somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ইসরায়েলের তথাকথিত আত্মরক্ষার অধিকার ও খুনীর দোসরদের উল্লাস

১৮ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ইসরায়েলের তথাকথিত আত্মরক্ষার অধিকার ও খুনীর দোসরদের উল্লাস

ছবি এআই এর সহায়তায় তৈরি।

প্রতিটি হত্যার পরেই খুনীর দোসররা সোৎসাহে বলে ওঠে—
"ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।"
কিন্তু ইসরায়েলের এই "আত্মরক্ষা"টা আসলে কী?
মধ্যপ্রাচ্যের বুকে ধারাবাহিকভাবে চলা
এই ধ্বংসযজ্ঞ কি সত্যিই আত্মরক্ষা, নাকি এক নির্মম গণহত্যা?

পাখির মতো নিরীহ মানুষদের গুলি করে হত্যা,
নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে বোমাবর্ষণ,
শিশুদের ঝাঁঝরা করা দেহ, লাশের স্তূপ,
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ—
এসব কি আদৌ কোনো ন্যায্য আত্মরক্ষার অজুহাত হতে পারে?

সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরান—প্রতিটি প্রান্তে
রক্তের হোলিখেলা চালিয়ে যারা হত্যায় মত্ত,
তাদের পশ্চিমা পৃষ্ঠপোষক শুকরখেকোরা
গদগদ ভঙ্গিতে ঢেকুর তোলে অতঃপর
ঠাণ্ডা মাথায় বলে, "ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।
Israel has the right to self-defense"

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—
কত রক্ত ঝরালে এই 'আত্মরক্ষা' পরিপূর্ণ হবে?
কত মায়ের কোল খালি হলে তাদের তৃপ্তি আসবে?
কত শিশুকে, কত বাবা-মা, ভাই-বোন,
স্বামী-স্ত্রীকে মরতে হবে,
তবেই কি তারা বলবে— "এবার যথেষ্ট হয়েছে!"?

যদি এই 'অধিকার'-এর দাম হয় লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ প্রাণ,
যদি তা রক্ত দিয়ে লিখতে হয় মানবতার ইতিহাস,
তবে এটি আর আত্মরক্ষা নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা,
ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়।

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।
এই হত্যাযজ্ঞের দায় শুধু ইসরায়েলের নয়—
এর দায় সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির,
যে ইসরায়েলকে অস্ত্র ও সমর্থন দিয়ে
এই নৃশংসতাকে উস্কে দিচ্ছে।
এর দায় পশ্চিমা মিডিয়া ও নীতিনির্ধারকদের,
যারা এই বর্বরতাকে 'আত্মরক্ষা' নামে সাজাতে চায়।
এর দায় সেই সব নীরব দর্শকের,
যারা অন্যায় দেখেও চোখ ঘুরিয়ে নেয়।

রক্তপাতের এই নাটক শেষ হতে হবে।
মানবতা জয়ী হোক, নিষ্ঠুরতা নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৫ দুপুর ২:৫৭
৩টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১

কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০

নাগরিকের অপমান ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সংকট: ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ঘটনা

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কট করে নাই কারণ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩


সেখানে একজন আসিফ নজরুল ছিলেন না, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন না! পুরো বিশ্বজুড়ে এখন ফুটবলের উন্মাদনা। যে সব দেশ মাঠে লড়ছে আর যারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি উত্তেজনা সবখানেই সমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×