somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় কি?

০৬ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছবি: অন্তর্জাল।

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ উপায় কি?
করোনাভাইরাস যা কোভিড১৯ নামে পরিচিত, ইতোমধ্যেই পুরো বিশ্ব পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। গোটা বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ এই ভাইরাসের কবলে পড়ে নাকানিচুবানি খাচ্ছে। এককথায় বলতে গেলে শক্তিশালী এই ভাইরাসের প্রতাপ বিশ্ববাসী ভালো ভাবেই টের পাচ্ছে। টের পাচ্ছে মানে, হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছে।

করোনা পাল্টে দিয়েছে অনেক কিছু:
ফ্যাশন করে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার নামে পশ্চিমা বিশ্বের তথাকথিত নারী স্বাধীনতার শ্লোগান তোলা দেশগুলোয় নারীদের শরীর প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ, তাদের চেহারায় পর্দা এনে দিয়েছে করোনা আতঙ্ক। উলঙ্গপনার তো প্রশ্নই আসে না। পোশাক আশাকে শালীনতার এমন বিচিত্র রূপ কে কবে দেখেছে এর আগে? তথাকথিত মানবাধিকার আর সমান অধিকারের মিথ্যে বুলির আড়ালে যারা নারীদের রাস্তায় নামিয়ে স্রেফ ভোগ্যপন্যে পরিণত করে ফায়দা লুটে এসেছেন এতদিন, তাদের মাথায় হাত! করোনা তাদের জন্য সর্বনাশা এক সময়কে সামনে এনে দাড় করিয়েছে!

করোনা কি? ভাইরাস কি?
এবার মূল কথায় আসি। ভাইরাস কি? ভাইরাস হচ্ছে, আণুবীক্ষণিক পরজীবি। আসলে 'আণুবীক্ষণিক পরজীবি' কথাটায় একটু ভুল আছে। কথাটা হওয়া উচিত 'অতি আণুবীক্ষণিক'। প্রকৃতপক্ষে ভাইরাস একটি বিষ। ভাইরাস কথাটির বাংলা অর্থই বিষ। সংক্রামক রোগের কারণস্বরূপ, ব্যাকটেরিয়ার চেয়ে ক্ষুদ্রতর, বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদানের একটিই ভাইরাস। বাংলা অভিধানে এর অর্থ 'দুষ্টু'ও করা হয়েছে।

করোনার স্প্রিডিং এবিলিটি অনেক বেশি:
করোনা বা কোভিড ১৯ আসলে সার্স গ্রুপের ভাইরাসের লেটেস্ট সংস্করণ। ইতোপূর্বে হানা দেয়া ইবোলা এই কোভিড ১৯ এর চেয়ে অনেক মারাত্মক ভাইরাস ছিল কিন্তু কোভিড১৯ মারাত্নক আকার ধারন করার পেছনে রয়েছে এর দুর্দান্ত গতি। এই ভাইরাসটির স্প্রিডিং এবিলিটি বা ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা মারাত্মক রকমের বেশি। পানিতে, বাতাসে এমনকি ৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রায়ও টিকে থাকতে পারে এই ভাইরাস। সবচেয়ে আশ্চর্য্য সংবাদ হচ্ছে, প্রাপ্ত তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ৩৫০+ বার ভাইরাসটি মিউটেশন করেছে নিজেকে। 'মিউটেশন' বলতে সোজা কথায় রূপ পাল্টানো।

এই ভাইরাসটা আসলে ইমার্জিং ভাইরাসের অন্তর্ভুক্ত, এর মেইন হোস্ট সম্ভবত বন রুই বা বাদুর। তবে এটা ইমার্জিং ভাইরাস। মানে এটি এর রিসেপ্টর চেঞ্জ করেছে। এখন মানুষ আক্রমণ করতে পারে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন:
ভাইরাস যতই শক্তিশালী হোক না কেন, একে ঠেকানোর ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই বের করতে সক্ষম হব। তার আগে অর্থাৎ, ভাইরাসটি নির্মূলের কৌশল উদ্ভাবনের আগে পর্যন্ত এখন প্রয়োজন সতর্কতার সাথে একে প্রতিরোধ করা। জেনে রাখা প্রয়োজন, এই ভাইরাসটি ফ্যাটি। এর গ্লাইকোলিপিড আস্তরন বেশ পাতলা। আর এ কারণেই সামান্য এলকোহলিক সাবান দিয়ে ২০/ ২৫ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিলেই কাজ সমাধান। হাতে কোনোভাবে এই ভাইরাসের জীবাণু এসে থাকলে তা দূর হয়ে যাবে।

