
উনারা বলে থাকেন যে, ইসলাম নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ থাকতে হবে। উনাদের বক্তব্য, ইসলাম তো একটা ধর্মমত/ জীবন ব্যবস্থা ছাড়া কিছু নয়। এর কোন নেগেটিভ ইস্যু নজরে এলে সেটা হাইলাইট করবে না? প্রশ্ন উঠলে সেটা করবে না? এখনকার যুগ আগের মত নেই। প্রশ্নাতীত আনুগত্য বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই জন্ম দেয় না। ইসলাম অযৌক্তিক কোন ধর্ম নয়, এখানে প্রতিটি প্রশ্নের অত্যন্ত যৌক্তিক জবাব আছে। তাই প্রশ্ন উঠানোর সুযোগ খোলা রাখতে হবে। ইসলাম নিয়ে কারো প্রশ্ন থাকলে সেটা করার সুযোগ দিতে হবে।
খুবই ভালো কথা। সুন্দর বক্তব্য। একেবারে সরল সহজ কথা। এসব বক্তব্য দেখলে আপাতঃদৃষ্টিতে যে কারও মনে হতেই পারে - হ্যাঁ, তারা তো ঠিকই বলেন, প্রশ্ন করার অধিকার তো যে কারোর থাকাই উচিত। আমাদেরও এতে আপত্তি নেই একটুও। বরং, প্রশ্ন করতে পছন্দ করি আমরাও। প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলাম ধর্মেও। কুরআনের একটি আয়াতের প্রতি একটু লক্ষ্য করলেই আমরা বুঝতে পারবো যে, ইসলাম প্রশ্ন করার ব্যাপারে কেমন নির্দেশনা আমাদেরকে দিয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
অতএব, যদি তোমরা না জানো, তবে যারা জ্ঞানী তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো। -সূরাহ আন নাহল, আয়াত ৪৩
বক্ষমান আয়াতে জ্ঞানীদের কাছে প্রশ্ন করে অজ্ঞাত/ অজানা বিষয় জেনে নিতে বলা হয়েছে। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, জ্ঞানের অনুসন্ধান করা এবং প্রশ্ন করা ইসলামে অনুমোদিত ও উৎসাহিত একটি কাজ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
إِنَّمَا الشِّفَاءُ العِيِّ السُّؤَالُ
অজ্ঞতার চিকিৎসা হলো প্রশ্ন করা। -সুনান আবু দাউদ 336
অন্য এক হাদিসে এসেছে:
طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ
জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। -ইবন মাজাহ 224
জ্ঞানার্জনের বিষয়ে কুরআন হাদিসে এমন ভূরি ভূরি নির্দেশনা পাওয়া যাবে। সেসবের উল্লেখ করলে নিবন্ধের কলেবর বৃদ্ধি পাবে।
প্রশ্ন করে জেনে নেওয়া ভালো কিন্তু সেই প্রশ্ন যদি হয় "তুমি কি বউ পেটানো ছেড়ে দিয়েছ? না কি, এখনও পেটাচ্ছ?" কিংবা "তুমি কি চুরি করা ছেড়ে দিয়েছ? না কি, এখনও চুরি করেই যাচ্ছ?" টাইপের, তাহলে কী উত্তর দিবেন?
এমন প্রশ্নের উত্তরে "বউ পেটানো" বা "চুরি করা" ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে যদি "হ্যাঁ" বলেন তাহলে আপনি কিন্তু স্বীকার করে নিলেন আপনি আগে বউ পেটাতেন বা চুরি করতেন। আবার যদি "এখনও চুরি" অথবা "বউ পেটানো" অব্যাহত রাখার উত্তরে "হ্যাঁ" কিংবা "না" যেটাই বলেন না কেন, আপনাকে কিন্তু বউ পেটানোর বা চুরি করার বিষয়টায় নিজের উপরে দায় মেনে নিয়েই উত্তর দিতে হচ্ছে।
সম্প্রতি একজন এমনই একটি প্রশ্নকে সামনে রেখে পোস্ট লিখেছেন যে, উহুদের যুদ্ধে ওমর এবং আবু বক্কর কেন পালিয়ে ছিলেন? সেই পোস্টে তিনি মনগড়াভাবে কোনো রেফারেন্স ব্যতিরেকে এই মিথ্যা প্রশ্নের আজগুবি উত্তরও দিয়েছেন। ব্লগে মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে এসব মিথ্যাচার কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এটাই মূল পয়েন্ট। আসল সমস্যাটা উনাদের। উনারা প্রশ্নই করেন ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে। প্রশ্নেই তারা আপনাকে ঘায়েল করে দিবে। প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলেই আপনি বিপদে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। মূলকথা, উনারা জানার জন্য প্রশ্ন করেন না। প্রশ্ন করেন প্যাচগোচ লাগিয়ে দিয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকারের আশায়। ইসলাম ধর্মের কোনো একটি দোষ খুঁজে বের করার জন্যই তাদের মরিয়া হয়ে এসব অপচেষ্টা।
তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল এবং আপত্তিকর বিষয় হচ্ছে, ইসলামের নামে গুজব এবং মিথ্যাচার ছড়ানো। এটা তারা প্রতিনিয়তই করে থাকেন। গুজব ছড়াবেন, মিথ্যা অপতথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন, ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ গালিগালাজ করবেন, নবী রাসূল, কুরআন হাদিস, সাহাবাদের নিয়ে যাচ্ছেতাই বাজে কথাও লিখতে থাকবেন আবার প্রশ্ন করার অধিকারের আবদারও তুলবেন! খুবই হাস্যকর! এগুলোকে স্রেফ ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু বলা যায় কি?
শুভকামনা সকলের প্রতি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



