somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা প্রশংসনীয় প্যাচগোচ নিন্দনীয়

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১০:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
জানার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা প্রশংসনীয় প্যাচগোচ নিন্দনীয়

সূরাহ আন নাহল এর ৪৩ নং আয়াতাংশের ক্যালিগ্রাফিটি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

উনারা বলে থাকেন যে, ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকতে হবে। উনাদের বক্তব্য, ইসলাম তো একটা ধর্মমত/ জীবন ব্যবস্থা ছাড়া কিছু নয়। এর কোন নেগেটিভ ইস্যু নজরে এলে সেটা হাইলাইট করবে না? প্রশ্ন উঠলে সেটা করবে না? এখনকার যুগ আগের মত নেই। প্রশ্নাতীত আনুগত্য বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই জন্ম দেয় না। ইসলাম অযৌক্তিক কোন ধর্ম নয়, এখানে প্রতিটি প্রশ্নের অত্যন্ত যৌক্তিক জবাব আছে। তাই প্রশ্ন উঠানোর সুযোগ খোলা রাখতে হবে। ইসলাম নিয়ে কারো প্রশ্ন থাকলে সেটা করার সুযোগ দিতে হবে।

খুবই ভালো কথা। সুন্দর বক্তব্য। একেবারে সরল সহজ কথা। এসব বক্তব্য দেখলে আপাতঃদৃষ্টিতে যে কারও মনে হতেই পারে - হ্যাঁ, তারা তো ঠিকই বলেন, প্রশ্ন করার অধিকার তো যে কারোর থাকাই উচিত। আমাদেরও এতে আপত্তি নেই একটুও। বরং, প্রশ্ন করতে পছন্দ করি আমরাও। প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলাম ধর্মেও। কুরআনের একটি আয়াতের প্রতি একটু লক্ষ্য করলেই আমরা বুঝতে পারবো যে, ইসলাম প্রশ্ন করার ব্যাপারে কেমন নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-

فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

অতএব, যদি তোমরা না জানো, তবে যারা জ্ঞানী তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো। -সূরাহ আন নাহল, আয়াত ৪৩

বক্ষমান আয়াতে জ্ঞানীদের কাছে প্রশ্ন করে অজ্ঞাত/ অজানা বিষয় জেনে নিতে বলা হয়েছে। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, জ্ঞানের অনুসন্ধান করা এবং প্রশ্ন করা ইসলামে অনুমোদিত ও উৎসাহিত একটি কাজ।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

إِنَّمَا الشِّفَاءُ العِيِّ السُّؤَالُ

অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো প্রশ্ন করা। -সুনান আবু দাউদ 336

অন্য এক হাদিসে এসেছে:

طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ

জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। -ইবন মাজাহ 224

জ্ঞানার্জনের বিষয়ে কুরআন হাদিসে এমন ভূরি ভূরি নির্দেশনা পাওয়া যাবে। সেসবের উল্লেখ করলে নিবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি পাবে।

প্রশ্ন করে জেনে নেওয়া ভালো কিন্তু সেই প্রশ্ন যদি হয় "তুমি কি বউ পেটানো ছেড়ে দিয়েছ? না কি, এখনও পেটাচ্ছ?" কিংবা "তুমি কি চুরি করা ছেড়ে দিয়েছ? না কি, এখনও চুরি করেই যাচ্ছ?" টাইপের, তাহলে কী উত্তর দিবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে "বউ পেটানো" বা "চুরি করা" ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে যদি "হ্যাঁ" বলেন তাহলে আপনি কিন্তু স্বীকার করে নিলেন আপনি আগে বউ পেটাতেন বা চুরি করতেন। আবার যদি "এখনও চুরি" অথবা "বউ পেটানো" অব্যাহত রাখার উত্তরে "হ্যাঁ" কিংবা "না" যেটাই বলেন না কেন, আপনাকে কিন্তু বউ পেটানোর বা চুরি করার বিষয়টায় নিজের উপরে দায় মেনে নিয়েই উত্তর দিতে হচ্ছে।

সম্প্রতি একজন এমনই একটি প্রশ্নকে সামনে রেখে পোস্ট লিখেছেন যে, উহুদের যুদ্ধে ওমর এবং আবু বক্কর কেন পালিয়ে ছিলেন? সেই পোস্টে তিনি মনগড়াভাবে কোনো রেফারেন্স ব্যতিরেকে এই মিথ্যা প্রশ্নের আজগুবি উত্তরও দিয়েছেন। ব্লগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে এসব মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এটাই মূল পয়েন্ট। আসল সমস্যাটা উনাদের। উনারা প্রশ্নই করেন ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে। প্রশ্নেই তারা আপনাকে ঘায়েল করে দিবে। প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেই আপনি বিপদে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। মূলকথা, উনারা জানার জন্য প্রশ্ন করেন না। প্রশ্ন করেন প্যাচগোচ লাগিয়ে দিয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকারের আশায়। ইসলাম ধর্মের কোনো একটি দোষ খুঁজে বের করার জন্যই তাদের মরিয়া হয়ে এসব অপচেষ্টা।

তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল এবং আপত্তিকর বিষয় হচ্ছে, ইসলামের নামে গুজব এবং মিথ্যাচার ছড়ানো। এটা তারা প্রতিনিয়তই করে থাকেন। গুজব ছড়াবেন, মিথ্যা অপতথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ গালিগালাজ করবেন, নবী রাসূল, কুরআন হাদিস, সাহাবাদের নিয়ে যাচ্ছেতাই বাজে কথাও লিখতে থাকবেন আবার প্রশ্ন করার অধিকারের আবদারও তুলবেন! খুবই হাস্যকর! এগুলোকে স্রেফ ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু বলা যায় কি?

শুভকামনা সকলের প্রতি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১০:৫৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিত্রের তালাশ ও মিত্রতা তৈরিঃ প্রসঙ্গ আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাঙলায় পাওলো কোয়েলহোর সর্বাধিক বইয়ের অনুবাদক হিসেবে দেখেছি তিনি তাঁর প্রায় সকল বইয়ে একটা জিনিসকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা হলোঃ মিত্র তালাশ করা বা তৈরি করা। এই জিনিস আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×