somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কনসার্ট করে মাদক নিরাময় কোনদিন সম্ভব নয়।

২৭ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন আগে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরতে গেলাম। টিএসসির পিছনের দিকটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আড্ডা দেয়। সেই আড্ডার স্থল থেকে গাজার ধোঁয়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে মুখোরিত(!) করে রাখে! বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের অবস্থা যদি এই হয়ে থাকে, তাহলে গোটা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কি অবস্থা! আপনাদেরকে দু’টো ঘটনা বলি!

ঘটনা নংঃ১
রংপুর জেলার একটি বিখ্যাত হাইস্কুলে পড়াশুনা করত মাহমুদ! সে ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টফুলে বৃত্তি পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সে ক্লাস এইটেও বৃত্তি পায়। সে ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান। বাবা মায়ের অসীম ভালোবাসা এবং অগাধ বিশ্বাস ছিল মাহমুদের প্রতি। ঠিক এই সময়ে মাহমুদের বাবা ষ্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে যায়। আর সেই সময় পরিবার পরিচালনার সমস্ত দায় দায়িত্ব মাহমুদের ঘাড়ে চলে আসে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল চোখে পড়ার মত। তখন হিসাববিহীন টাকা পয়সা মাহমুদের পকেটে জমা থাকত। আর এই টাকা পয়সার কারণে কিংবা অন্য কোন কারণে তার পিছনে বন্ধুরা ঘুরতে শুরু করে। আর এই বন্ধুরা তারাই যারা বখে গেছে! ধীরে ধীরে মাহমুদ সিগারেট খাওয়া শুরু করল। সিগারেট থেকে শুরু তারপর তা ইয়াবাতে পৌছে গেল। আর ততোদিনে মাহমুদ হয়ে গেছে তৃতীয় সারির ছাত্র! ৩ পয়েন্ট নিয়ে কোন রকমে এস.এস.সিটা পাস করতে পারলেও তিনি এইচ.এচ.সি আজও টপকাতে পারেন নি। আর এভাবেই মাহমুদ নামের একটি নক্ষত্র মাদকের কারণে ছড়ে পড়ে গেল।

ঘটনা নংঃ২
রংপুরের আর এক ব্যক্তি আবরার। প্রচন্ড মেধাবী এক ছাত্র। ক্লাস এইটে পড়া অবস্থায় মা মারা যায়। মা মারা যাওয়ার পর নানা কারণে তার পরিবারের সাথে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। দূরত্ব বাড়তে থাকে। আর এই সুযোগে সে সিগারেট খাওয়া শুরু করে। সিগারেট থেকে গাজা। এসব নেশার ভিড়েও সে তার পড়াশুনাটা করেছিল এস.এস.সি এইচ.এচ.সি দু’টোতেই জিপিএ ফাইভ অর্জন করে। ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধে উত্তির্ণ হয়ে দেশের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্সে ভতি হয়। কিন্তু ততোদিনে নেশার সঙ্গে তার সম্পর্কটা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তখন হেরোইন সেবন করা শুরু করেছে। আর হেরোইন এতোটাই মারাত্নক নেশা যে আবরারের পুরো জীবনটাকে বিপন্ন করে দিয়েছে। আবরার পড়াশুনা শেষ করতে পারেনি। বাড়িতে ফিরে গিয়ে এখন শেষে ভবঘুরের মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। আর নেশার কাছে এভাবেই আরও একটি নক্ষত্র অকালেই ঝরে পড়ল।

মাদক এখন আমাদের দেশের জন্য মারাত্নক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আর এই ইয়াবা আমাদের পুরো যুবো সমাজটাকে ধ্বংসের মুখে ঢেলে দিচ্ছে। মাদককে প্রতিরোধ করতে সরকারের তরফ থেকে মাঝে মাঝে কনসার্টের আয়োজন দেখি! সেখানে প্রতিপাদ্য স্লোগান থাকে মাদককে না বলুন। কিন্তু এসব কনসার্ট করে কি আর মাদককে নিরাময় সম্ভব। প্রয়োজন সচেতনতা তৈরী করা। সবার আগে আমাদের বাবা মায়েদের সচেতন করা। শিক্ষার্থীদের সচেতন করা। তবেই না আমরা মাদককে প্রতিরোধ করতে পারবো। সচেতনতার বিক্ল্প আর কিছু নেই। আসুন না আমরা মাদককে
না বলি।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×