
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ইরানের ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহানে ন্যাকারজনক হামলা চালিয়েছে—এটি বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি, "এভাবে চলতে দেওয়া হবে না, হয় শান্তি নয়তো ইরানের জন্য ট্র্যাজেডি," মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই পুরনো আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী নীতিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই "শান্তি প্রতিষ্ঠার" নামে যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপের ফলাফল সবসময়ই ধ্বংস, অস্থিরতা ও মানবিক বিপর্যয়ের দরজা খুলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে "শান্তি আনার" দাবি করে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে, সেসব দেশ আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে ইরাক, আফগানিস্তান থেকে সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, বসনিয়া, সোমালিয়া ও লিবিয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। ইরাকে লক্ষাধিক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু, আফগানিস্তানে দুই দশকের যুদ্ধের পর তালেবানের বিজয়, সিরিয়ায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলো, ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, ইয়েমেনে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট, লিবিয়ায় গৃহযুদ্ধ ও অরাজকতা—এগুলো কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও হস্তক্ষেপের সরাসরি ফলাফল।
পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের "সভ্য" বলে দাবি করলেও তাদের কর্মকাণ্ড প্রকৃত সভ্যতার বিপরীত। সত্যিকারের সভ্যতা কি শুধুই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নাকি তা ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে গড়ে ওঠে? যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বারবার আন্তর্জাতিক আইনকে পদদলিত করে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, নিরপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস করছে। তাদের এই নীতির বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে জোরালোভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।
ইরান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসন মোকাবিলা করে টিকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ইরানের সংকল্পকে ভাঙতে পারবে না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও হস্তক্ষেপ শুধু ধ্বংসই নিয়ে এসেছে, কখনো শান্তি নয়। বিশ্ববাসীর উচিত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার ও প্রকৃত শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। কারণ, প্রকৃত সভ্যতা শান্তি ও ন্যায়ের পথে চলা—এবং সেই পথে হাঁটতে যুক্তরাষ্ট্রের এখনো অনেক শেখার বাকি।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০২৫ রাত ১০:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





