somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

আরাকানে কেন সূর্য ওঠে?

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরাকানে কেন সূর্য ওঠে?
এখানে সূর্যোদয়ের প্রয়োজন কী?
এই রাত যদি না ফুরাতো!
পাথুরে ওই পাহাড়টার ওপাশ থেকে সূর্য উঁকি দিয়ে প্রিয় এই আঁধারগুলো যদি সরিয়ে না দিত!
আসন্ন প্রভাত যদি আলো নিয়ে আর কখনও ফিরে না আসত!
এই রাতটিই যদি এখানের- এই আরাকানের- এই নরকের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দিত!
এখানে মাথার উপরে সূর্য ওঠা মানে- সীমাহীন লজ্জা আবারও ডুবে যাওয়া!
এখানে আরেকটি নতুন দিন! আরেকটি ঘৃনার জীবন
এখানে আরেকটি নতুন দিন! আরেকটি নতুন জাহান্নাম
এখানে আরেকটি নতুন দিন! জীবনে সংযুক্তি ঘটা আরেকটি জঘন্য অধ্যায়ের-
আরেকবার মৃত্যুর হিম শীতল স্পর্শে অবশ অনুভূতির স্বাদ নেয়া!

নতুন দিনের আলো ফোটা মানে-
আবারও আমাকে প্রত্যক্ষ করতে হবে-
মায়ের সামনে- বাবার সামনে- ভাইয়ের সামনে-
এবং পৃথিবীবাসী সাতশো কোটি সজাতির চোখের সামনে ধর্ষিতা কিশোরীর রক্তাক্ত নিস্তেজ দেহ!
প্রত্যক্ষ করতে হবে-
আমার মায়ের ইজ্জত হারানোর জঘন্য দৃশ্য!
প্রতিনিয়ত- প্রতি দিন- প্রতি মূহুর্তে নিরস্ত্র- বুভূক্ষু মানুষের জন্য এটা আজ দারুন এক মৃত্যু অববাহিকা!

আসলে ওদের মাথার ওপর সূর্য ওঠে না, ওঠে খড়্গ- খাপ খোলা তরবারি-
নতুন রঙ-বেরঙের মৃত্যু মৃত্যু খেলা
বেশরম পৃথিবী তাকিয়ে রয়- মৃত্যু উপত্যকা আরাকানে- খেলা দ্যাখে-
লাল লাল রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দ্যাখে- দাঁত কেলিয়ে হাসে-

এখানে শীত-গ্রীষ্ম বলে কোন মওসুম নেই
প্রতিটি সকাল, প্রতিটি সন্ধ্যা, প্রতিটি দুপুর, প্রতিটি মধ্যরাত নিশ্চিত বিভীষিকা- নতুন অন্ধকার-
বিষূভিয়াসের আগ্নেয়গিরির মত এখানেও লাভা উদ্গীরন হয়-
রক্তের লাভা- লাল অত:পর জমাটবদ্ধ কালো রক্ত-
রক্তাক্ত উঠোন- বাড়ি-ঘর- ফসলের ক্ষেত- মেঠো পথ
উপভোগ্য রক্ত রঙিন জনপদ!
মানুষের ছিন্ন মস্তক- কর্তিত হাত-পা রাস্তার ধারে ভাগাড়ে নদীতে গড় খায়!
আহ! কী নিদারুন সৌন্দর্যের অপরূপ আরাকান!

নাফ নদীর উত্তাল তরঙ্গ থেমে গেছে
জমাট রক্ত - গলিত লাশের ভারে নদীর নিশ্বাস আটকে গেছে
নদীও তড়পায়! বোবা মুখ কান্নার ভাষাগুলো মৃদু স্রোতে ভেসে যায়!

এখানে এখন হত্যার পার্বন
হত্যা হত্যা খেলা- বনি আদমের গায়ের চামড়া তুলে নেয়ার উপভোগ্য দৃশ্য!
জাতি সংঘ ওআইসিরা এই খেলার দর্শক হওয়ার কষ্ট স্বীকার করেছেন-
ভদ্রতা বজায় রাখার স্বার্থে নিরবতা অবলম্বন করেছেন- এ মহানন্দে এখানের আকাশ-বাতাস কৃতজ্ঞ-

আমাদের এখানে কিছু বনি আদম বেঁচে থাকে-
নতুন একটি দিন আসার প্রতীক্ষায় নয়-
আগামী কাল আবার পরিবারের বাকি লোকদের লাশ হওয়ার নির্মমতা প্রত্যক্ষ করার জন্য-
ওরা বেঁচে থাকে-
আদরের কিশোরী মেয়েটার ছিন্ন বসন-ভূসন ছুঁড়ে ফেলে লাত্থি মেরে
উঠোনের মেঝেয় ফেলে উপর্যুপরি কয়েক নরপশুর ধর্ষনের
অকল্পনীয় তান্ডব প্রকাশ্য দিবালোকে প্রত্যক্ষ করার জন্য
যুবক ছেলের সামনে মায়ের উপর পৈশাচিকতার ক্লেদাক্ত উল্লাস দেখার জন্য
ওরা বেঁচে থাকে-
মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নেয়া দুগ্ধপোষ্য শিশু-
এবং অত:পর দু'পা ধরে হ্যাচকা টানে ছিড়ে ফেলা কঁচি দুই ভাগ শরীর

পৃথিবীবাসীর অধিকার রয়েছে-
মনোরম এ পবিত্র দৃশ্যরাজি প্রত্যক্ষ করার-
তাই নতুন নতুন আরও বিভতস দৃশ্য প্রদর্শনের জন্য
এখানে ওদের আরও আরও দিন বেঁচে থাকার অধিকার চাই-
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭
১৩টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



যুদ্ধের আগে
আকাশের দিকে তাকিয়ে,
মানুষ নিজ নিজ পতাকা ঈশ্বরের রঙে রাঙায়।

প্রথম আঘাতের পর,
প্রথম রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়ার পূর্বে,
মানুষ আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে—
"ঈশ্বর আমার সঙ্গে আছেন।"

প্রতিটি যুদ্ধের আছে একেকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×