somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

মব জাস্টিস: আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ বিচারহীনতার ফসল

২৮ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মব জাস্টিস: আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ বিচারহীনতার ফসল

প্রতীকি ছবিটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি।

বাংলাদেশে “মব জাস্টিস” বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং এটি এক ভয়ঙ্কর সামাজিক প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে মানুষ কেন নিজের হাতে বিচার করছে—এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গেলে আমাদের তাকাতে হবে ফেলে আসা দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বিচার বিভাগের দলীয় নিয়ন্ত্রণের দুঃসহ অতীতে।

গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার একচ্ছত্র ক্ষমতায় থেকে আইন-প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছে। সরকারদলীয়দের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, খুন, দুর্নীতি বা সহিংসতার অভিযোগ উঠলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হয়নি। অনেক মামলাই গায়েব হয়ে গেছে, অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীরাই হয়রানির শিকার হয়েছে। ফলে মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ভেঙে পড়েছে।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, তনু হত্যা, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড কিংবা দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের রক্ষা—এসব ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, ক্ষমতাসীনদের জন্য এ দেশে বিচার প্রক্রিয়া প্রায় অকার্যকর। তখন সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের উপরে একযোগে হামলে পড়তো ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং পুলিশ। প্রতিটি মারামারি, খুনোখুনির পর্ব শেষে দেখা যেত, নির্যাতিতদের নামেই মামলার পরে মামলা রুজু করা হতো। এটাই ছিল সারা দেশের অলিখিত আইন।

এই বিচারহীনতার সুযোগেই মানুষ আজ নিজের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, থানায় অভিযোগ নিতে গড়িমসি এবং প্রভাবশালীদের রক্ষা করা—এসবই মব জাস্টিসের বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে। এখানে অভিযোগই রায় হয়ে যাচ্ছে, ভুল-সঠিক যাচাইয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না।

মব জাস্টিস একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি—এটি কোনোভাবেই সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এই অসভ্যতার জন্ম হয়েছে রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতি থেকে। সমাধানের পথ একটাই: বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে, পুলিশ-প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং অপরাধী যেই হোক, দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের মনে রাখা জরুরি—একটি বিচারহীন রাষ্ট্রে শেষ পর্যন্ত কেউ-ই নিরাপদ থাকে না, এমনকি শাসকরাও না। এখনই সময় আত্মসমালোচনার—“আমরাও কি এই মব জাস্টিসের অংশ কি না?”

জুলাই বিপ্লব: ছাত্র-জনতার ক্ষোভ ও গণপ্রতিরোধ 'মব' নয়

ইদানিং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ক্ষোভ ও গণপ্রতিরোধকে ঢালাওভাবে ‘মব’ আখ্যা দেওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। এটি ফ্যাসিবাদের একটি কৌশল, যার লক্ষ্য ছাত্র-জনতার ক্ষোভ ও গণপ্রতিরোধকে কলুষিত করা। অপরাধীদের আড়াল করে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর অপচেষ্টা।

অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিবাদ নির্মূলের চেষ্টা করলেও অনেক অপরাধী এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তাই ছাত্র-জনতা চুপ করে নেই। তারা সরকার-প্রশাসনের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে সামনে এসে দায়িত্ব নিচ্ছে। ভবিষ্যতের কোনো ফ্যাসিস্ট তৎপরতার বিরুদ্ধে তারা এক অশনিসংকেত।

তবে ষড়যন্ত্রও থেমে নেই। জুলাই বিপ্লব এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তাই প্রয়োজন সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ঐক্য। বিভেদ ভুলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণপ্রতিরোধই হবে আগামীর পথ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০২৫ সকাল ১০:২৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×