
বিস্ময়কর যে ঘটনার মধ্য দিয়ে গোটা মালদ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছিল ইসলাম:
আজ হতে প্রায় সতশত বছর আগের কথা। এক অলৌকিক ঘটনায় মালদ্বীপে ব্যাপকভাবে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। লোকজন দলে দলে দাখিল হয়েছিলেন ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। প্রখ্যাত মুসলিম পর্যটক আল্লামা ইবনে বতুতা রহ. ছিলেন একজন বড় মাপের ইতিহাসবিদ। তিনি তৎকালীন মনুষ্য অধ্যুষিত প্রায় সমগ্র পৃথিবী ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি তার সফরনামায় মালদ্বীপের উক্ত ঘটনা সম্পর্কে লিখেছেন যে, ভ্রমণ করতে করতে তিনি মালদ্বীপে গিয়ে উপনীত হলেন। দেখলেন- মালদ্বীপের প্রতিটি শহর-নগর-বন্দর আজানের সুমধুর ধ্বনিতে মুখরিত। অবস্থাদৃষ্টে তার মনে হলো যেন, গোটা মালদ্বীপ ভূমিই নামাযের সিজদায় অবনমিত। তিনি যেন তার দীর্ঘ সফরের এ পর্যায়ে এক অন্যরকম আলোকিত ভূখন্ডের সন্ধান পেলেন।
এ অবস্থা দেখে আল্লামা ইবনে বতুতা খুবই বিস্মিত হলেন। কারণ, এ কথা তার জানা ছিল যে, কোনো ইসলাম প্রচারক মালদ্বীপে আসেন নি। তার মনে প্রশ্ন দেখা দিল যে, নাম করা কোন ধর্ম প্রচারকের আগমন না ঘটা সত্বেও এখানে এভাবে ইসলামের আলো ছড়ালো কীভাবে! মহান পরিব্রাজক ইবনে বতুতা রহ. তখন সেখানকার অধিবাসীদেরকে মালদ্বীপের মানুষের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার কারণ এবং প্রেক্ষাপট সম্মন্ধে জিজ্ঞেস করলেন।
তারা অতি আশ্চর্যজনক একটি ঘটনা তাকে শোনালেন। ঘটনাটি হলো-
আরবের কোনো এক বাণিজ্য জাহাজ পূর্ব বিশ্বের দিকে যাত্রা করে যাচ্ছিলো। ঘটনাচক্রে জাহাজটি তুমুল সমুদ্র ঝড়ে পতিত হয় এবং ঝড়ে পড়ে একপর্যায়ে জাহাজটি সমুদ্রে ডুবে যায়। জাহাজের অভিযাত্রী দলের সকলেই মারা যান সেই জাহাজডুবির ঘটনায়। কিন্তু সেই মুসলিম যাত্রী দলের একজনমাত্র লোক কোনো এক কাষ্ঠখন্ডকে অবলম্বন করে আল্লাহর মেহেরবাণীতে বেঁচে যান এবং এই দ্বীপে এসে আশ্রয় নিতে সক্ষম হন। তিনি ছিলেন এক আরব যুবক এবং হাফেজে কুরআন। তার নাম হাফেজ আবুল বারাকাত।
সাগরের লোনা পানিতে ভাসতে ভাসতে একসময় তীরের সন্ধান পাওয়া হাফেজ আবুল বারাকাত অচেনা অপরিচিত দ্বীপে কোথায় যাবেন? কে দিবে তাকে আশ্রয়? কারণ, এখানে তো তার কোনো বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজন নেই! অবশেষে এ আরব যুবক এক বৃদ্ধার বাড়ীতে আশ্রয় নিলেন। সেখা্নেই থাকেন হাফেজ আবুল বারাকাত। ভাগ্যের পরিহাস! জঙ্গলে কাঠ কেটে তা বিক্রয় করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। এভাবেই চলছিলো তার অচেনা দ্বীপের নতুন জীবন।
একদিন হাফেজ আবুল বারাকাত বাড়ীতে এসে দেখলেন- বৃদ্ধা কাঁদছেন এবং তার পাশে তার যুবতী মেয়েও অঝোর নয়নে কেঁদে চলেছেন।
হাফেজ আবুল বারাকাত জিজ্ঞেস করলেন- কী হয়েছে আপনাদের? আপনারা কাঁদছেন কেন?
