আমার এক মুক্তিযোদ্ধা চাচাত ভাই কিছুদিন আগে মারা গেছেন I উনি খুব বাকপটু ছিলেন I মারা যাবার আগ পর্যন্ত সবাই জানত উনার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো না, গ্রামের কিছু বিশয় নিয়া সত্যি সত্যি আমার কিছু সমসা ছিল উনার সাথে I কিন্তু উনার সাথে আমার যোগাযোগ ছিল সব সময় I বছর দুই আগে একদিন হঠাথ গুলশানে উনার সাথে দেখা I আর দেখা হতেই আমাকে জিজ্ঞাস করলেন কেমন আছি ইত্যাদি ইত্যাদি I তারপর আমরা একটা রেস্তোরাতে গেলাম এবং যথারীতি আমার বাকপটু ভাই রাজনীতি নিয়া কথা শুরু করলেন I আমি সবসময় উনাকে মনে করতাম উনি রাজনীতি কিছু বুঝে না শুধু কমিক টাইপ বক্তিতা দিয়া মানুষকে হাসায় I কিন্তু ঐদিন উনি আমাকে এমন কিছু কথা বললেন যা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে শতভাগ সত্যিতো বটেই উনার সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা পাল্টে যায় I
উনি বাংলাদেশের ৩৩০ জন পার্লামেন্ট মেম্বারকে বাক্তিগতভাবে না চিনলেও সবার রোজনামতা উনার মুখস্ত I সেইদিনই আমি উনার মুখ থেকে এই বিখ্যাত উক্তিটা শুনেছিলাম "বাংলাদেশে বিখ্যাত হতে হলে কুখ্যাত হতে হয় I কুখ্যাত না হলে বাংলাদেশে পার্লামেন্ট মেম্বার হওয়া যায় না" I
একজন পার্লামেন্ট মেম্বার মানে শুধু একজন আইন প্রনেতাই নয়, দেশের ভাগ্য এই ৩৩০ জন পার্লামেন্ট মেম্বারের হাতে I কিন্তু বিনা ভোটে নির্বাচিত বর্তমান পার্লামেন্ট মেম্বারদের শিশু নির্যাতন, ঘুম, খুন, টেন্ডারবাজি, হিন্দুদের জায়গা জমি দখল, খাল-বিল, হাট-বাজার দখল আর সর্বশেষ শিক্ষক নির্যাতন ও কান ধরে উঠবস করার গৃন্য চিত্র দেখলে মনে হয় আমরা একটা মঘের মুল্লুকে বসবাস করছি I জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতৃক উসমান পরিবারকে বিখ্যাত ছাড়পত্র দেবারপর বাংলাদেশের মানুষ যে অন্তত এই কুকীর্তির বিরুধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন তার জন্য ধন্যবাদ !! কিন্তু এইত মাত্র একটা খন্ড চিত্র I সারা বাংলাদেশে এমন কোনো থানা নাই যেখানে পার্লামেন্ট মেম্বারদের অনুমোধন ছাড়া মামলা করা যায় I মানুষ যে কতটা অসহায় ত়া গ্রামে-গঞ্জে গেলেই বুজতে পারবেন I সামরিক বাহিনীর সরকারের সময় রাজনীতিবিদের কত কত দুর্নীতি আর কুকীর্তির কথা প্রকাশ পেয়েছিল, এখন সব দোয়া তুলসীপাতা I
কিন্তু রাজনীতির নামে যারা বিখ্যাত হতে গিয়ে কুখ্যাত হয়েছেন ইতিহাস একদিন না একদিন তাদের বিচের করবেই !!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৬ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



