somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিতৃদেবের মর্যাদা

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন মডেলের বাইকের আবদার না মেটানোয় বাবাকে আগুন দিয়ে হত্যা করলো সন্তান।
বাঙালি জাতি নিউজটাকে দারুণ হাইলাইটস করে ছেড়েছে।
'ইয়া আল্লাহ, ক্যামনে পারলো এইটা?"

আসলে এটা কোন রামায়ণের আদিকান্ডের ঘটনা নয়,হাইলাইটস করার কি আছে।
আমাদের সমাজে বাবারা এভাবে মরার আগে হাজার হাজার বার মরে সন্তানের হাতে।
বাবারা শুধু শ্বাস নিয়েই পৃথিবীতে বেঁচে থাকে,
কিন্তু বারবার মরে সন্তানের হাতে।
বাবার জয়ধ্বনি তুলে আজ কাপুরুষ ও বীরপুরুষ হিসেবে ভার্চুয়াল মাঠে স্ট্রাইকার হয়ে ডজনখানেক গোল করছে।
একটা নিউজ দেখে 'গাছের ডালে কাক,সালা আমিতো অবাক' হওয়ার কোন কারণ নেই।
ডানে বাঁয়ে সামনে পিছনে চোখ ঘুরান,
দেখবেন হাজার হাজার বাবারা মরছে তাদের পোষ্যদের হাতে।
হাতে মরছে,ভাতে মরছে,শীতে মরছে,ভীতিতে মরছে।
তবে শ্বাস ত্যাগ করে মরাটা আদৌ মৃত্যু নয়, বরং মুক্তি।
বাবারা মরে,
যখন বিশাল দালানের মাঝে সিড়ির তলার মত পায়রার খোপে ঠাঁই মেলে,
নতুবা তা ছেড়ে দিয়ে নির্জন কোন কুঁড়েঘরে ঠাঁই পেলে,
কিংবা সব ছেড়ে দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে এলে।
বাবারা মরে তখন যখন ছেলে সন্তানের সব আবদারের মুখে মাত্র দু চারটে আবদার পূরণ করে,
রিক্ত হাত দিয়ে মরা গাছের পাতায় হাত বোলায়,
কিংবা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভাবে ঈদের চাঁদের মত ছেলে কিংবা মেয়েটি যদি একবার দেখা দিতো।
বাবারা মরে তখন যখন মেয়েকে পরের হাতে নিজের অস্তিত্বসহ সব তুলে দিয়ে,
বাড়ি এসে ভাবে কচুর শাক সিদ্ধ করে লবণ সমেত একটু ভর্তা কিভাবে বানানো যায়, পেট তো মানছে না।
বাবারা মরে তখন যখন মদের নেশায় কিংবা দুনিয়াবি কিছু পাওয়ার আশায় ছেলে মেয়েরা বাড়ি এসে বলে,
কি করেছো আমাদের জন্য সারাজীবন,
বিষ খাওয়ার পয়সাটুকুও তো রাখো নাই,
যে বিষ কিনে তোমাকে সাথে নিয়ে খাবো।
বাবারা মরে তখন যখন একটা ইনসুলিন না কিনে,
টাকাটা ছেলের জন্য পাঠায়,
আর ছেলে সেই টাকায় সিগারেটের ধোঁয়া আকাশে ছেড়ে বলে, 'গেল কতদূর? '
বাবারা যেদিন বাবা হয়, সেদিন থেকেই তারা মরতে শুরু করে।
তবে এ মরাতে দেহ পঁচে নোংরা জল বের হয়না,
মন ফেটে নোনা জল চিবুক বেয়ে পড়ে।
বাবা তোমায় ভালবাসি, বলা সহজ,
কিন্তু কার্যকর করা ৯৯ ভাগ কঠিন এ যুগে।
কেউ একজনের বাবা মরেছে তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত বাণী প্রসব করে বায়েজিদ বোস্তামী হওয়ার প্রয়োজন নাই।
নিজের বাবা যদি বেঁচে থাকে,
তার বুকে মাথা রেখে, তার চরণে হাত রেখে ভালোবাসা আদায় করাটা একান্ত প্রয়োজন।
আর যদি প্রয়াত হয় তবে হাত তুলে প্রার্থনা করাটা, কিংবা হাজারো অসহায় বাবার পাশে বটগাছের ছায়ার মত প্রশান্তিদায়ক হওয়াটা প্রয়োজন।
বাবা আর ভালোবাসা দুটোকে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ করাটাই আজকে প্রয়োজন।
আপনি আপনার বাবার পাশে দাঁড়ান,
একে একে আপনাকে অনুসরণ করবে গোটা পৃথিবী।
তবে আর পত্রিকা খুলে পড়তে হবে না,
ছেলের হাতে বাবা নিপীড়িত কিংবা খুন।
বলতে হবে না, 'আল্লাহ এটা কি সন্তান নাকি শূয়র?
বাবা বেঁচে থাকো আমার চুলের সংখ্যার মত হাজার বছর,
বিশুদ্ধ ভালোবাসা দাও ছড়ায়ে আমায়।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৪০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×