
শেখ হাসিনা যে কি জিনিষ ছিল, এই দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে চিনলো না। দুঃখে কলিজাটা ফাইট্টা যায়! শেখ হাসিনার উদারতা আর মহানুভবতার উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল! তিনি কি না করেছেন এই দেশের জন্য! তারপরও তার বদনাম করে মানুষ! মানুষ আসলেই বদ! গুমে রাজি না হওয়া কর্মকর্তাদের পুরষ্কার পর্যন্তু দিতে কার্পণ্য করতেন না তিনি। জ্বি, ঠিকই শুনেছেন। গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যারা বেআইনি হত্যাকাণ্ড বা গুমে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাতেন, তাদের বিরুদ্ধেও নজরদারি করা হতো, তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো এবং তাদের লেখা চিঠি সরাসরি শেখ হাসিনার হাতে পৌঁছত। এমনকি, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা। আর এসবই ছিল হাসিনার পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ পুরষ্কারের অংশ। মজার বিষয় হচ্ছে, এমন কিছু চিঠি শেখ হাসিনার ফাইল থেকে পাওয়া গেছে যা তিনি ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সংরক্ষণ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুমের আদেশ সেনা ও বেসামরিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে দেওয়া হতো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ডিজিএফআই ও র্যাবের মতো সংস্থাগুলোর মধ্যস্থতায় এই আদেশ কার্যকর হতো। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্দীদের বিষয়ে মতামত দিতেন বলেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন বলছে, যারা গুমের আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নজরদারি, বদনাম, এমনকি পারিবারিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পেশাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হতো। কোনো কোনো কর্মকর্তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো এবং সন্দেহের চোখে দেখা হতো। আওয়ামী লীগ বরাবর গুমের অভিযোগ অস্বীকার করলেও শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের অবস্থান নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন দলটি বলছে, এসব কাজ হয়তো সামরিক বাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে হয়েছে।
তবে তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, শেখ হাসিনার সরাসরি জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, এবং এটি ছিল একটি রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত দমনযন্ত্রের অংশ। শেখ হাসিনার তুলনা শেখ হাসিনাই। এইজাতীয় টেকনিক্যাল কূটবুদ্ধিতে হাসিনা নেতানিয়াহু কিংবা মোদীকেও সম্ভবতঃ ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। রক্তখেকো এমন দানবীয় নেতৃত্ব বাংলাদেশ ইতোপূর্বে দেখেনি ভবিষ্যতেও আর কখনও দেখবে না। তবে হাসিনার জন্যও এটা সৌভাগ্য যে, বাংলাদেশীরা হাসিনাকে তার শেষ পাওনাটা কড়ায় গন্ডায় আদায় করে দিতে মোটেই ভুল করেনি। তাকে তুলে দিয়েছে তার পেয়ারের মোদীর দেশ ভারত মাতার কোলে।
গুমে রাজি না হওয়া কর্মকর্তাদের তথ্যও যেত শেখ হাসিনার কাছে
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১১:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