বৃদ্ধা বললেন- আজ আমার মেয়ের শেষ দিন। সে আজকেই মারা যাবে।
হাফেজ আবুল বারাকাত বললেন- কেন? তিনি মারা যাবেন কেন? তিনিতো দিব্যি সুস্থ্!
বৃদ্ধা আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন- ওই যে দেখুন, মৃত্যু আমাদের সামনে।
হাফেজ আবুল বারাকাত বাড়ীর সামনে তাকিয়ে দেখলেন, রাজার সৈন্যরা দাঁড়ানো।
হাফেজ আবুল বারাকাত বললেন- তারা কি আপনার মেয়েকে হত্যা করবে?
বৃদ্ধা বললেন- না, ব্যাপারটি তা নয়। রাজার এ সৈন্যরা আমার মেয়েকে নিয়ে যাবার জন্য এসেছে। কেননা, আমাদের এই দ্বীপে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে এক সামদ্রিক বিপদের উদ্ভব হয়। যার থেকে রক্ষা পাওয়ার পদ্ধতি হলো, আমাদের দ্বীপবাসীদের পক্ষ থেকে এক যুবতী মেয়েকে ওই দিন সূর্য ডোবার পর সমুদ্র উপকূলে থাকা বিশেষ একটি মন্দিরে রেখে আসতে হয়। পরের দিন সকালে সরকারি লোকজন সমুদ্রের কিনারা থেকে ওই মেয়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসে। প্রতি বছর লটারির মাধ্যমেই নিরূপণ করা হয়- কোন মেয়েকে পাঠানো হবে। এবার লটারিতে আমার মেয়ের নাম উঠেছে। তাই আজ রাতে তাকে সমুদ্র উপকূলে পাঠানো হবে। সেখানে তার মৃত্যু অনিবার্য।
যুবক বৃদ্ধার মুখে এ বেদনাদায়ক ঘটনা শুনে হাফেজ আবুল বারাকাত বললেন- আজ আপনাদের মেয়েকে সেখানে পাঠাবেন না। আজ রাতে আমিই যাবো সেই মন্দিরে। দেখি, সেখানে কীসে কী হয়! প্রয়োজনে আপনার মেয়ের পরিবর্তে আমার জান দিয়ে দিবো।
এরপর হাফেজ আবুল বারাকাত বললেন- রাজার সৈন্যরা যাতে বুঝতে না পারে, তাই আপনার মেয়ের পোশাক আমাকে পরিয়ে দিন। আমিই আজ তাদের সাথে যাবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য যে, হাফেজ আবুল বারাকাতের বয়স ছিলো খুবই কম। তাঁর দাড়ি-গোফ তখনও কিছুই গজায়নি। কাজেই মেয়ের বেশে তার ধরা পড়ার আশংকা তেমন ছিলো না।
বৃদ্ধা হাফেজ আবুল বারাকাতকে নির্ঘাত মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিতে কোনক্রমেই রাজী হচ্ছিলেন না। কিন্তু হাফেজ আবুল বারাকাত তাকে বুঝালেন যে, তিনি মুসলমান। মুসলমানগণ আল্লাহ তাআ'লা ছাড়া কাউকে ভয় করেন না। আর জীবন ও মৃত্যু একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে।
আল্লাহর হুকুম না হলে, কেউ তাকে মারতে পারবে না। তাছাড়া তিনি হাফেজে কুরআন। তাই তার বিশ্বাস, কুরআন শরীফের বরকতে মহান আল্লাহ তাআ'লা তাকে হিফাজত করবেন।
এভাবে হাফেজ আবুল বারাকাত বৃদ্ধাকে নানাভাবে বুঝালেন। শেষ পর্যন্ত হাফেজ আবুল বারাকাতের অত্যাধিক পীড়াপীড়িতে বৃদ্ধা রাজী হলেন এবং তাকে মেয়ের পোশাক পরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করলেন।
