somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

অবশেষে মায়ের বাড়ি ফেরা ও তুরিনের ভুয়া ডিগ্রি কাহিনী—এক আলোচিত আইনজীবীর পতনের গল্প

০৬ ই মে, ২০২৫ সকাল ৯:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
অবশেষে মায়ের বাড়ি ফেরা ও তুরিনের ভুয়া ডিগ্রি কাহিনী—এক আলোচিত আইনজীবীর পতনের গল্প

ছবি যুগান্তর অনলাইন থেকে সংগৃহিত।

আলোচিত আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বিতর্ক বর্তমানে চরমে। একদিকে রাজধানীর উত্তরায় পারিবারিক বাড়ির মালিকানা নিয়ে মাকে উচ্ছেদের অভিযোগে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি ঘটেছে। মা ফিরে পেয়েছেন নিজ বাড়িতে থাকার অধিকার অন্যদিকে, তুরিনের পিএইচডি ডিগ্রি ভুয়া বলে তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ এসেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

মাকে উচ্ছেদের অভিযোগ ও আইনি লড়াই
২০১৭ সালে তুরিন আফরোজ তার মা শামসুন্নাহার বেগম ও ভাই শিশির আহমেদ শাহনেওয়াজকে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের একটি পাঁচতলা বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন বলে অভিযোগ। তারা দাবি করেন, ১৯৯১ সালে শামসুন্নাহার জমি কিনে ১৯৯৭ সালে ছেলেকে হেবা করেন এবং ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন। অন্যদিকে, তুরিন বলেন—তিনি বাবার কাছ থেকে ১৯৯৪ সালে জমি পেয়েছেন।

এই দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে উভয় পক্ষ দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্ট ২০২৪ সালে শামসুন্নাহার ও শাহনেওয়াজকে বসবাসের অধিকার দিয়ে স্থিতাবস্থা বাতিল করে। আপিল বিভাগ ২০২৫ সালের ৫ মে এই রায় বহাল রাখে, ফলে মা নিজের বাড়িতে ছেলেসহ বসবাসের পূর্ণ অধিকার ফিরে পান।

আইনের দৃষ্টিতে নিষ্পত্তি ও পরবর্তী ধাপ
সরকারের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, তুরিন আফরোজ প্রসিকিউটর থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেন। আদালত শামসুন্নাহারের পক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। এখন মালিকানা সংক্রান্ত দুটি মামলা বিচারিক আদালতে চলবে।

ভুয়া ডিগ্রির বিস্ফোরক তথ্য
২০২৫ সালের ৪ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হায়দার জানান, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস নিশ্চিত করেছে—তুরিন আফরোজ কখনও তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ডক্টরেট সম্পন্ন করেননি। অথচ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে তিনি এই ভুয়া ডিগ্রি দেখিয়ে পদে নিয়োগ পান। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই তার পেশাগত সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তুরিন যেসব মামলায় লড়েছেন সেগুলোর কী হবে?
তুরিন আফরোজের ভুয়া ডিগ্রি ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক তার সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত অবস্থানকে নিচে নামিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির নয়—এটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে। মোটা দাগে যে প্রশ্নটি এখন উঠে এসেছে, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে তুরিন যেসব মামলায় লড়েছেন সেগুলোর কী হবে?

তুরিন আফরোজের মত একজন মিথ্যাবাদী, অসৎ ও জঘণ্য প্রতারককে দলকানা যেসব লোক কোনো ধরণের যাচাই বাছাই ছাড়াই রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মত অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর দপ্তরে বিশাল বড় একটি পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। দেশবাসী তুরিন কান্ডে যুক্ত সকল অপরাধীর বিচার প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায়।

তথ্যসূত্রঃ নিজ বাসায় থাকার অধিকার ফিরে পেলেন তুরিন আফরোজের মা
তুরিন আফরোজের ডক্টরেট ডিগ্রি ভুয়া: আপিল বিভাগে তথ্য-প্রমাণ দাখিল
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০২৫ সকাল ১০:২০
৮টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধূসর ওয়ালেট

লিখেছেন মোহাম্মদ সজল রহমান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৭

একটা ধূসর রংয়ের ওয়ালেট
সবুজাভ ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হলো নীরবে
তার শান্ত হাতের উপর চেপে ধরতেই প্রশ্ন -
এটা আমার জন্য ?
ঘাড় নেড়ে সম্মতি দেখেই চঞ্চলতা ছুঁয়ে গেলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×