জীবনে এই দুঃসাহসটা একবারই করেছিলাম। আশ্চর্যের কথা, সে বারই সফল হয়েছিলাম। প্রথম দিনই আমাকে ওর সাথে দেখা করতে বললো। দেখা করলাম। কিছুক্ষন তাকা তাকি হল,কিছু কথাও হল। যদি দশটা কথা হয়ে থাকে তাহলে আটটা কথাই সে বলে ছিল। মনের মাঝে কি যে সুখের ঝড় শুরু হয়েছিল তা হয়তো কোন দিন বলা যাবে না। প্রথম প্রেমের প্রথম সুখ। আহা সে কি আনন্দ! দুদিন পর আমি বলার আগেই সে বললো আমার সাথে দেখা করতে চায়। কোন জায়গায় দেখা হবে,নাম বলতে। আমি একটা জায়গার নাম বলে দিলাম। অপেক্ষার সে দিন এসে গেল। দশটায় দেখা করার কথা থাকলেও নয়টাই আমি দিলাম ঘুম। আমি আবার ঘুমের গাঁধা ছিলাম খুব। সময়ের প্রতি সতর্কতা আমার কখনো ছিল না হয়তো আসবেও না। আজও ডিউটিতে 5-10 মিনিট পরে জয়েন করি।বস বলেন, আমি তোমাদের বস হয়ে যদি 15 মিনিট আগে আসতে পারি, তোমরা কেন পারবেনা।
যাই হোক, আমার এক বন্ধু ঘুম থেকে আমাকে জাগালো। তোর ডারলিং তোর জন্য অপেক্ষা করছে আর তুই এখনো ঘুমুচ্ছিস?
তারা তারি ছুটলাম।
আমার দুই বন্ধু আমার সাথে ছিল। আমি ই রেখেছিলাম। কেমন যেন ভয় ভয় লাগছিল।প্রথম প্রেম,হয়তো তাই। আমাকে সে ইংগিত করলো আমার বন্ধদের কে যেন একটু দূরে যেতে বলি। আমি বন্ধুদেরকে বললাম তোরা এখানে বস। আমরা একটু ওদিক থেকে ঘুরে আসি। ছোট একটা গাছের নিচে ঘাসের উপর বসলাম আমরা দুজন। আশে পাশে কোন জন মানব নেই। নিরব নির্জন একটা স্থান। খুব রোমান্টিক মোড উভয়ের। চোখে চোখ রাখতে পারছিনা। চোখে চোখ রাখতে গেলেই যেন সকল লজ্জা আমাকে আকড়ে ধরছে। কিন্তু ও আমার দিকে এক নজরে তাকিয়ে রয়েছে। লজ্জাটা নারীর ভুষন হলেও তখন হয়েছিল পুরুষের অর্থাৎ আমার।
আমার বন্ধুরা আমাদেরকে কিছু চকলেট,লজেন্স আর বাদাম দিয়ে গেল। আমরা খাচ্ছি। আমরা একটু দুরে দুরেই বসেছি। কিন্তু আসতে আসতে সে আমার খুব কাছে এসে গেল। চকলেট খাচ্ছে আর দুষ্টুমি করছে। হঠাৎ সে একটা লজেন্স মুখে নিয়ে বললো, তুমি এখান থেকে আধা নাও। আমি বললাম ঠিক আছে তুমি দাতঁ দিয়ে কেটে দাও। সে বললো না তুমি আমার মুখ থেকে দাতঁ দিয়ে কেটে নিবে। আমি অবাক হয়ে গেলাম। মেয়ে বলে কি? প্রথম দেখাতেই এতো ফ্রি! আগে কারো সাথে প্রেম টেম করেনিতো! হয়তো করেছে।নয়লে প্রথম দেখাতেই এমন করবে কেন। মেয়েদের তো সাহস কম আর লজ্জা থাকে বেশি। কিন্তু এর মধ্যে তো কোনটাই দেখছি না।
সে নাছোর বান্দা। মুখ থেকে লজেন্স না নিলে আমার সাথে কথা বলবেনা আর কিছু খাবেও না। শেষে ওর মুখ থেকে লজেন্সটা হাত দিয়ে নিয়ে এলাম, আধা করে ওর মুখে পুশে দিলাম।
বাসায় এসে ভাবতে লাগলাম। আজ কি হয়ে গেল। ও মেয়ে হয়ে যা করেছে আমি ছেলে হয়ে তা পারবো না। হয়তো পারবো পুরনো হলে, কিন্তু ও তো পুরনো না। আজই আমাদের প্রথম দেখা।
মুনি্নকে দেখেছি মাহফুজের সাথে কথা বলে ( নিরাপদ ) দূরত্ব বজায় রেখে। মুনি্ন আমার বন্ধু। আমার সাথে সে যেভাবে কথা বলে মাহফুজের সাথেও সে ভাবে কথা বলে। মুনি্ন আমাকে প্রথমে বলেনি সে কাউকে ভালবাসে। হঠাৎ একদিন মাহফুজের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল। আমি সেদিনই মাহফুজকে জিঙ্গাসা করেছিলাম,মুনি্নর সাথে আমার সম্পর্কটা তুমি কি জানো? সে বললো হ্যা জানি। মুনি্নর যেমন ছেলে বন্ধু তুমি, তেমনি আমারও তো মেয়ে বন্ধু আছে।
ওহ হো আসল বিষয় ছেরে অন্য বিষয়ে চলে এসেছি। কি আর বলবো ঘটনাতো ওখানেই শেষ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



