ঘটনাঃ১। বছরখানেক আগের কথা। ছোট ছেলে নামাজ শেষ করছে। এক্সপ্রেস গতিতে নামাজ, সুপারসনিক গতিতে মোনাজাত।
আচ্ছা, বাচ্চা মানুষ- নামাজ দ্রুত পড়ছে - আমলে নাই নিলাম। কিন্তু মোনাজাত এতো দ্রুত শেষ হবে কেন? চাওয়াপাওয়া তো কম হওয়া যাবে না!
ধরলাম "কিরে, এতো দ্রুত মোনাজাতে কি বললি?
- বললাম " অ্যাই আল্লাহ, কালকে যা বলছিলাম সেইরকমই সব করে দিও!"
-মানে? সাড়ে সাত বিলিয়ন মানুষ দুনিয়ায়! ১.৭ বিলিয়ন মুসলমান- তোর একার কালকের মোনাজাত আল্লাহ পাক মনে করে বসে আছে? কোন রিস্ক নিবিনা। প্রত্যেকদিন ডিটেইল চাওয়ার লিস্ট দিবি আর তমিজের সাথে চাইবি! " অ্যাই আল্লাহ" ক্যামন ডাক? আল্লাহ পাক কি তোর ক্লাস মেট?
পরদিন একটু সময় বাড়লো।
- আজকে কি বলছিস?
- হুম্ম, সব চাইছি ঠিক মতো--এই এই এই--
- আচ্ছা, তো আগে পিছে তেল টেল মারিস নাই?
- কিসের তেল?
-আরে, হুজুর কি বলছে? প্রথমে ইয়া আল্লাহ, ইয়া পাক পারোয়ার দিগার, ইয়া রাহমানুর রাহীম, রাব্বুল আলামীন -- এইসব বলতে হবে না? এরপর মাফ চাবি প্রথম, থাংক্যূ দিবি যা আছে তোর তার জন্য। তার পর চাওয়া----
ছেলে চিরতার রস খাওয়া কঠিন তিতা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো।
ঘটনাঃ২। আমাদের সমগ্র কিউশু রিজিয়নের একমাত্র মসজিদ ( এখন তিনমাত্র, কারণ, আরো গেল বছর থেকে এখন পর্যন্ত আরো দূটো হয়ে গেছে) - ফুকুওকা মসজিদের ইমাম সাহেব আমাদের নন আরবদের আগ্রহে ছুটির দিন ছোটদের পাশাপাশি বড়দের জন্য আরবী শিক্ষার ক্লাসের আয়োজন করলেন। তবে আরবী পড়তে লিখতে জানা লাগবে। কথোপকোথন ও অর্থ শেখানো হবে যাতে আমরা আল কোরান বুঝে পড়তে পারি। ভাষান্তর বা তাফসীর পড়ে বিভ্রান্তির সুযোগ না থাকে।
প্রথম ক্লাসে Basic Introductory কথাবার্তার পর্বে এলো বাসার অতিথি এলে কিভাবে তাকে স্বাগত জানিয়ে ভেতরে বসাবেন।
ইমাম নূরুদ্দীন ( কোন মাওলানা নন। ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে PhD সম্পন্ন করেছেন) বোর্ডে লিখে যাচ্চেন সাপের লেজের মত দীর্ঘতর বাক্যালাপ।
আমাদের চোখ "The Mask" ম্যুভির চরিত্রের মত ঠিকড়ে বেড়িয়েই আসছে! একি তামশা- মেহমান ভেতরে ঢোকার আগেই এতো লম্বা বাক্যালাপ!
অবশেষে উনি উচ্চারন করে অর্থসহ বুঝিয়ে দিলেন।
যা দাড়ালো তা হলো- দরজার বেল টিপলে দরজা খুলে "আসসালামু আলাইকুম, ওয়ালাইকুম আসসালাম Wr WB, আহলান ওয়া সাহলান, মারহাবা--- ইত্যাদি ইত্যাদি" বলতে বলতে ১০ মিনিট মেহমানকে পুরা ডুবো তেলে ভেজে চপচপা করে আপনাকে ভেতরে ঢুকাতে হবে। আর কথায় কথায় কসম তো আছেই ।
- আল্লাহর ওয়াস্তে মিষ্টিটা খান।
- আল্লাহর কসম মিষ্টিটা খাবই।
উল্লেখ্য সুরা আততীনের বঙ্গানুবাদ যারা পড়েছেন তারা জানেন সেখানে তীন, জইতুন ফল, তূরে সিনিন ( সিনাই পর্বত, মিশর,মুসা আঃ এর সাথে আল্লাহ পাকের মিলনস্থল) এবং পবিত্র মক্কা নগরীর (বালাদুল আমিন) নামে শপথ উচ্চারন করে এরপর বক্তব্য পেশ করা হয়েছে।
যাক, সেই একদিনের ক্লাসেই আমি বুঝে গেলাম, পাক কোরান আরবী ভাষায় নাজিল হয়েছিল, তাই তাদের সাংস্কৃতির ধারাতেই আমাদের সুরা , মোনাজাত সহ সব আচারেই প্রশংসা বানী আর শপথের এতো ব্যাপক অলঙ্করণ।
বাংলায় হলে, আমার তীব্র আশঙ্কা, আমার ছোট ছেলের মোনাজাতই সহি হয়ে যেত। (আমার ছেলেটার দুর্ভাগ্যিস

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

