somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আমাকেই খুঁজছি।

২৮ শে জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৩:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা লোকটি নাকি বলেছিলেন নিজেকে চেনাই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ!! আর এই কঠিন কাজটি করতে যাচ্ছি আমি। আমার শুভাকাঙ্খী সমালোচক বন্ধুরাই এ ব্যাপারে আমার প্রধান শক্তি। ইস ভাবি তাদের দলটা যদি আর একটু বর হত।

যাহোক, এমনি আমার এক সমালোচক বন্ধু আমার সম্পর্কে মন্তব্য করল আমি বড্ড রণশীল বেকডেটেড। কারণ আমি নারী-পুরুষ এক নয় এমনকি তাদের অধিকার ও কর্তব্যও এক নয় বলে বিশা্বষ করি, আমি আরও বলেছি আমি কউকেই লেস ইম্পর্ট্যান্ট মনে করি না। একটা ল্যাংড়া হলে অন্যটা ফজলি অথবা বাবা প্রসেসর হলে, মা মাদারবোর্ড। অর্থাৎ আম দুটোই টেষ্টি কিন্তু দুটোর টেষ্ট দুই রকমের ঠিক তেমনি কমপিউটার সিষ্টেম যেকোন একটি ছাড়া অচল। আমরা চোখের সামনে দেখছি নারী-পুরুষের কত ব্যাবধান কি শারিরিক কি মানসিক। একথা আমার প্রগতিশীল বন্ধু কি কওে অস্বীকার কওে তা আমার বোধগোম্য নয়। কিন্তু তার কাছে আমি এক খাঁটি কট্টর রণশীল এ ব্যাপারে তার কোন সন্দেহ নাই।

আমার আর এক বন্ধু আমাকে বলেছিল- তোর সাথে চললে আমার ঈমান-আমল থাকার সম্ভাবনা নাই। তুই ঐ প্রগতিশীলদের দলে। ব্যাপারটা হয়েছিল রোজার মাসে আমরা আমাদের প্রিয় নবীকে নিয়ে আলোচনা করছি। এক পর্যায়ে আমার ধার্মিক বন্ধুটি খেজু দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নাত বলে মন্তব্য করে। আমি তো একদম বেঁকে বসি কেন খেজুর দিয়েই শুরু করতে হবে কেন? রাসুল খেজুর খেয়ে ছিলেন কেননা খেজুর আরবের সব জায়গায় পাওয়া যেত, খেজুরই ছিল তাদের প্রিন্সিপাল ফুড। আমাদের দেশে খেজুর উৎপাদন হয় না। তাহলে আমরা কেন পয়সা খরচ করে আরব থেকে খেজুর এনে খাব একে ত আমরা গরিব আর এ দরনের ব্যাপারগুলো আমাদেও আরও গরিব বানাচ্ছে। আমি সোজা বলেছি রাসূল খেজুর খাননি। তিনি তার প্রিন্সিপাল ফুড খেয়েছেন। সুতরাং, আমরা আমাদের প্রিন্সিপাল ফুড চালের তৈরী আইটেমগুলো দিয়ে ইফতার শুরু করলে তা সুন্নাত হতে বাধ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমার বন্ধুটি আমার কথা শুনে এমন ভাব করল,যেন সে পৃথিবীর 3য় পারমানবিক বোমা বিষ্ফোরনের শব্দ শুনতে পেয়েছে। বন্ধুটি তখন হয়ত আমাকে কাফির বা ধর্মের শত্রু জাতীয় কিছু একটা ভাবছিল।

আবার আমার প্রগতিশীল বন্ধুদের কাছে আমি ধর্মান্ধ, কেননা আমি ধর্ম-নিরপেতায় বিশ্বাষ করি না। আমি বলি আমার কাছে আমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ তাই আমি মুসলমান হোকনা তোমার কাছে তোমার ধর্মই শ্রেষ্ঠ। যার যার ধর্ম তার তার কাছে যার যার ভাষা তার তার দেশ এ আমার সোজা কথা। যদি সকল ধর্মই সমান বলে আমি মেনে নিই তাহলে তো আমাকে মসজিদে নামাজ পড়ার পাশাপাশি মন্দিওে পূজা ও গির্যায় প্রার্থনা করা উচিৎ, একজন মুসলমান হিসেবে তা আমি কিছুতেই পারি না।

গান্দীজীর একটা কথা ছিল অনেকটা এরকম্ততুমি খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে খৃষ্টানের কাছ থেকেই জান আর যদি হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাও তাহলে একজন হিন্দুর কাছ থেকেই জানা উচিৎ। আমি এই কথাটা শতভাগ মানি। শিবিরের কর্মকান্ড আমি যদি ছাত্রলীগের কাছথেকে জানতে চাই তাহলে কি শুনতে পাব? ভাবুন একবার। এর উল্টোটাতেও একই কথা।

যাহোক, শিবির এবং এদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহের সুযোগ নিয়ে এক শিবির কমর্ী আমার পেছনে ঘুর ঘুর করত আমাকে তাদের দলের মেম্বার বানানোর আশায়। ছাত্র শিবিরকে আমি ছত্র লীগ বা দলের চেয়ে একটু ভিন্ন মনে করি তাদের ভেতরের সুশৃঙ্খল কাঠামো, কমর্ীকে দ হিসেবে গড়ে তোলা এবং চেইন অফ কমান্ডের জন্য। সেই কমর্ীও যথেষ্ট ভদ্র এবং তার বক্তব্য ছিল যুক্তি পূর্ণ। মজার ব্যাপার হল আমি যখন স্রষ্টা, সৃষ্টি এবং ধর্ম নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত অথচ যৌক্তিক ধারনাগুলো তার কাছে উপস্থাপন করলাম তখন তার অবস্থা অনেকটা ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি ধরনের।

এবার ফলাফল ঘোষনার পালা্ত
1. আমি ব্যাকডেটেড রক্ষনশীল,
2. আমি কাফির বা ধর্মের শত্রু,
3. আমি ধর্মান্ধ রাজাকার,
4. আমি প্রগতিশীল মুক্তচিন্তর দলের

এবার প্লস মাইনাস কাটা কাটি করুন । আউট পুট শূণ্য।

আমি জানি এসব বন্ধুদের মত আমার সাথে আপনাদেরও অনেক দ্বিমত থাকবে। ব্ল্লগ বন্ধুরা আমার এসব বন্ধুরা আমার সমালোচনা করে আমাকে খোজার ইসু তৈরী কওে দিয়েছে। আপনারাও আমার বেশি বেশি সমালোচনা করুন, মন্তব্য দিন। কেননা-----------------

আমি আমাকেই খুঁজছি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×