আরাকানে কেন সূর্য ওঠে?
এখানে সূর্যোদয়ের প্রয়োজন কী?
এই রাত যদি না ফুরাতো!
পাথুরে ওই পাহাড়টার ওপাশ থেকে সূর্য উঁকি দিয়ে প্রিয় এই আঁধারগুলো যদি সরিয়ে না দিত!
আসন্ন প্রভাত যদি আলো নিয়ে আর কখনও ফিরে না আসত!
এই রাতটিই যদি এখানের- এই আরাকানের- এই নরকের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দিত!
এখানে মাথার উপরে সূর্য ওঠা মানে- সীমাহীন লজ্জা আবারও ডুবে যাওয়া!
এখানে আরেকটি নতুন দিন! আরেকটি ঘৃনার জীবন
এখানে আরেকটি নতুন দিন! আরেকটি নতুন জাহান্নাম
এখানে আরেকটি নতুন দিন! জীবনে সংযুক্তি ঘটা আরেকটি জঘন্য অধ্যায়ের-
আরেকবার মৃত্যুর হিম শীতল স্পর্শে অবশ অনুভূতির স্বাদ নেয়া!
নতুন দিনের আলো ফোটা মানে-
আবারও আমাকে প্রত্যক্ষ করতে হবে-
মায়ের সামনে- বাবার সামনে- ভাইয়ের সামনে-
এবং পৃথিবীবাসী সাতশো কোটি সজাতির চোখের সামনে ধর্ষিতা কিশোরীর রক্তাক্ত নিস্তেজ দেহ!
প্রত্যক্ষ করতে হবে-
আমার মায়ের ইজ্জত হারানোর জঘন্য দৃশ্য!
প্রতিনিয়ত- প্রতি দিন- প্রতি মূহুর্তে নিরস্ত্র- বুভূক্ষু মানুষের জন্য এটা আজ দারুন এক মৃত্যু অববাহিকা!
আসলে ওদের মাথার ওপর সূর্য ওঠে না, ওঠে খড়্গ- খাপ খোলা তরবারি-
নতুন রঙ-বেরঙের মৃত্যু মৃত্যু খেলা
বেশরম পৃথিবী তাকিয়ে রয়- মৃত্যু উপত্যকা আরাকানে- খেলা দ্যাখে-
লাল লাল রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দ্যাখে- দাঁত কেলিয়ে হাসে-
এখানে শীত-গ্রীষ্ম বলে কোন মওসুম নেই
প্রতিটি সকাল, প্রতিটি সন্ধ্যা, প্রতিটি দুপুর, প্রতিটি মধ্যরাত নিশ্চিত বিভীষিকা- নতুন অন্ধকার-
বিষূভিয়াসের আগ্নেয়গিরির মত এখানেও লাভা উদ্গীরন হয়-
রক্তের লাভা- লাল অত:পর জমাটবদ্ধ কালো রক্ত-
রক্তাক্ত উঠোন- বাড়ি-ঘর- ফসলের ক্ষেত- মেঠো পথ
উপভোগ্য রক্ত রঙিন জনপদ!
মানুষের ছিন্ন মস্তক- কর্তিত হাত-পা রাস্তার ধারে ভাগাড়ে নদীতে গড় খায়!
আহ! কী নিদারুন সৌন্দর্যের অপরূপ আরাকান!
নাফ নদীর উত্তাল তরঙ্গ থেমে গেছে
জমাট রক্ত - গলিত লাশের ভারে নদীর নিশ্বাস আটকে গেছে
নদীও তড়পায়! বোবা মুখ কান্নার ভাষাগুলো মৃদু স্রোতে ভেসে যায়!
এখানে এখন হত্যার পার্বন
হত্যা হত্যা খেলা- বনি আদমের গায়ের চামড়া তুলে নেয়ার উপভোগ্য দৃশ্য!
জাতি সংঘ ওআইসিরা এই খেলার দর্শক হওয়ার কষ্ট স্বীকার করেছেন-
ভদ্রতা বজায় রাখার স্বার্থে নিরবতা অবলম্বন করেছেন- এ মহানন্দে এখানের আকাশ-বাতাস কৃতজ্ঞ-
আমাদের এখানে কিছু বনি আদম বেঁচে থাকে-
নতুন একটি দিন আসার প্রতীক্ষায় নয়-
আগামী কাল আবার পরিবারের বাকি লোকদের লাশ হওয়ার নির্মমতা প্রত্যক্ষ করার জন্য-
ওরা বেঁচে থাকে-
আদরের কিশোরী মেয়েটার ছিন্ন বসন-ভূসন ছুঁড়ে ফেলে লাত্থি মেরে
উঠোনের মেঝেয় ফেলে উপর্যুপরি কয়েক নরপশুর ধর্ষনের
অকল্পনীয় তান্ডব প্রকাশ্য দিবালোকে প্রত্যক্ষ করার জন্য
যুবক ছেলের সামনে মায়ের উপর পৈশাচিকতার ক্লেদাক্ত উল্লাস দেখার জন্য
ওরা বেঁচে থাকে-
মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নেয়া দুগ্ধপোষ্য শিশু-
এবং অত:পর দু'পা ধরে হ্যাচকা টানে ছিড়ে ফেলা কঁচি দুই ভাগ শরীর
পৃথিবীবাসীর অধিকার রয়েছে-
মনোরম এ পবিত্র দৃশ্যরাজি প্রত্যক্ষ করার-
তাই নতুন নতুন আরও বিভতস দৃশ্য প্রদর্শনের জন্য
এখানে ওদের আরও আরও দিন বেঁচে থাকার অধিকার চাই-
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



