somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি: প্রয়োজনীয়তা ও প্রাথমিক ধারণা।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবৈধ কর্মকান্ডগুলো আজ সমাজ সচেতন মানুষের জন্য বিশাল এক মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুন থেকে শুরু করে ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস, অবৈধভাবে কাউকে রক্তের সম্পর্কের ভাই-বোন হিসেবে চালিয়ে দেয়া, নিজ সন্তানকে অস্বীকার করা, ইত্যাদি অপরাধ প্রতিনিয়ত সংঘটিত হয়েই চলছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীরা হাতেনাতে ধরা পড়ছে, আবার বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে যাচ্ছে। সেই সাথে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরী হয়ে পড়েছে। অপরাধী সনাক্তকরণের জন্য অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন দেশ ও সমাজ বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতি প্রয়োগ করে আসছে। তবে অপরাধীরা নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবনের কারণে সনাতন পদ্ধতিগুলো প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এজন্য অপরাধী সনাক্তকরণ পদ্ধতিরও পরিবর্তন হচ্ছে।

অপরাধী সনাক্তকরণের আধুনিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি অন্যতম। বিজ্ঞানের যে শাখায় মানুষের ভৌতিক গুণাবলীর উপর ভিত্তি করে মানুষকে সনাক্ত করা হয় তাকে বায়োমেট্রিক্স বলা হয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স এর একটি শাখা। ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তিতে আঙ্গুলের ছাপের উপর ভিত্তি করে অপরাধীকে সনাক্ত করা হয়। মানুষের চলনভঙ্গী, মুখমন্ডল, স্বাক্ষর, ইত্যাদি ফীচার সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন বা নকল করা হতে পারে বিধায় অপরাধী সনাক্তকরণে এগুলোর উপর নির্ভর করা যায় না। অন্যদিকে প্রত্যেক মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সম্পূর্ণ ইউনিক এবং সারা জীবন ধরে অপরিবর্তিত থাকার কারণে অন্য যে কোন ফীচার-ভিত্তিক প্রযুক্তির চেয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট-ভিত্তিক প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে নির্ভুল ও কার্যকরী। প্রতিটি ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট এতটাই স্বাতন্ত্র্য যে, দেখা গেছে দুটি যমজ শিশু একই ডিএনএ প্রোফাইল নিয়ে জন্মালেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে তাদের আলাদা করা যায়। অপরাধী সনাক্তকরণ ছাড়াও কারো প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং অফিস-আদালতের প্রবেশপথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এ পর্যন্ত যা বোঝা গেল তা হচ্ছে পৃথিবীতে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং অপরাধীদেরকে সনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে, যেগুলোর মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি একটি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অপরাধীরা অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট কী করে সংগ্রহ করা হয়। অপরাধী যেহেতু কোন না কোন কিছুর (সাধারণত মেটাল, গ্লাস বা প্লাস্টিক এর তৈরী কিছু) উপর তার হাত রাখবেই সেহেতু সেখান থেকেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট যোগাড় করা যায়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের জন্য কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে কিছু কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যা দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও পরে নক্সা পরিস্ফুট করা হয়। সম্প্রতি স্কটিশ গবেষকরা কাপড় থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়ার সহজ একটি উপায় উদ্ভাবন করেছেন। ডান্ডি-এর গবেষকরা সোনা এবং দস্তা ব্যবহার করে কাপড় থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তুলে আনার এই পদ্ধতি বের করেছেন। তবে এই লেখাতে ধরে নেয়া হচ্ছে যে আমাদের কাছে অপরাধীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট আছে। সেক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করা যাবে কী করে।

ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি যেভাবে কাজ করে: প্রথমে কোন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে অপরাধীর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়। তারপর ইতোমধ্যে ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা জানা ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত অজানা ফিঙ্গারপ্রিন্টের তুলনা বা ম্যাচ করা হয়। ডাটাবেজে সংরক্ষিত কারো ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে যদি ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ করে তাহলে তাকে অপরাধী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয় কিংবা ম্যাচিং-এর উপর নির্ভর করে আরো কিছু তথ্য-প্রমাণ দেখা হয়। তবে ডাটাবেজের মধ্যে অপরাধী সনাক্ত করা না গেলে আরো অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। এজন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতেই মূলত ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং মূলত তিনভাবে করা হয়: খালি চোখে দেখে ম্যাচিং, যেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী; ম্যাগনিফাইয়িং গ্ল্যাস দিয়ে দেখে ম্যাচিং; কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ম্যাচিং।

কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং একটি প্রক্রিয়া যেখানে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইমেজকে স্ক্যান করে ডাটাবেজে সংরক্ষিত অনেক ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে তুলনা করে দেখা হয় কোন প্রকার ম্যাচ আছে কিনা। ইমেজ ম্যাচিং প্রক্রিয়াকে কোরিলেশন বলা হয়। Matched filter ব্যবহার করে দুটি ইমেজের মধ্যে কোরিলেশন বের করা যায়, যেটি ম্যাটল্যাবে হচ্ছে সিগনাল প্রসেসিং ফিল্ডে সর্বাধিক ব্যবহৃত টুল) সহজেই করা যায় বিধায় বিস্তারিত লিখা হচ্ছে না। আগ্রহী পাঠক নীচের ভিডিও থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং এর উপর একটা ধারণা পেতে পারেন।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×