অতঃপর রাজার সৈন্যরা তাকে সমুদ্রের উপকূলস্থ সেই মন্দিরে নিয়ে গেলো। তারা তাকে সেখানে রেখে চলে এলো।
যুবক সেখানে উত্তমরূপে ওজু করে ইশার নামায আদায় করলেন। তারপর খোলা তলোয়ার সামনে রেখে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে লাগলেন এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন।
ক্রমে রাত গভীর হতে লাগলো। চার দিক নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেলো। প্রকৃতি নিদ্রার কোলে ঢলে পড়লো। নির্ঘুম জেগে রইলো শুধুমাত্র তিনটি প্রাণ। যাদের চোখে সে কালো রাতে নিদ্রার চিহ্নমাত্র ছিল না। চিন্তিত সেই তিনজনের একজন হলো আরব যুবক হাফেজ আবুল বারাকাত। যার চোখ ছিলো পানির সমুদ্রের দিকে আর বুকে ছিলো ঈমানের বল। জাগ্রত আরেকজন হলেন গরীব সেই বৃদ্ধা মহিলা, যার মাতৃ অন্তর আরব যুবকের চিন্তায় ছিলো অস্থির। তার মেয়েকে রক্ষা করার জন্য যুবক নিজের প্রাণকে বিপন্ন করতে যাচ্ছেন। আর তৃতীয় যে প্রাণটি জেগে রইল, সে হলো বৃদ্ধার সেই যুবতী কন্যা। আরব যুবকের চিন্তায় সে অনবরত কেঁদেই চলছিলো।
হাফেজে কুরআন আবুল বারাকাত অন্ধকার রাতের এই নিস্তব্ধ পরিবেশে সমুদ্রের কিনারস্থ সেই ভয়াকুল মন্দিরে বসে অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী সুরে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে যাচ্ছিলো।
এ সংকটকালীন মূহূর্তে সকল অপশক্তির মুকাবিলায় কুরআনই যে তার অমোঘ হাতিয়ার।
হঠাৎ করে সমুদ্রের দিগন্ত থেকে বিশাল আকৃতির এক ভয়ংকর দৈত্যের উদয় হলো। দৈত্যটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের কিনারার দিকে মন্দির অভিমুখে আসতে লাগলো।
মন্দিরের কাছাকাছি এসে দৈত্যটি থেমে গেলো, যুবক কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছিল। কুরআন তিলাওয়াতের কারণে দৈত্যটি সামনে অগ্রসর হতে পারলো না।
অবশেষে হার মানলো ভয়ংকর দৈত্যটি। সামান্য সময় অবস্থান করে যে পথে এসেছিলো, সেই পথে ফিরে গেলো সে। দৃশ্যের অন্তরালে হারিয়ে গেলো দৈত্যটি।
সকাল হলো। সরকারি লোকজন মেয়েটির লাশ নেয়ার জন্য মন্দিরে এলো। কিন্তু এসে তো তারা হতভম্ব! সেখানে কোনো লাশ নেই। কোনো মেয়েও নেই। তার পরিবর্তে সেখানে রয়েছে অচেনা এক মুসলিম যুবক।
তারা যুবকটিকে রাজার দরবারে নিয়ে এলো। যুবকটি রাজার নিকট সমস্ত ঘটনা খুলে বললো।
তখন রাজা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বৃদ্ধা ও মেয়েকে ডেকে আনলেন। তারা রাজার কাছে ঘটনাটির সত্যায়ন করলেন।
যুবক রাজাকে বললেন- আমি যা করেছি, তা ইসলামের শিক্ষার তাগিদে করেছি। এটা আমার প্রতি বৃদ্ধার ইহসানের সামান্য বদলা মাত্র। যুবকের মুখে সব শুনে রাজা সীমাহীন প্রভাবিত হলেন।
রাজা বললেন- হে যুবক! এতো বড় বিপদের সামনে তুমি একাকী দাঁড়ালে কীভাবে?
