somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হে ক্ষণিকের অতিথি

২৪ শে জুলাই, ২০১৬ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বয়সটা তখন ১৫-১৬। বড়রা বলে ভূলের বয়স, চোখে রঙ্গিন চশমা পড়ে থাকার বয়স। সে বয়সে নাকি যা করা হয় সবটাকেই ঠিক মনে হয়। বাবা-মার সব কথাকেই ভূল মনে হয়। বাবা-মাকে বড় অত্যাচারী মনে হয়। আজ ৩৫ পেরোনো মেঘলার সে বয়সের কথা মনে পড়লে হাসি পায়। বাবা-মা ছাড়া কে আছে বন্ধু তার!! বড় ভাই যেন আজো তার দুষ্টুমির সঙ্গী। কিন্তু শুধুই কি হাসি পায়। ফেলে আসা সেই ১৫-১৬ বছর কি আর কোন অনুভূতি তাকে দেয় না? বুকে কাঁপন জাগানো এক অদ্ভুত অনুভূতি, যার দেখা সেই বয়সে সে প্রথম পেয়েছিলো।

মেঘলার সাথে ধ্রুবর পরিচয় বাংলা ক্যাফেতে। ভাই এর কম্পিউটারে লুকিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতো সে। তখন তো কম্পিউটার ব্যবহার করাই তার মা বিশেষ পছন্দ করতেন না। গেম খেলছি বলে মেঘলা ঢুকতো বাংলা ক্যাফেতে। সেখানেই পরিচয় হলো ধ্রুবর সাথে। একটি দুটি কথা। তারপর রোজ তার সাথেই কথা। সময়ও ঠিক করে নিলো তারা কোন সময় কথা বলবে। ধ্রুবর কন্ঠ শোনার জন্য পাগল হয়ে উঠল মেঘলা। একদিন বলে বসলো-‘আপনার ফোন নম্বরটা দিন তো’। ধ্রুব দিয়ে দিলো।

ফোন করা আর হয়ে ওঠে না। বাসার ফোন, মায়ের মোবাইল কোনটা দিয়েই ঠিক সুযোগ হয়ে ওঠে না। আবার সুযোগ হলেও এমনি বুক ধ্বক ধ্বক করে মেঘলার যে সাহস করে উঠতে পারে না। ধ্রুবর কথা ভাবলেই কেন যেন বুকে অজানা এক কাঁপন ওঠে। কি সেটা? এটাই কি প্রেম? নাকি কিছুই না?

বাংলা ক্যাফেতে কথা চলতে থাকে। একদিন সন্ধ্যা বেলা হঠাৎই ফোন করে ফেলল মেঘলা। কেবল একটি কথাই বলতে পারলো সে-‘আপনি কি বোঝেন না আমি আপনাকে ভালবাসি’? আবেগে গলা বুজে এলো তার। ফোনটা কেটে দিলো। ধ্রুবও আর ফোন করলো না। হয়তো বাসায় ফোন করে বিপদে ফেলতে চায়নি মেঘলাকে। তার বাবা-মা যে অনেক কড়া তা জানতো সে।

পরদিন ধ্রুবর সাথে বাংলা ক্যাফেতে কথা হলো মেঘলার। ধ্রুব বললো- ‘আমি বুঝতে পারছিলাম তুমি আমাকে ভালবেসে ফেলছো। আমার হয়তো তোমাকে আটকানো উচিৎ ছিলো। কিন্তু কেন যে পারলাম না কে জানে। হয়তো আমিও তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি বলে।’ মেঘলা সেদিনই জানতে পারল ধ্রুবর বয়স ২৯। সে তার থেকে অনেক বড়। মনের কাছে যুক্তি কাজ করলো না। মেঘলার মনে হলো এ মানুষটিকে ছাড়া সে বাঁচবে না। ধ্রুব ম্যাচিওর মানুষ। বার বার বোঝালো মেঘলা তোমার বাসায় মানবে না। তুমি ভেবে দেখো। মেঘলার মনে হলো সে এ মানুষটিকে নিয়ে দ্বিতীয় আর কিছুই ভাবতে চায় না। কেবল ভালবাসতে চায়, পাশে পেতে চায়।

অতি দ্রুত খুব আপন হয়ে উঠল তারা। দেখা করার তো কোন উপায় নেই। কখন কোচিং এ যাবে মেঘলা, সে রাস্তায় এসে দাঁড়াতো ধ্রুব। এক পলকের দেখা। স্কুলের সামনে একটু দেখা। বেশ চলছিলো। কিন্তু ওই যে!! ১৫-১৬ বছরের উচ্ছলতা। প্রকাশ করে দিলো বাসায় ধ্রুবর অস্তিত্ব। নেমে এলো ভয়ানক দুর্দিন। মা-বাবার কঠোরতা মাত্রা ছাড়ালো। সব আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে গেল কি ভয়ানক পাপ করেছে সে। মেঘলার মা মেঘলাকে বললেন-তুই যদি এ সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে না আসিস, তাহলে আমি আত্মহত্যা করবো। কি হতো মেঘলা জানেনা। যদি মা সত্যি সত্যিই... মাকে কথা দিল সে ধ্রুবর সাথে সম্পর্ক রাখবে না। মেঘলা কথা রেখেছিল। ধ্রুবর - চলে এসো আমার কাছে, তোমার সব দায়িত্ব আমার- এ আহ্বান তুচ্ছ করে সে ফিরিয়ে দিয়েছিলো ধ্রুবকে। ওইটুকু বয়সেই যেন মেঘলা হঠাৎই অনেক বড় হয়ে গেল।

মেঘলা জানেনা ধ্রুব কেমন আছে। হয়তো সংসারী হয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাল আছে। আবেগ ভরে স্ত্রীকে ডাকছে-আমার অথৈ, আমার অথৈ। ঠিক যেভাবে মেঘলাকে ডাকত। অথবা সে হয়তো আজও মন প্রাণ উজাড় করে মেঘলাকেই ভালবাসে। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তাকে ভাবে। ঠিক মেঘলার মতো।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×