somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রামের খেলা গাদন

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বড় বোনের ছেলেমেয়েরা সেদিন অনেক বসর পর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো , ওরা থাকে বিদেশে । তাই ওরা এসে বললো যে মামা শুনেছি গ্রামে নাকি আগে অনেক খেলা হতো , সেই খেলাগুলির একটু ইতিহাস শুনান না , আমি বোললাম শুনাব তোমাদের আজ গাদন খেলার কাহানি , যে খেলাটি ছিল খুব জনপ্রিয় সেই সাথে লাঠি খেলারও খুব জনপ্রিয়তা ছিল । খেলা শুরুর আগে গ্রামে গ্রামে ঢোল পিটানো হতো ঢোল দিয়ে আবার মুড়ির টিন দিয়েও পিটানো হতো খেলার দিন ক্ষণ জানিয়ে । খেলার দিন অনেক লোকজনের সমাবেশ হতো । সেইদিন আবার ফেরিওয়ালারা দোকান নিয়ে আসতো তাদের সেই দোকানে পাওয়া যেতো মদনকটকটি ও ঘোড়ার লাড্ডু নামক খাবার যা দর্শকরা চিবাতো আর খেলা দেখতো । খেলার ঘরগুলি ছিল ব্যাডমিন্টন কোটের মত তবে ঘরের অনেকগুলি দাগ যার নাম তীর ঐ তীরে একজন করে রক্ষী থাকতো যাদের কাজ হোল কেউ যেন পার না হতে পারে ওপারে । তাই ঝুল দিতো খেলোয়াড়রা ঝুলে তীর রক্ষীরা পড়ে যেত তখনি পার হয়ে পড়তো অপরপক্ষর প্লেয়োররা আবার রক্ষীর কাধের উপর দিয়ে লাফিয়েও পার হতো । এমনি করে ৫ টি তীর পার হতো এবং ফিরে আসতে হবে বিনা বাধায় । ঠিক ব্যাডমিন্টনের খেলায় যেমন এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে যেমন বল মারে । তীরগুলি ঠিক স্কুলের বেঞ্চের মতো লম্বা । রক্ষীরা ঐ তীরের মধ্যে অনর্গল পাহারায় থাকতো যেন কেউ পার না হতে পারে । যখন কোন প্লেয়ার পার হতে ধরা পড়তো সে তখন রক্ষীর হাতে প্রচণ্ড আকারে হয় পিঠে নতুবা কানে মার খেত । ঐ সময় পচা গাদন হয়ে যেত এবং খেলা পক্ষ আপাতত পরাজিত হতো তখন অন্য দল আবার খেলতে নামতো । তখন দর্শকরা তোপধ্বনির মতো ধ্বনি দিয়ে উঠতো আর মাঠ মেতে উঠতো কম্পনের মতো । খেলাটিতে এক দল আর এক দলকে ঠেকাবে যাতে পার না হতে পারে , এটাই মুল লক্ষ । এই খেলায় অনেক সময় খেলওাড়দের পায়ের মধ্যে মাটির মধ্যে থাকা খোওয়া বা খোলা ঢুকে যেত আবার মাজা কিংবা হাতও ভেংগে যেতো ।এই খেলায় আবার ড্র হতো যদি কেউই গাদন দিতে না পারতো , তার মানে যে দল ৫ টি তীর বিনা বাধায় পার হয়ে আসবে তখনি হয় এক গাদন । নতুবা অন্যদিন খেলা হতো আবার । ফুটবল খেলায় যেমন এক গোল দুই গোল বলে ঠিক তেমনি এই খেলাতেও বলতো এক গাদন দুই গাদন । লাঠি খেলার দিনও দর্শকের ভীড় হতো অনেক মানুষের । ঐ খেলায় দু দল লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হতো যুদ্ধ করার মতো যেমনটি রাজা / বাদশার আমলে যুদ্ধ হতো ঠিক তেমনি , এই খেলাতে আবার কারো লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে যেতো তাও কনো বিরোধ হতো না আবার খেলা চলতো । আর একটি গল্প শোনান মামা তা হলো গ্রামের বাড়ী / গ্রামের মানুষ সম্পর্কে । আজ আর নয় , অন্যবার আসলে শোনাবো ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৩৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×