যুবক বললো- আমি একা ছিলাম না, আমার সাথে আমার আল্লাহ ছিলেন। আর আমার হাতিয়ার ছিলো মহান আল্লাহর কালাম পবিত্র কুরআন।
রাজা জিজ্ঞেস করলেন- তুমি ভয় পাওনি কেন?
যুবক বললো- মুসলমান একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। জীবন ও মৃত্যুর মালিক তো একমাত্র মহান আল্লাহ।
এরপর রাজা বললেন- তুমি কি আগামী বছরও এভাবে একা ওখানে যেতে পারবে?
যুবক দৃঢ়তার সাথে উত্তর দিল- আল্লাহর হুকুমে একাই যেতে পারবো।
তখন রাজা অতি আবেগের সাথে বলে উঠলেন- যদি তুমি পারো, তাহলে আমরা সবাই ইসলামের সততার সামনে মাথা নত করবো।
রাজার এ কথাকে দরবারের সকলে সমস্বরে সমর্থন করলো।
এরপর পরবর্তী বছর নির্ধারিত তারিখে সেই হাফেজে কুরআন আরব যুবক একা একা সেই মন্দিরে গেল এবং সারারাত সেখানে কুরআন তিলাওয়াত করে কাটালো।
অতঃপর সকাল বেলা সহীহ সালামতে সবার মাঝে ফিরে এলো।
এই ঘটনার পর থেকে সে বিপদ আর কখনো মালদ্বীপে আসেনি। তখন রাজা ও তার দরবারের সবাই ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর সেই রাজ্যের মানুষ দলে দলে ইসলামে দীক্ষিত হলেন।
প্রথম দিনেই পয়ষট্টি হাজার লোক মুসলমান হলেন এবং এ ধারা অব্যাহত গতিতে চলতে থাকলো। এভাবেই, এই একটিমাত্র ঘটনার প্রেক্ষিতেই ক্রমান্বয়ে মালদ্বীপের সকল মানুষ ইসলামের ছায়ায় আসার সুযোগ লাভ করেন।
তথ্যসূত্র : তারীখে ইবনে বতুতা।


মালদ্বীপ সম্মন্ধে বিশেষ কিছু জ্ঞাতব্য:
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মালদ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে নিচু দেশ। পর্যটনের জন্য বিখ্যাত এ দেশের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র দুই দশমিক তিন মিটার এবং গড় উচ্চতা মাত্র এক দশমিক পাঁচ মিটার। এক হাজার দুই শ’রও বেশি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপ।
মালদ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় তিন লক্ষ । শতকরা ১০০ ভাগ মুসলমান। ধিবেহী ভাষা বা মালদ্বীপীয় ভাষা মালদ্বীপের সরকারি ভাষা। এই দ্বীপগুলির প্রায় সবাই ধিবেহী ভাষার বিভিন্ন উপভাষায় কথা বলেন। এছারাও এখানে সিংহলি ভাষা, আরবি ভাষা এবং বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার প্রচলন আছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।
প্রাচীনকাল থেকেই সামুদ্রিক মাছ হচ্ছে দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তবে বর্তমানে দেশটি পর্যটন শিল্পেও যথেষ্ট উন্নতি করেছে। বলা যায়, দেশটির সবচেয়ে বড় শিল্প এখন পর্যটন। মোট আয়ের ২৮ শতাংশ এবং মোট বৈদেশিক আয়ের ৬০ শতাংশই আসে পর্যটন শিল্প থেকে।
