মাস্টার্সে প্রমোশন হলো গত বছর। এরই মধ্যে এক সেমিস্টার শেষ করে ফেলেছি, বাকী আছে আর একটা। দীর্ঘদিন আশেপাশের পরিবেশের সাথে থেকে নিয়ম মাফিক যে বড় হওয়া তাতে আমরা যে অনেক বড় হয়ে গেছি তা ক্যম্পাসে গেলেই টের পাই। স্পাইকি চুল, স্টাইলিশ দাড়ি, রং চটা টি-শার্ট, জিন্স, হাতের ব্রেসলেট আর কেডস-এ এখন আর চলে না। বেমানান লাগে। তার চেয়ে বরং ক্রমহ্রাসমান চুলে অতি ভদ্রতার ছাট, অতি পুরান রং জ্বলা কালো বা সাদা শার্টের হাতা বল্টানো ভাব, না ধুয়া প্যান্ট আর পায়ের প্রথম বুড়ো আঙ্গুল আর বাকী চার আঙ্গুলের মাঝ দিয়ে বেরুনো ফিতার সাদামাটা ক্ষয়িঞ্চু স্যান্ডেলেই মানানসই লাগে এই পরিচিত ময়দানে।
রেগুলার মাস্টার্স-এ ক্লাস হচ্ছে ইরেগুলারলি। টিচাররা নিয়মিত ক্লাসে আসেন না।প্রতিদিনই প্রায় রুটিন চেঞ্জ হয়। টিচাররা বলে দিয়েছেন- এটাই নাকি নিয়ম, যেহেতু আমরা মাস্টার্সে পড়ি। এরকম দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আজ আমাদের সেকেন্ড সেমিস্টারের প্রথম ক্লাস হলো।এম এ থেকে ক্লাসের প্রত্যেক ছেলেমেয়েদের চোখমুখে অন্যরকম কিছু দেখা যায়। একদিকে জীবনের সবচেয়ে মধুরতম দিনগুলোর একেবারে শেষ পর্যায়ে, অন্যদিকে চাকরি-বাকরি বা ভবিষ্যত ভাবনার প্রচন্ড চাপ। এক চোখে আশার আলো অন্য চোখে হতাশার অন্ধকার। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র আমরা। গাদা গাদা সাহিত্য পড়ে কী শিখেছি কে জানে। সাহিত্য পড়লে নাকি জীবনবোধ সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়। তা হয়ত হয় কিন্তু তাতে ভবিষ্যতের পথ কতটা সুগম হয় তা নিয়ে চিন্তিত না হয়ে পারি না।
হেডস্যার ক্লাসে এলেন। নিয়ম কিংবা স্যারের অভ্যেসহেতু রোল কল করা শুরু করলেন। বেশিরভাগই অনুপস্থিত। পার্টটাইম চাকরি বা চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে যারা বেশি ব্যাস্ত তারা ক্লাসে আসেনি।স্যার তার রেজিস্টার বইটা বন্ধ করে আমাদের দিকে তাকালেন।ভেবেছিলাম প্রতিদিনের মতো সেই একই ধারায় ক্লাসটা শেষ করবেন। সেই একইতো ব্যাপার, গত পাঁচ বছর ধরেইতো দেখছি। কিন্তু স্যার তার সামনে বসা একদল তরুন তরুনীর চোখের কোণে কিঞ্চিত উন্মাদনার পাশে যে গভীর হতাশা আছে তা বুঝতে পারলেন। প্রসংগ ধরে ধরে কিছু কথা বললেন যেগুলো আমি বা আমার মত যারা আছে (জীবনবোধ সম্পর্কে যাদের ধারণা অস্পষ্ট, ইংরেজি সাহিত্য যাদের এখনও কাজে আসেনি, ভবিষ্যত ভেবে ব্যকুল কিংবা দেয়ালে যাদের পিঠ ঠেকে গেছে), তাদের মনে আশার সঞ্চার করতে পারলো বটে কিন্তু চিন্তা দূর করতে পারল কিনা কে জানে .।.।
স্যার বললেন---
'' পবিত্র কোরআনে এরকম কিছু বলা আছে যেখানে সৃস্টিকর্তা বলেছেন- মানুষ তোমরা যা করতে ভালোবাস, পছন্দ কর, তোমাদের মংগল হেতু আমি তা থেকে তোমাদের দূরে রাখি, এতে তোমরা কষ্ট পাও, অভিমান কর।আবার তোমাদের মঙ্গল বয়ে আনে এমন কিছু যা তোমরা পছন্দ কর না, ভালোবাসনা, তা তোমাদের উপর চাপিয়ে দেই, তোমরা কষ্ট পাও, অভিমান কর"
তার মানে এই- সৃস্টকর্তা যা করেন ভালোর জন্যেই করেন। So, unconditionally surrender to the creator.
কবি বলেছেন, 'কারে আমি আপন করি, পর করি কারে- কীসে কাহার ভালোমন্দ কে বলিতে পারে'
কীসে যে আমাদের ভালো হবে বা কীসে আমাদের খারাপ হবে তা কিন্তু আমরা আগে থেকে বলে দিতে পারি না। প্রত্যেকটা কাজে আমরা অনুমান নির্ভর যা অনেকসময় ভুল হতে পারে কিংবা সঠিকও হতে পারে। সঠিক হলে সফলতা আসে আর ভুল হলে ব্যর্থতা।
By birth man is fool. মানুষ মাত্রই বোকা। বর্তমানে কোন কাজ করার সময় আমরা টের পাইনা যে কোন দিকে আমাদের কাজ প্রভাহিত হচ্ছে কিন্তু সময় চলে গেলে টের পাই যে অতীতে আমি কী ভুল করেছি বা তখন কি করা উচিৎ ছিলো।
তাই বাবারা, তোমাদের বলি- ধৈর্য ধরো, বাজারে একদিন 'HOT CAKE' এর মতো বিক্রী হবে।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


