somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আইএস এর প্রকৃত পরিচয় জানুন..........

২৬ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে আতঙ্কের যেন শেষ নেই। কিছুদিন আগে আতঙ্কের নাম ছিল, তালেবান! যারা নাকি নারীদের শিক্ষা বন্ধ করতে বদ্ধ পরিকর! তাই মালালা কে গুলি করে হত্যার চেষ্ঠা চালিয়েছে। এই এক খবর দিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার সাহায্যে তালেবান কে মানুষের জন্য ‘আতঙ্ক’ রূপে উপস্থাপন করা হল। আর এই আতঙ্কের ফলস্রুতিতে ৬ বছরের বাচ্চা তার বাবাকে ফিসফিসিয়ে বলে, পাঞ্জাবী,পায়জামা পরা এবং মাথায় টুপি দেয়া মানুষ দেখলে আমার ভয় করে। যদি আমাকেও গুলি করতে আসে!

এরপর নতুন আতঙ্ক হিসেবে আর্বিভূত হল ‘আল কায়েদা’। হঠাৎ করে কোথা থেকে কোন ওসামা বিন লাদেন কে ধরে এনে ঘোষনা দেয়া হল, তিনি এই দলের প্রধান। এই দলটির বিরুদ্ধে এফবিআই ২৮ টি মামলার অভিযোগ এনেছে। তার মধ্যে মাত্র দু’টি হামলার কথা আল কায়েদা স্বীকার করলেও বাদবাকি ২৬ টি হামলার কথা না আল কায়েদা স্বীকার করেছে আর না এফবিআই প্রমাণ দিতে পেরেছে! কিন্তু তারপরও তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক জঙ্গি সংগঠন! কারণ তারা মুসলিম! আর বিপরীত দিকে ভারতের উলফা ৭২৮ টি হামলা চালিয়ে এফবিআই এর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদল হতে পারেনি। ভারতের মাওবাদী গেরিলারা ১৪৩২ টি হামলা চালিয়েও এফবিআই কিংবা বিশ্বের কাছে জঙ্গি বলে পরিচিত হয় না। তাদের নিয়ে মানুষ আতঙ্ক বোধও করে না! কারণ তাদের এই হামলার কথা না ভারতীয় মিডিয়া ফলাও করে প্রচার করে না বিশ্ব মিডিয়া প্রচার করে! কারণ এদেরকে জঙ্গি বলে রুপার্ট মারডকদের কোন ফায়দা হাসিল হবে না।

এরপর আর্বিভূত হল আইএস! মানুষ যখন উপরের বর্ণিত দুই জঙ্গি গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় দিন যাপন করছিল, ঠিক তখনই আলাদীনের দৈত্যের মত আইএস এর আগমন ঘটল! সবকিছু তছনছ করে দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল। যথারীতি সব দোষ সেই ইসলামের উপরই গিয়ে পড়ল! কিন্তু বিশ্ববাসীও এটা নিয়ে খুব একটা চুপ করে নেই। আইএস এর মুখোশ উন্মোচনে বিশ্বের বিবেকবান মানুষ বদ্ধপরিকর। তাই তো ব্রিটেনের লেবার পার্টির সদস্য বব ক্যাম্পবেল বলেছেন, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সন্ত্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছে। তিনি ব্রাসেলস হামলার জন্যও ইসরায়েলকে দায়ী করেন। তিনি এপ্রিলে তার ফেসবুক থেকে একটি ছবি শেয়ার করেছেন যাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর শরীরের অর্ধেক অংশ জুড়ে আইএস- কথিত ‘খলিফা’ আবুবকর বাগদাদি যুক্ত রয়েছে।

ছবির মধ্যে লেখা রয়েছে, ‘আইএসই হচ্ছে একমাত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যে সিরিয়া থেকে দুই হাজার মাইল সফর করে প্যারিসে হামলা করতে পারলেও মাত্র ৫২ মাইল দূরে অবস্থিত ইসরায়েলের ওপর হামলা করে না! কারণ, কুকুর কখনও তার নিজ লেজে কামড় দেয় না। কারণ ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ আইএসকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছে।

বব ক্যাম্পবেল অন্য এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরই আইএস ফ্রান্সে দুইবার সন্ত্রাসী হামলা চালায়; জাপান ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরই দুই জাপানি অপহৃত হয় ও আইএস তাদের হত্যা করে; ইন্দোনেশিয়া ফিলিস্তিনের গাজায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার পরই আইএস জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম এই মুসলিম রাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালায়; ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে বেলজিয়াম একটি বৈঠকের আয়োজন করার পরই আইএস ইউরোপের এই দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। আরও কত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটার পর বিশ্ব বুঝতে পারবে যে ইসরায়েলই আইএসকে চালাচ্ছে?

