somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

পরের ধনে পোদ্দারি! ছিনতাই হয়েছিল মাত্র ৯৭৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম!!!

২৭ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পরের ধনে পোদ্দারি! ছিনতাই হয়েছিল মাত্র ৯৭৭টি প্রতিষ্ঠানের নাম!!!

ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহিত।

পরের ধনে পোদ্দারি!

জ্বি, ঠিকই শুনেছেন! সত্যিকারের "পরের ধনে পোদ্দারি" বোধ করি ইহাকেই বলে! জণগণের শ্রমের ঘামের ট্যাক্সের টাকায় নামকরণের ইতিহাসের সবচেয়ে নির্লজ্জ শ্রাদ্ধ চলেছিল বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে! গত ১৬ বছরে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার এবং আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাদের নামে মাত্র(!) ৯৭৭টি সরকারি অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের নাম ছিনতাই করে বসানো হয়েছিল! এ যেন এক বিশাল ‘নামকরণ মহোৎসব’—যেখানে দেশের প্রতিটি স্থাপনাকে আওয়ামী করণের ঘোর ষড়যন্ত্রকে রাষ্ট্রের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই তথ্য প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং প্রকাশ করেছে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, নামকরণকৃত এসব প্রতিষ্ঠানের ৮০৮টির নাম ইতোমধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে, আর বাকি ১৬৯টি নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অবৈধ ও বিতর্কিতভাবে, জনগণের অর্থে—ঐ পরিবারের ছয় সদস্যের নামে এসব নামকরণ, উৎসব ও সেমিনারে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৩৪,০০০ কোটি টাকা! এর মধ্যে—

৩,২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে, ১,৮৮৯.২২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে দেশজুড়ে “মুজিব কর্নার” নির্মাণে, আর ১,২৯০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি (ভাস্কর্য) ও নামফলক তৈরিতে!

চলুন, এক নজরে দেখে নিই—মন্ত্রণালয়/বিভাগভিত্তিক এই নাম ছিনতাইয়ের তালিকাটি:

নামকরণ করা অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা, অনলাইন থেকে সংগৃহিত।

১ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪
২ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ০৭
৩ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ০১
৪ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ২০
৫ স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ২০
৬ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৪
৭ সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয় ৩
৮ কৃষি মন্ত্রণালয় ৫
৯ বানিজ্য মন্ত্রণালয় ৫
১০ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১৫
১১ সেতু বিভাগ ২
১২ রেলপথ মন্ত্রণালয় ৭
১৩ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৯
১৪ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ৩১৫
১৫ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ৭
১৬ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩
১৭ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১
১৮ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২
১৯ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ৩
২০ তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগ ৪৯
২১ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ২
২২ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১১
২৩ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ৬
২৪ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৯
২৫ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮৪
২৬ আইন ও বিচার বিভাগ ১
২৭ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ২০৫
২৮ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৭
২৯ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ১৫
৩০ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮
৩১ বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ১
৩২ জননিরাপত্তা বিভাগ ৪
৩৩ কৃষি মন্ত্রণালয় ৬
৩৪ স্থানীয় সরকার বিভাগ ৭৭
মোট: নামকরণকৃত স্থাপনা/প্রতিষ্ঠান: ৯৮৮

এক কথায়, ইতিহাসের নিকৃষ্ট এই কালো অধ্যায়টি হয়ে থাকবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের রাজনৈতিক দখলদারিত্বের এক নির্মম দলিল।

১৬ বছরে হাসিনা ও পরিবারের নামে প্রায় ১০০০ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ

শেখ পরিবারের নামে থাকা সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

শেখ পরিবারের নামে থাকা সহস্রাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে : প্রধান উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের নামে থাকা ৯৯৭ অবকাঠামো-প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

শেখ পরিবারের নাম ২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাদ

শেখ পরিবারের নামে থাকা ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন, অধ্যাদেশ জারি

৮০৭ সরকারি অবকাঠামো, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন

৯৭৭ অবকাঠামোর নাম পরিবর্তন, বেশির ভাগ ছিল শেখ পরিবারের নামে

শেখ হাসিনার পরিবারের নামে ৯৭৭ স্থাপনা, অধিকাংশের নাম পরিবর্তন

থাক, আর রেফারেন্স দিতে চাই না। রেফারেন্স দিলে ভয় হয়, ইতিহাসই হয়তো লজ্জায় মুখ লুকাবে! তালিকা তখন আর তালিকা থাকবে না, রীতিমতো এক “লুটপাটপঞ্জি” হয়ে দাঁড়াবে। মূলকথা, আওয়ামী অপশাসনের প্রকৃত রূপ বুঝতে, তাদের দুর্নীতির ডকুমেন্টারি খুঁজতে আর শত শত নথিপত্রের দরকার নেই—শুধু এই নামকরণের মহোৎসবটাই যথেষ্ট, যদি কারও বিবেক জেগে থাকে, যদি চোখদুটি দলান্ধতায় অন্ধ না হয়।

দশটা, বিশটা নয়—সরাসরি ৯৭৭টি সরকারি স্থাপনার নাম ছিনতাই! এ যেন এক নাম-নিধনের সাম্রাজ্য! শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের নামে দেশজুড়ে ‘নাম বসানো’র এই অপকীর্তিগাথা পড়লে মনে হয়, গোটা দেশটাই বুঝি তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি ছিল!

পরিশেষে বলি, ইতিহাসের খাতা খুলে আর পৃষ্ঠা বাড়িয়ে লাভ নেই। শুধু যদি একটু বিবেক থাকে, আওয়ামী লুটের ভয়াবহতা অনুধাবনের জন্য এই একটি নজিরই শত রেফারেন্সের সমান।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১১:২১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×