somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

রিফ্রেশমেন্টের প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে তো বেশ ধকল গেছে। এবার আসুন, গল্প শুনি। গল্প: ''আল্লাহ্ পাক যা করেন ভালোর জন্যই করেন!''

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গল্প: ''আল্লাহ্ পাক যা করেন ভালোর জন্যই করেন!''

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক এলাকায় রাজত্ব করতেন প্রতাপশালী এক রাজা। তার ছিল এক চাকর। চাকরটা সুখে দু:খে যে কোন অবস্থাই হোক না কেন, সব সময় রাজাকে একটি কথা প্রায়শই বলতো, “রাজা মশাই, কখনো মন খারাপ করবেন না। কেননা আল্লাহ পাক যা করেন তার সব কিছুই নিখুঁত ও সঠিক।”

একবার রাজা মশাই বেরুলেন শিকার করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে শিকারে যেয়ে নিজেরাই এক হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলো। রাজার চাকর সেই প্রাণীকে মারতে পারলেও, ততক্ষণে রাজা তার একটা আঙুল খুইয়ে বসেছেন। রাগে-যন্ত্রণায়-ক্ষোভে রাজা ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ওঠেন, “আল্লাহ যদি ভালোই হবে তাহলে আজকে শিকারে এসে আমার আঙুল হারাতে হতো না।”

চাকর বলল, “এতকিছুর পরও আমি শুধু আপনাকে এটাই বলবো, আল্লাহ সব সময়ই ভালো ও সঠিক কাজই করেন; কোনো ভুল করেন না।''

চাকরের এই কথায় রাজা মশাই আরও বিরক্ত হলেন। চাকরকে জেলে পাঠানোর হুকুম দিলেন।

অনেক দিন পেরিয়ে গেল। শিকার করা তার নেশা। শিকার না করলে ভালো লাগে না। তাই আবার একদিন রাজা মশাই শিকারে বের হলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যও যেন তার পিছু ছাড়ে না। এবার তিনি একদল বন্য মানুষের হাতে বন্দি হলেন। এরা তাদের দেবদেবির উদ্দেশ্যে মানুষ বলি দিত। তারা রাজা মশাইকে বলি দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু রাজা মশাইকে বলি দিতে নিয়ে তারা দেখলো যে, রাজা মশাইয়ের হাতের একটা আঙুলই যে নেই!

''সর্বনাশ! সর্বনাশ হয়ে গেছে!'' -চিতকার করে উঠলেন বন্য মানুষদের সরদার! দলের সকলকে ডেকে নির্দেশ দিলেন, ''আঙুল হারা এই বিকলাঙ্গ অপয়াকে দিয়ে বলির কাজ হবে না। দেবতা একে গ্রহন করবেন না। একে এখনি জঙ্গলের বাইরে বের করে দাও।''

সরদারের নির্দেশমত তারা রাজাকে বনের বাইরে নিয়ে ছেড়ে দিল। রাজা কোনোমতে জানে বেঁচে প্রাসাদে ফিরে এলেন। প্রাসাদে ফিরে এসে প্রথমেই তিনি তার সেই পুরোনো চাকরকে মুক্ত করে তার সম্মুখে উপস্থিত করার হুকুম দিলেন। চাকরকে তার সামনে আনা হলে রাজা মশাই চাকরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ”ভাই, আল্লাহ আসলেই ভালো। তোমার কথা ১০০% সঠিক। তুমি একথা বলতে আর আমি বিরক্ত হতাম। কিন্তু সত্যি সত্যিই যে আল্লাহ পাক নির্ভুল এবং নিখুঁত, আজ তার প্রমান হাতে নাতে পেয়েছি। আমি আজ প্রায় মরতেই বসেছিলাম। কিন্তু হাতের একটি আঙুল না-থাকার কারণে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছি।''

একটু থেমে রাজা মশাই আবার যোগ করলেন, ''তবে, তোমার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আল্লাহ পাক ভালো, এটা তো বুঝলাম। কিন্তু তাহলে তিনি আমাকে দিয়ে তোমার মত একজন ভালো লোককে জেলে পুরলেন কেন?”

চাকর বলল, “রাজা মশাই, আমি যদি আজ আপনার সাথে থাকতাম, তাহলে আপনার বদলে আজ আমি কোরবান হয়ে যেতাম। আপনার আঙুল ছিল না, কিন্তু আমার তো ছিল। কাজেই আল্লাহ যা করেন সেটাই সঠিক, তিনি কখনো কোনো ভুল করেন না।”

রাজা মশাই মাথা নেড়ে চাকরের কথায় সম্মতি দিলেন। অবলীলায় তার মুখ থেকে বেরিয়ে এল- ''ঠিক বলেছো ঠিক। তুমি সঠিক বলেছো। আল্লাহ পাক সত্য, সঠিক এবং নি:সন্দেহে নিখুঁত।''



ছবি কৃতজ্ঞতা: গুগল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১
১৯টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×