somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপলব্ধি ১

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৩ অক্টোবর ২০১৪, রাত ২:৪৫। এম.ভি.ভোলার ছোট্ট সিঙ্গেল কেবিনে একা ঘুমাচ্ছিলাম আমি। হঠাৎ কোন কিছুর সাথে সংঘর্ষের প্রচণ্ড শব্দ আর ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙে গেলো আমার। ঘুম ভাঙ্গার পরে বুঝতেই পারছিলাম না যে কি হয়েছে। শুধু উত্তেজিত যাত্রীদের কথাবার্তা কানে আসছিলো আর দেখছিলাম আমার লাগোয়া বারান্দাটি ঢেউয়ের তালে দুলে দুলে পানির দিকে ঝুঁকে আসছে। আমি পাথরের মূর্তির মতো বসে থাকলাম বহুক্ষণ। আমি সাঁতার জানিনা। সেই প্রমত্তা মেঘনার মাঝখানে বসে মৃত্যুভয়ের মতো ভয়ংকর অনুভূতি আর কিছুই হতে পারেনা।
পরে জেনেছিলাম, কোন একটি লঞ্চ অথবা মাছ ধরার ট্রলার এর সাথে সংঘর্ষ হয়েছিল এবং ঠিকমতো তাল সামলাতে না পারলে আমাদের লঞ্চটির মেঘনার বুকে ডুবে যেতে কয়েকটি মিনিট লাগতো মাত্র।
আমার "Palpitations"এর সমস্যা আছে। কাঁপা হাতে "indever" খেয়ে আমি বারান্দাতে এসে দাঁড়ালাম। সে এক অদ্ভুত অনুভূতি। ডানে বায়ে সামনে পিছনে, দৃষ্টিসীমার মধ্যে পুরোটিই কৃষ্ণগহ্বরের মতো নিকষ অন্ধকারে ঢাকা। শুধু আকাশ ভরা হাজারো তারা ... অনন্ত নক্ষত্রবীথি। মৃত্যুর আগে প্রিয়জনের মুখ নয় বরং শুধু তারা গুলোই দেখে যেতে পারতাম আমি।
এই অভিজ্ঞতার পর হতে আমার শুধু মনে হচ্ছে, মানুষের জীবনের সকল সকল সকল কিছুই তুচ্ছ, গুরুত্বপূর্ণ শুধু বেঁচে থাকাটা। কত শত জিনিসের জন্য আমরা আফসোস করে যাই সারাটা জীবন, কিন্তু অনুভব করিনা যে শুধু বেঁচে থাকাই সৃষ্টিকর্তার এক ভারী চমৎকার উপহার। যতদিন আমাদের জীবন আছে, আমরা এর মর্ম বুঝতে পারিনা।

"বেঁচে আছি এই তো আনন্দ,
এই আনন্দের জন্য আমি সবকিছু মাথা পেতে নেবো, যে কোনো দুঃখ, যে কোনো শাস্তি-
শুধু এই ভোরের একটু আলো দেখার জন্য আমি পথের ভিক্ষুক হতে রাজি
এই যে গোলাপ ফুলটির দিকে যতোক্ষণ খুশি তাকিয়ে থাকতে পারি, এই সুখে আমি হাসিমুখে সব দুঃখ- মাথা পেতে নেবো।
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই আনন্দের কাছে কোনো দুঃখই কিছু নয়
এই নির্বাসন, এই শাস্তি, এই দ্বীপান্তর; এই মেঘ, এই ঝুম বৃষ্টি, এই শিশিরের শব্দের জন্য
আমি সহস্র বছরের কারাদন্ড- মাথায় নিয়েও বেঁচে থাকতে চাই,
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই আনন্দে সব আঘাত আমি মাথা পেতে নেবো। "

...সারাটি রাত আমি মহাদেব সাহা'র এই কবিতাটি পরেছি আর আল্লাহ্‌কে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
বেঁচে আছি বলেই না জীবন এতো সুন্দর, রঙিন আর আনন্দের। :-)
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×