মধ্যযুগে ইবন বতুতা ও অন্যান্য আরব পর্যটকেরা এই অঞ্চলকে 'মহাল দিবিয়াত' নামে উল্লেখ করেছেন। আরবীতে মহাল অর্থ প্রাসাদ। বর্তমানে এই নামটিই মালদ্বীপের রাষ্ট্রীয় প্রতীকে লেখা হয়। -সূত্র: উইকিপিডিয়া
মালদ্বীপের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
দ্বাদশ শতক থেকেই মালদ্বীপের মুসলিম শাসন। ইবনে বতুতা মালদ্বীপ গিয়েছিলেন ১৩৪৩ খ্রিস্টাব্দে। সংস্কৃতে মালদ্বীপকে লক্ষদ্বীপও বলা হয়েছে। এর অর্থ লক্ষ দ্বীপের সমাহার। আসলে মালদ্বীপ লক্ষ দ্বীপের সমাহার নয়; রয়েছে ২৬টি অ্যাটোল। (অ্যাটোল মানে লেগুন ঘেরা প্রবালদ্বীপ) ২৬টি অ্যাটোল আর ১১৯২টি ক্ষুদ্র দ্বীপ। যার মধ্যে কেবল ২০০টি বাসযোগ্য। প্রাচীন শ্রীলঙ্কার ঐতিহাসিক গ্রন্থে মালদ্বীপকে বলা হয়েছে মহিলা দ্বীপ। সম্রাট অশোকের সময়েই অর্থাৎ সেই খ্রিস্ট ৩য় শতকেই কতিপয় বৌদ্ধ ভিক্ষু নাকি গিয়েছিল লক্ষদ্বীপে। এরপর দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ওই দ্বীপে গিয়ে বাস করতে থাকে। দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী সম্ভবত ওখানে গিয়েছিল দক্ষিণ ভারত থেকে। এর পর সিংহলীরা মালদ্বীপ যায়। এরা ছিল বৌদ্ধ। এরপর মুসলিমরা ঐ দ্বীপে মুসলিম সংস্কৃতি প্রোথিত করে। সময়টা দ্বাদশ শতক। ১১৫৩ থেকে ১৯৫৩ অবধি -এই ৮০০ বছর ৯২ জন সুলতান নিরবিচ্ছিন্নভাবে শাসন করে দ্বীপটি ।
১৫০৭ সালে পর্তুগীজ পর্যটক দম লোরেনকো দে আলামেইদা মালদ্বীপে পৌঁছায়। সে সময় পশ্চিম ভারতের গোয়ায় ছিল পর্তুগীজদের বাণিজ্য কুঠি। পর্তুগীজরা বলপূর্বক কর আদায় করত। ১৫৭৩ খ্রিস্টাব্দ। মালদ্বীপের সুলতান হলেন সুলতান থাকুরুফানি আল-আযম। তিনি পর্তুগিজ দের মালদ্বীপ থেকে বহিস্কার করেন। সুলতান থাকুরুফানি আল-আযম মালদ্বীপের নবযুগের দ্রষ্টা। তিনিই নতুন লেখনির প্রচলন করেন। গড়ে তোলেন সামরিক বাহিনী। ব্রিটিশরা ১৮১৫ সালে শ্রীলঙ্কা পদানত করে। এরপর পদানত করে মালদ্বীপও। যা হোক। ১৯৫৩ সালে সালতানাতএর অবসান হয় ও মালদ্বীপ হয়ে ওঠে রিপাবলিক। মালদ্বীপের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন আমিন দিদি। তিনি নারী স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন। গোঁড়ারা পিছু লাগল। ফলে আমিন দিদি উৎখাত হয়ে যান। এরপর আইনসভা পুনরায় সালতানাত এর পক্ষে রায় দেয়। নতুন সুলতান হন মোহাম্মদ দিদি। ইনি ব্রিটিশদের সামরিক ঘাঁটি তৈরির অনুমতি দিলে ব্যাপক জনবিক্ষোভ সংগঠিত হয়। ১৯৬৫ সালের ২৬ জুলাই মালদ্বীপ ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ন স্বাধীনতা লাভ করে। -সূত্র: উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




