক এ্যান্ড ব্যালেন্স।যখন পার্লামেন্ট দুর্নিতী করবে তখন জনতা নেমে আসুক।এভাবেই চলুক।
রাঘব বোয়ালেরা এটা নিয়ে মাথা ঘামাবেনা কারন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের সাথে এদের স্বার্থ খুব কম জড়িত।
এরাতো চলে যাবে সিংগাপুরে চিকিৎসা করাতে।সুতরাং দেশের ভেতরে যদি ছাগলেরা হয়ে যায় ডাক্তার এদেরতো সমস্যা নাই।
এরা মাথা ঘামাবে সরকারী কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে এর সাথে এদের স্বার্থ জড়িত।২২ লাখ সরকারী কর্মচারী যদি এদের সাথে থাকে তাহলে ১৬ কোটি মানুষ এদের বিপরীতে চলে গেলেও ক্ষমতা থেকেতো সরাতে পারবেনা।
এই যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো এখন যদি সবাই রাস্তায় নেমে আসে,এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আর জড়িতদের শাস্তি হয় তখন একটা সমুচিৎ জবাব হবে,এটা দিতে হবে এখানে আমাদের সকলের স্বার্থ জড়িত।
আমি এই বাংলাদেশটার কথাই ভাবি যেখানে সবাই সচেতন হবেন।
যেকোনো ধরনের নষ্টামি আর ভন্ডামির বিরুদ্ধে রাস্থায় নামবে সভ্য প্রজন্ম।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×