উল্লেখ্য, পৃথিবীতে এমনও একজন ঈমানদার মুসলিম খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা ইসলাঈলকে ঘৃনা করে না। অথচ তথাকথিত ইসলামিক জঙ্গি দল আইএস আজ অবধি ইসরাঈলের ছাঁয়াও মাড়ায় নি। এই ঘটনাকি সত্যই আপনাকে ভাবিয়ে তুলে না?

উইকিলিকস
২০১৪ সালে ইউকিলিকস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) নথি ফাঁস করে। আর সেই নথিতে দেখা যায়- যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুক্তরাজ্য আইএস সৃষ্টির নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে। আইএসের ‘খালিফা’ আবু বকর বাগদাদি তাদের গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি। বব ক্যাম্বেলের দাবিকে আপনি কোন রকমে দমিয়ে রাখতে পারলেও উইকিলিকস এর তথ্যকে আপনি কি করে অস্বীকার করবেন? যে উইকিলিকস বিশ্বের তাবোদ তথ্য ফাঁস করে আজ মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে দেশান্তরি হয়েছে।

রিটা কাৎজ! আইএস আর সমস্ত হামলার সঙ্গে এই নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আইএসের হুমকি আর হামলার খবর সবার আগে দেয় রিটা কাৎজের সাইট ইন্টেলিজেন্স। গুলশান হামলার পরও এই রিটা কাৎজই তার সাইটে প্রকাশ করেছিলেন, এই হামলা আইএস চালিয়েছে। রিটা এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও ১৯৬৩ সালে তিনি ইরাকের এক ইহুদি পরিবারে জন্ম নেন। ইসরায়েলের পক্ষে স্পাইয়ের কাজ করার অভিযোগে ১৯৬৮ সালে তার বাবা ইরাকে গ্রেফতার হন। পরে রিটার মা তাদের নিয়ে ইরান হয়ে ইসরায়েলে পালিয়ে যান। রিটা ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। তখন তিনি ইসলায়েলের ডিফেন্স ফোর্সের সঙ্গেও কাজ করেন। তিনি ইংরেজি, আরবি এবং হিব্রু ভাষায় সমান পারদর্শী। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তার সাইট ইন্টেলিজেন্স মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছ থেকে পরামর্শ দাতা হিসেবেও কাজ করে।

এতো কিছুর পরও আপনি যদি বলেন সেই কেষ্ঠ বেটাই চোর! অর্থাৎ সব দোষ ঐ ইসলামের তাহলে আপনাকে গন্ডমূর্খ ছাড়া আর কিছুই বলব না। আর কেষ্ঠ বেটাই চোর হিসেবে, প্রথম আলো পত্রিকা ওয়ালারা মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে রাখার আহব্বান করছে। নাসিরউদ্দিন বাচ্চুরা বলছে, যখন আমি দেখি পাঁচ বছরের একটি বাচ্চা তার বাবার সঙ্গে মসজিদে যাচ্ছে তখন সেই বাচ্চা ঘৃণা ছাড়া আর কি শিখতে পারে! মসজিদ কোন ঘৃণার জায়গা নয়। বরঞ্জ আপনি আপনার বাচ্চাকে সঙ্গে করে নিয়মিত মসজিদে নিয়ে যান, চ্যালেঞ্জ করতে পারি আপনার ছেলে বিপথগামী হবে না। সরকার জিহাদের ব্যাপারে এতো কড়া কড়ি আরোপ করেছে যেন জিহাদ একটি নিষিদ্ধ বিষয়। আজকের তরুন মুসলিমের কাছে জিহাদ একটি আতঙ্কেরও নাম। আবার কতক জনের কাছে জিহাদ মানে শুধুই কতল। কিন্তু কোন ধারণাই সঠিক নয়। আপনার সন্তানকে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখতে তাকে প্রকৃত জিহাদ কি, তা জানাতে সাহায্য করুন! তার হাতে কোরআন তুলে দিয়ে সূরা তাওবা পড়ে শোনান, তাফসীর পড়ে শোনান, শানে ‍নুযুল পড়ে শোনান! তাকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে যান! আর এভাবেই জঙ্গিবাদ থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখতে পারবেন। প্রথম আলো গংদের কথামত তাদেরকে মসজিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য করবেন না! কোরআন থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন না! যদি তাই করেন, তবে ওপেন চ্যালেঞ্জ করছি! আপনার ছেলেটাই হবে আগামী দিনের নিরবাস।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ৮:৪৩
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিরবিদায়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শায়িত ডা. খায়রুল ইসলাম – Regional Director for South Asian Countries, WaterAid UK

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৪




২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। ফলে সকালে উঠতেও দেরি। আগের দিন দুপুরে বিদ্যুৎ এক ঘণ্টার জন্য চলে যাবার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×