সন্তান লালন পালন করে বাবা মায়েরা বড় করেন। তাকে নিজের জীবন গড়তে শিখান। যথা সম্ভব মানুষের মত মানুষ বানাতে চেষ্টা করেন।
একদিন সে ছেলে বড় হয়, নিজের পায়ে দাড়ায়( কর্মজীবি হয়)। নিজের প্রয়োজনে বা ভালবাসার টানে জীবন সাথী খুজে নেয়। একটা কথা আমি বিশ্বাস করি যে , ভালবাসা করা হয়না হয়ে যায়। এই হয়ে যাওয়া ভালবাসার খাতিরেই কিছু সন্তান ছোট থেকে বড় করা বাবা মায়ের কথা ভুলে নিজের জীবন সাথীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।
আমার এক বন্ধু অনেক চরাই উত্তরাই পেরিয়ে অবশেষে সে তার প্রিয়তামাকে আপন করে পেল। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল এদের বাবা মা কেউ রাজি নয় এ বিয়েতে।
সেদিন আমাকে তানজিব বললো, বন্ধু আমি এখনো আমার বাবা মাকে মানাতে পারিনি, তার (বউয়ের) বাবা মাকেও মানাতে পারিনি।
আমি অবাক হয়ে গেলাম। এদের বাবা মায়ের আচরণ দেখে। প্রায় এক বছর হয়ে গেল আজও খোজ নিতে আসেনি তারা কেমন আছে।
এখানে যদি ভাবি যেসব সন্তান বাবা মাকে ভুলে একটা ছেলে বা মেয়েকে নিয়ে পালাতে পারে তাদের দেখা কি দরকার?
হ্যা দেখা দরকার আছে। প্রত্যেকের জীবন সঙ্গি চিনে নেওয়ার পূর্ন স্বাধীনতা আছে। এটা বাবা মাকে ভাবতে হবে যে বউ বা জামাই খারাপ হলে সেটা তাদেরই হবে। এরা নিজেরই নিজেদের ভালবেসে বিয়ে করেছে। তাহলে মানতে বাধা কোথায়।
তানজিব আমাকে বলেছে যে ওর উপর বাবা মা নারাজ এর কারণ হল, তানজিবের বড় বোন এর এখনো বিয়ে দেয়া হয়নি। আমাদের সমাজ এ রক্ষনশীল সমাজ এটাকে খারাপ চোখে দেখে যে বড় বোনের বিয়ের আগে ছোট ভাই বিয়ে করে ফেলেছে।
আমার দৃষ্টিতে এক বছর পরও যেসব বাবা মা তাদের সন্তানদের সিদ্ধান্তকে বরণ করে নিতে পারেনি তারা আসলে সন্তানের ভাল চায়না। নিজেদের জিদ (রাগ) কে বেশী প্রাধান্য দেয়। এর জন্য এদেরকে জবাব দিহিতা করতে হবে।
সন্তান ভুল করতেই পারে, কিন্তু বাবা মা তা ক্ষমা করে দেন। এমনটাই হয়ে আসছে। কেননা রাগের চেয়ে মমতার ক্ষমতা অনেক অনেক বেশী।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