মাস্ক সকলের পড়া উচিত:
হু অর্থাৎ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, গণহারে সুস্থ অসুস্থ সকলের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। তারা আক্রান্তদের পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী অথবা অসুস্থ ব্যক্তিবর্গের নিকটে অবস্থানকারীদের ক্ষেত্রে মাস্ক পড়তে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমাদের কাছে বিষয়টি একটু অন্যরকম মনে হয়েছে। কে যে আক্রান্ত আর আক্রান্ত নয়, কিভাবে বুঝা সম্ভব? সেই কারণে সুস্থ অসুস্থ সকলের জন্যই মাস্ক পড়া উচিত। মাস্ক নির্বাচনের ক্ষেত্রে N95 সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ। আমাদের দেশে নরমাল যেসব মাস্ক এখন এভেইলেবল, সেগুলো পড়া আর না পড়ায় তেমন কোনো পার্থক্য আছে কি না চিন্তার বিষয়। অনেকে মাস্ক ব্যবহার করেন ঠিকই কিন্তু তা আর পরিষ্কার করার কথা ভাবেন না। মনে রাখতে হবে, ভাইরাস কোনো হেলেফেলার বস্তু নয়। আপনার ব্যবহৃত মাস্ক এর বাইরের দিকে যদি ভাইরাস লেগে থাকে, তাহলে সেটা সেখানে ৯ দিন সক্রিয় থাকতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিতগণের গ্লাভস পড়া উচিত:
এর বাইরে হাতে গ্লাভস পড়া উচিত। তবে সবার জন্য পাইকারিভাবে এর দরকার নেই। রোগীদের সেবায় নিয়োজিত এবং যারা নিজেদের ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন, তাদের বিষয়টি অবশ্যই লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।

শুরুতেই বলেছি যে ভাইরাস 'অতি আণুবীক্ষণিক' এক ভয়ঙ্কর বস্তু। অতএব, এই ক্ষুদ্র মাইক্রোস্কোপিক যোদ্ধা আপনার জীবনকে যাতে ধ্বংস করে দিতে না পারে সেজন্য সর্বাবস্থায় সতর্ক থাকুন। সাবধানে থাকুন। একটু অসতর্কতার কারণে যেন বড় কোনো বিপদ হামলে পড়তে না পারে আপনার কিংবা আপনার পরিবারের কারও উপরে।

ধর্মীয় বিধি বিধান মেনে চলুন, রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন এবং সুস্থ থাকুন:
গুজব বা অহেতুক বিষয়াদিতে কান দিবেন না। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে সহযোগিতা করুন। নিজে সুস্থ থাকুন অন্যদের সুস্থ থাকতে দিন। ধর্মীয় বিধি বিধান পালন করুন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন। উযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাআ'লার নিকট বিশ্ববাসী সকল মানুষের কল্যানের জন্য প্রার্থনা করুন। মসজিদে এই অবস্থায় ঠাসাঠাসি করে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে যাবেন না। বাসায় নামাজ আদায় করুন। মসজিদে জামাআত চলার মত মিনিমাম মুসল্লি থাকলেই হয়ে গেল। তারা জামাআতে নামাজ আদায় করে নিলেই হবে। যাতে মসজিদগুলো বিরান হয়ে না যায়। বিনীতভাবে মহান মালিকের নিকট প্রার্থনা করুন, আয় আল্লাহ, আপনি আমাদের প্রতি রহম করুন। আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন। আমাদের ভীতি মুক্ত করুন। আমরা যেন আবার মসজিদে মসজিদে আপনার ইবাদতের জন্য একত্রিত হতে পারি।

জামাআত এরকম সময়ে জরুরি নয়। আগে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা তারপরে জামাআতে নামাজ। এরকম অবস্থায় বাসায় একাকি নামাজ পড়লে শরিয়াতের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা নেই।

পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে যখন যে ইনস্ট্রাকশন আসে সেগুলো ফলো করুন। দেশের মানুষ যাতে সুস্থ থাকে সেদিকে নজর দিন। নিজের, পরিবারের সর্বোপরি সমাজের সকলের সুস্থতার দিকে অবশ্যই আমাদের নজর রাখতে হবে।

গুজব ছড়াবেন না, গুজবে কান দিবেন না:
নিজে গুজব ছড়াবেন না। কারও ছড়িয়ে দেয়া গুজবে কান দিবেন না। মিথ্যে কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার সংবাদ ছাড়া যার তার প্রচার করা উল্টাপাল্টা বিষয়ে বিশ্বাস করবেন না। এসবের কারণে আতঙ্ক এবং বিভ্রান্তি তৈরি হয় যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আল্লাহ পাক বিশ্বব্যাপী সকল মানুষকে এই মহামারির হাত থেকে দ্রুত মুক্তি দান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:৪০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×