সকাল ১০ টার দিকে তার ফোন এল। সাধারণত সকালের দিকে ও কখোনও ফোন দেয় না। হয়তো বিশেষ কিছু বলবে তাই সকাল বেলাতেই ফোন দেয়া। তবে সে মুহুর্তে ওর বিশেষ কিছু আমার কাছে আর বিশেষ থাকলো না। আমি মাঝে মাঝে ওর সাথে অদ্ভুত আচরন করে থাকি। আজ সিদ্ধান্ত নিলাম সেরকমই এক অদ্ভুত মানুষ হয়ে যাব আমি। গলার স্বর রাগান্বিত করে কথা বলা শুরু করলাম.
-হ্যালো।
-কেমন আছো?
- কেমন আছি সেটা কী প্রত্যেকবারই বলতে হবে?
- ও, ............ বুঝতে পারছি।
- বুঝতে পারছি মানে?? কী বুঝতে পারছো?
- আজ আবার তোমার মুড খারাপ।
- মুড খারাপ মানে কী? আমার মুড সবসময় এমনই থাকে।
- ঠিক আছে রাখি।
- রাখি মানে? রাখি মানে কী? কীজন্যে ফোন দিয়েছো?
- কোন কারণ ছাড়া কী আমি তোমাকে ফোন দিতে পারি না?
- কোন কারণ ছাড়াই তো তুমি আমাকে সবসময় ফোন দাও। কিন্তু অকারণে ফালতু কথা বলতে আমার ভালো লাগে না।
- কী বললে? ফালতু কথা !! আমার কথা তোমার ফালতু মনে হয়?
- তোমার কথা মানে যে ফালতু মনে হয় আমি তা বলি নাই। তবে কারণ ছাড়া সবকিছুই আমার ফালতু মানে হয়। কী হয়েছে সেটা বলো।
- কিছু হয়নি। তুমি মাঝে মাঝে কেন যে এমন করো, কিছু বুঝি না।
- কিছু বুঝি না মানে? এত বছর ধরেই তো চেনো, আমাকে কী একটুও বুঝতে পার নাই।
- সত্যি বলতে কি, তুমি আমার কাছে অনেকটা পাটিগণিতের মতো। আমি সে অংকের পুরুটা ভালভাবেই বুঝতে পারি কিন্তু সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে এর সমাধান মেলাতে পারি না।
- তুমি সমাধান না মেলাতে পারলে কে পারবে তাহলে। হ্যা?
- তা আমি জানি না। তবে মনে হয়, যে তোমার বউ হবে সে ই হয়তো তোমাকে সমাধান করতে পারবে, তোমাকে পুরুপুরি বুঝতে পারবে।
- মানে? মানে কী? কে আমার বউ হবে?
- কে তোমার বউ হবে সেটা তো আর আমি জানি না। অন্তত তুমি যে আমাকে তোমার বউ বানাবে না তা আমি জানি। পাঁচ বছর আগে যেটা হয়নি এখন আর তা হবার প্রশ্নই আসে না। আমি তোমার কাছে আর কিছু না, একটু শান্তি চাই।
আমাদের কথা শেষ হয় অত্যন্ত বিষন্নতায়। আমি পরে বুঝতে পারি এভাবে অযথা খামখেয়ালি খারাপ ব্যাবহার করা আমার ঠিক হয়নি। গত পাঁচ বছরের মাঝে এক বছর বাদ দিয়ে মোট চার বছরের সম্পর্ক আমাদের। এটাকে সম্পর্ক না কি বলা উচিত তা জানি না। তবে এটাও অনেকটা পাটিগণিতের মতো, সহজে বুঝা যায় কিন্তু এর সমাধান অনেক জটিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


