পাহাড় ঘেরা অপূর্ব সুন্দর দেশ ভুটান। প্রকৃতিদেবী এখানে এতই অকৃপন আর উদার যে, ভুটানের সবকিছুই আপনার মনে ছবির মতো সাজানো । গরমে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং শীতে প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাসের প্রকোপ থেকে বাচঁতে মার্চ থেকে মে এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে যাওয়াই সবচেয় ভাল । আগেই বলেছি, পুরো ভুটান দেশটাই ছবির মতো সাজানো। আধুনিকতার যেনতেন ছড়াছড়ি নেই এখানে বরং সবুজ পাহাড়, অাঁকাবাঁকা সাজানো পথ, মাথার উপরে নীল আকাশ আর পেঁজা তুলার মতো এলোমেলো মেঘের ছড়াছড়ি। ভুটানের বাড়িঘর, দোকানপাট সবই কাঠের । অপূর্ব তার নক্শা। ভুটানের রাজধানী থিম্পু। পাহাড়ী শহর। পাহাড়ের কোলঘেঁষে বয়ে চলছে হু নদী। নদীর ওপারেই হিমালয়ের সুউচ্চ শুভ্রতা । থিম্পুর রাজবাড়ি দেখার মতো সুন্দর ,হাপনা, কিন্তু উপায় নেই ভেতরে যাওয়ার। বাইরে থেকেই দেখতে হবে। প্রচুর দুর্গও আছে থিমপুতে।স্থানীয় ভাষায় বলে গুম্ফা। এর মধ্যে রাজ জিগমি দোয়াজি ওয়াংচুকের স্নরনে নির্মিত গুল্ফাটি খুবই সুন্দর। দেওয়ালে কারুকাজ এবং গম্বুজের বাহারি নকশা প্রাচীন ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে। যেতে পারেন মীন তেখা জং দুর্গে। বিশাল বৌদ্ধমূর্তি আর দেয়ালচিত্রের অপূর্ব সমারোহ। এছাড়াও থিম্পুর চিচেন চোলিং রাজপ্রাসাদ, চেরি গুল্ফা, বিশাল ফলের বাগান, চারুশিল্প সংগ্রহশালা পযটর্কদের বিমোহিত করবে।
থিম্পু ছাড়াও যেতে পারেন পারোতে। থিম্পু থেকে 64 কি.মি দুরে একদিকে সবুজ উপত্যকা ধবল শৃঙ্গ আর এলোমেলো এ সব নিয়ে পারো নদী। গাড়িতে বা বাসে যাওয়া যায়। সময় লাগে মাত্র 2 ঘন্টা তবে নিয়মিত বাস পাওয়া যায় না বলে গাড়ি ভাবা করো যাওয়াই ভাল। অবশ্য পারোতে থাকার ব্যবস্থা খুব ভাল নয়। তবে খুব সকালে গিয়ে রাতের আগে ফিরে আসাই ভাল। এখানে এলে অবশ্যই ন্যাশনাল মিউজিয়াম, তাংজ এ যেতে ভুলবেন না। প্রাচীন দুর্গে এই মিউজিয়ামটি করা হয়েছে। ওয়াল, পেইন্টিং, স্টাফ করা বন্যপ্রানী, বর্নিল পাথর,উপাসনাগার আর অস্ত্রের প্রদর্শনী হয় এই জাদুঘরে। ভুটানে আরও যেতে পারেন টাংসা কিংবা পুনখাতে।
কীভাবে যাবেন ঃ
বাংলাদেশ থেকে ভুটানে স্থল এবং আকাশ উভয় পথে যাওয়া যায়। অব্যশ স্থলপথের খরচ অনেক কম। স্থলপথে যেতে হলে ঢাকার গাবতলী থেকে রাতের গাড়ীতে লালমনিরহাটের বুড়িমারী বর্ডার। ইমিগ্রেশন ঝামেলা শেষ করে চ্যাঙরাবান্দা থেকে ভুটানের ফুনশিলং 110 কিমি পথ বাস বা জিপে যেতে হবে। সময় লাগবে আড়াই/তিন ঘন্টা এছাড়া কলাতার এসপ্লানেড বাস স্পপেজ থেকে ভুটানের বাস ছাড়ে। গন্তব্য সেই ফুনশিলং। সময় লাগে 16 থেকে 17 ঘন্টা। বাস ভাড়া 300। ফুনশিলং এ একদিন থেকে সেখান দেখতে পারেন অপূর্ব বেশকিছু দর্শনীয় স্থান। পরের দিন আট/নয় ঘন্টার জার্নিতে পৌঁছাতে পারবেন থিম্পুতে। বাস বা গাড়ি ভাড়া করেই যাওয়া যায়।
ভিসা পাওয়ার নিয়মকানুনঃ
যদি ভারত বা অন্য দেশ হয়ে ভুটান ভ্রমন করেন, তাহলে কোন ভিসার প্রয়োজন নেই, তবে ভারতের রি-এন্টি ভিসা নেবেন। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ভুটান যেতে চাইলে ভুটান দুতাবাস থেকে একটি অনুমতি প্রত্র সংগ্রহ করতে হয়। অনুমতিপ্রত্রটি নিম্ন ঠিকানা থেকে ভুটান দুতাবাস প্রদত্ত একটি নিদিষ্ট ফর্ম পুরণ করে সংগ্রহ করতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


